ঢাকা ০২:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কূটনৈতিক তৎপরতায় থেমেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের হামলা

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • / 32

টানা কয়েক দিনের হামলা-পাল্টা হামলার পর শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। উভয় পক্ষকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরাতে কাতার, পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সপ্তাহজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থানে সামরিক হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দেয়।

শুক্রবার ভোরে ইরানের রা ষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও কর্মকর্তারা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর দিলেও হামলার জন্য কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। তারা শুধু ‘শত্রুপক্ষের’ নতুন হামলার অভিযোগ তোলেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো হামলার ঘোষণা দেয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখন উত্তেজনা কমিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা এখনো চলছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সমাধান খুঁজে বের করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদিও বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে।

আরেক মার্কিন কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে বলেন, শুক্রবার ভোরের সর্বশেষ হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

অ্যাক্সিওসের এক আঞ্চলিক সূত্রের ভাষ্য, প্রথমে উভয় পক্ষকে উত্তেজনা কমাতে সম্মত করানো এবং পরে প্রযুক্তিগত পর্যায়ের নতুন বৈঠকের তারিখ নির্ধারণে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে।

সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর কাতার, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতাকারীরা ধারাবাহিক ফোনালাপ চালিয়েছেন। সিএনএনও জানিয়েছে, দোহা ও ইসলামাবাদ আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, আঞ্চলিক সংকট সমাধানে দোহা এখনো সংলাপ, কূটনীতি ও মধ্যস্থতার পথেই আস্থা রাখছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতায় যুদ্ধ বন্ধ রাখা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, তেহরানের তেল রপ্তানি পুনরায় চালুর সুযোগ এবং জব্দ করা কিছু ইরানি অর্থ ও সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছিল।

তবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেই সবচেয়ে বড় মতবিরোধ দেখা দেয়। ওমান ও জাতিসংঘ বিকল্প নৌপথের ঘোষণা দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। আটকে পড়া জাহাজ সরিয়ে নিতে ওই বিকল্প করিডর ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সপ্তাহে প্রণালিতে কয়েকটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র এর জন্য ইরানকে দায়ী করে দেশটির দক্ষিণ উপকূলে হামলা চালায়। জবাবে ইরান কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার দাবি করে।

সর্বশেষ এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ও ট্রাম্পবিরোধী নানা স্লোগান দেওয়া হয়।

এদিকে ন্যাটো সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান তাকে হত্যার পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু।’

মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে এমন গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে, যাতে ট্রাম্পকে হত্যার একটি সম্ভাব্য ইরানি পরিকল্পনার ইঙ্গিত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত টানা কয়েক দিনের হামলা-পাল্টা হামলার পর শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। উভয়কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

২০২০ সালে মার্কিন হামলায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আসছে ইরান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোকযাত্রাতেও ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান ব্যাপকভাবে শোনা যায়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কূটনৈতিক তৎপরতায় থেমেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের হামলা

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

টানা কয়েক দিনের হামলা-পাল্টা হামলার পর শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। উভয় পক্ষকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরাতে কাতার, পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সপ্তাহজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থানে সামরিক হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দেয়।

শুক্রবার ভোরে ইরানের রা ষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও কর্মকর্তারা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর দিলেও হামলার জন্য কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। তারা শুধু ‘শত্রুপক্ষের’ নতুন হামলার অভিযোগ তোলেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো হামলার ঘোষণা দেয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখন উত্তেজনা কমিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা এখনো চলছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সমাধান খুঁজে বের করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদিও বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে।

আরেক মার্কিন কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে বলেন, শুক্রবার ভোরের সর্বশেষ হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

অ্যাক্সিওসের এক আঞ্চলিক সূত্রের ভাষ্য, প্রথমে উভয় পক্ষকে উত্তেজনা কমাতে সম্মত করানো এবং পরে প্রযুক্তিগত পর্যায়ের নতুন বৈঠকের তারিখ নির্ধারণে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে।

সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর কাতার, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতাকারীরা ধারাবাহিক ফোনালাপ চালিয়েছেন। সিএনএনও জানিয়েছে, দোহা ও ইসলামাবাদ আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, আঞ্চলিক সংকট সমাধানে দোহা এখনো সংলাপ, কূটনীতি ও মধ্যস্থতার পথেই আস্থা রাখছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতায় যুদ্ধ বন্ধ রাখা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, তেহরানের তেল রপ্তানি পুনরায় চালুর সুযোগ এবং জব্দ করা কিছু ইরানি অর্থ ও সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছিল।

তবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেই সবচেয়ে বড় মতবিরোধ দেখা দেয়। ওমান ও জাতিসংঘ বিকল্প নৌপথের ঘোষণা দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। আটকে পড়া জাহাজ সরিয়ে নিতে ওই বিকল্প করিডর ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সপ্তাহে প্রণালিতে কয়েকটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র এর জন্য ইরানকে দায়ী করে দেশটির দক্ষিণ উপকূলে হামলা চালায়। জবাবে ইরান কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার দাবি করে।

সর্বশেষ এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ও ট্রাম্পবিরোধী নানা স্লোগান দেওয়া হয়।

এদিকে ন্যাটো সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান তাকে হত্যার পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু।’

মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে এমন গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে, যাতে ট্রাম্পকে হত্যার একটি সম্ভাব্য ইরানি পরিকল্পনার ইঙ্গিত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত টানা কয়েক দিনের হামলা-পাল্টা হামলার পর শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। উভয়কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

২০২০ সালে মার্কিন হামলায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আসছে ইরান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোকযাত্রাতেও ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান ব্যাপকভাবে শোনা যায়।