ঢাকা ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন হামলার জবাবে উপসাগরীয় ৬ দেশে ইরানের হামলা

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫০:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • / 19

হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। বিভিন্ন দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করলেও কাতারে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট আরও গভীর হয়েছে।

রোববার ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে তৃতীয় দফা বিমান হামলা চালায়।

কাতারের সেনাবাহিনী জানায়, দেশটির আকাশে প্রবেশ করা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক শিশুসহ তিনজন আহত হন। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

বাহরাইনে দিনের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা জারি করা হয়। কুয়েতও জানায়, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলা করা হয়েছে এবং হুমকিগুলো দেশের সীমান্তের বাইরে শনাক্ত হয়।

ওমানের উত্তরাঞ্চলীয় মুসানদাম অঞ্চলেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। দেশটি এ হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। জর্ডানে তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি কনটেইনার জাহাজে হামলার জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ওই হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একজন নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন।

অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, কয়েকটি জাহাজ নির্ধারিত নৌপথ অমান্য করায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তেহরান ঘোষণা দিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলা চালালে অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।

সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসর ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মার্কিন হামলার জবাবে উপসাগরীয় ৬ দেশে ইরানের হামলা

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫০:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। বিভিন্ন দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করলেও কাতারে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট আরও গভীর হয়েছে।

রোববার ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে তৃতীয় দফা বিমান হামলা চালায়।

কাতারের সেনাবাহিনী জানায়, দেশটির আকাশে প্রবেশ করা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক শিশুসহ তিনজন আহত হন। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

বাহরাইনে দিনের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা জারি করা হয়। কুয়েতও জানায়, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলা করা হয়েছে এবং হুমকিগুলো দেশের সীমান্তের বাইরে শনাক্ত হয়।

ওমানের উত্তরাঞ্চলীয় মুসানদাম অঞ্চলেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। দেশটি এ হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। জর্ডানে তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি কনটেইনার জাহাজে হামলার জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ওই হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একজন নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন।

অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, কয়েকটি জাহাজ নির্ধারিত নৌপথ অমান্য করায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তেহরান ঘোষণা দিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলা চালালে অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।

সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসর ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন।