ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খামেনির দাফনের দিনই মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:১০:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • / 10

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনের দিনই উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।

একই সময়ে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যা তিন সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

দক্ষিণ উপকূলীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহর, কোনারাক, চোগাদাক ও বন্দর আব্বাসে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। বুশেহরে দেশটির একমাত্র কার্যকর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে।

তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক কয়েক ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো হামলা চালায়নি।

একই দিন মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.) মাজার প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে। কয়েক দিনের শোকযাত্রা শেষে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে দাফন সম্পন্ন হয়। ইরানের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তিনি নিহত হন।

সপ্তাহের শুরুতে কাতার ও সৌদি আরবগামী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ে। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতিকে ‘শেষ’ বলে ঘোষণা দেন। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা এবং কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা এখনও চলছে।

মাশহাদে খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে বিপুল মানুষের সমাগম হয়। অনেকের হাতে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ব্যানার ও স্লোগান দেখা যায়।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ শাখা (আইআরজিসি নেভি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা নৌপথ স্বাভাবিক করতে বাধা সৃষ্টি করছে। তাদের দাবি, গত দুই সপ্তাহে ইরানের তত্ত্বাবধানে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের প্রায় ৫০ শতাংশে ফিরে এসেছে এবং তেহরান নির্ধারিত রুট ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকেই চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র আরও হস্তক্ষেপ করলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে বুধবার ইরানের প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার ছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ৮ ও ৯ জুলাই পাঁচটি প্রদেশে মার্কিন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। ফার্স নিউজ এজেন্সির দাবি, একটি হামলায় রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে বাণিজ্যে ব্যবহৃত একটি রেলসেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানা এলাকাতেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কুয়েতে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কাতারের একটি আগাম সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর জ্বালানি ডিপো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১০টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। জর্ডানও জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।

এদিকে কাতার বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে আবারও কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। তুরস্ক, ওমান ও পাকিস্তানও উত্তেজনা না বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

খামেনির দাফনের দিনই মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

সর্বশেষ আপডেট ০৩:১০:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনের দিনই উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।

একই সময়ে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যা তিন সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

দক্ষিণ উপকূলীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহর, কোনারাক, চোগাদাক ও বন্দর আব্বাসে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। বুশেহরে দেশটির একমাত্র কার্যকর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে।

তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক কয়েক ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো হামলা চালায়নি।

একই দিন মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.) মাজার প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে। কয়েক দিনের শোকযাত্রা শেষে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে দাফন সম্পন্ন হয়। ইরানের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তিনি নিহত হন।

সপ্তাহের শুরুতে কাতার ও সৌদি আরবগামী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ে। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতিকে ‘শেষ’ বলে ঘোষণা দেন। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা এবং কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা এখনও চলছে।

মাশহাদে খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে বিপুল মানুষের সমাগম হয়। অনেকের হাতে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ব্যানার ও স্লোগান দেখা যায়।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ শাখা (আইআরজিসি নেভি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা নৌপথ স্বাভাবিক করতে বাধা সৃষ্টি করছে। তাদের দাবি, গত দুই সপ্তাহে ইরানের তত্ত্বাবধানে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের প্রায় ৫০ শতাংশে ফিরে এসেছে এবং তেহরান নির্ধারিত রুট ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকেই চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র আরও হস্তক্ষেপ করলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে বুধবার ইরানের প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার ছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ৮ ও ৯ জুলাই পাঁচটি প্রদেশে মার্কিন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। ফার্স নিউজ এজেন্সির দাবি, একটি হামলায় রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে বাণিজ্যে ব্যবহৃত একটি রেলসেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানা এলাকাতেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কুয়েতে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কাতারের একটি আগাম সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর জ্বালানি ডিপো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১০টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। জর্ডানও জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।

এদিকে কাতার বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে আবারও কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। তুরস্ক, ওমান ও পাকিস্তানও উত্তেজনা না বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।