মোসাদের ‘এজেন্ট’ আহমেদিনেজাদ?
- সর্বশেষ আপডেট ১০:২১:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
- / 18
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদকে দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করে দেশটির ক্ষমতার পালাবদল ঘটানোর পরিকল্পনা করেছিল ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ—এমন দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একাধিকবার গোপনে আহমেদিনেজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে ধাপে ধাপে আহমেদিনেজাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ায় ইসরায়েলি গোয়েন্দারা। গুয়াতেমালা ও হাঙ্গেরি সফরের আড়ালে তার সঙ্গে একাধিক গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু সম্মেলনকে ব্যবহার করা হয় গোপন বৈঠকের আড়াল হিসেবে। সেখানে আহমেদিনেজাদের সঙ্গে ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, মোসাদের লক্ষ্য ছিল আহমেদিনেজাদকে একটি নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সম্পদে পরিণত করা এবং পরিস্থিতি অনুকূলে এলে তাকে ইরানের নেতৃত্বে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা। এজন্য তার বিদেশ সফর, আবাসন ও অন্যান্য ব্যয়ের কিছু অংশও গোপনে বহন করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সময় তেহরানে আহমেদিনেজাদকে সরিয়ে নেওয়ার একটি গোপন অভিযানও চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। হামলার পর একটি কালো গাড়িতে করে তাকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছিল এবং সেই অভিযানে মোসাদের সদস্যরা জড়িত ছিলেন বলে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়।
তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পরে রহস্যজনকভাবে নিরাপদ আশ্রয় ত্যাগ করেন আহমেদিনেজাদ এবং দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে দেখা যায়নি তাকে। সম্প্রতি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য তার উপস্থিতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার পর আহমেদিনেজাদের রাজনৈতিক অবস্থানে বড় পরিবর্তন দেখা যায়। একসময় ইসরায়েলবিরোধী কট্টর অবস্থানের জন্য পরিচিত এই নেতা পরে তুলনামূলক উদার অবস্থান নেন, শাসকগোষ্ঠীর সমালোচনা শুরু করেন এবং নিজেকে সংস্কারপন্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ২০১৭ সাল থেকেই তার কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ায়। চলতি বছরের সংঘাতের পর তদন্তে ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগের বিভিন্ন সূত্র পাওয়ার দাবি করে সংস্থাটি। ওই অভিযোগের পর তাকে গৃহবন্দি রাখা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ইসরায়েল সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। প্রতিবেদনে উত্থাপিত দাবিগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি।


































