ঢাকা ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৫:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • / 40

মিয়ানমারের সঙ্গে ২৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে প্রায় ১০৮ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ।

আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার এবং মানবপাচার ঠেকাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জাপানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যে চলমান অস্থিতিশীলতা এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সরকার এ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বাস্তবায়ন হলে প্রতিবেশী কোনো দেশের সঙ্গে সীমান্তে এটিই হবে বাংলাদেশের প্রথম কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ প্রকল্প।

গত মাসে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের লক্ষ্য হলো অবৈধ অনুপ্রবেশ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ ও চোরাচালান প্রতিরোধ।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্তের নির্বাচিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রায় ১০৮ কিলোমিটার বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কোন কোন স্থানে এই অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম নিক্কেই এশিয়াকে বলেন, সীমান্তের ওপারে আগের মতো কার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাঠামো না থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অননুমোদিত পারাপার, মাদক ও অস্ত্র পাচার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বেড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, রাখাইনমুখী যোদ্ধা যাতায়াত, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র পাচারের ঝুঁকি বেড়েছে। তার মতে, কাঁটাতারের বেড়ার পাশাপাশি সীমান্ত টহল সড়ক নির্মাণ করা হলে নজরদারি আরও কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের গণমাধ্যম কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, সীমান্তবর্তী মংডুসহ আশপাশের এলাকায় আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। এতে জেলেদের অপহরণ, নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার এবং স্থলমাইনের ঝুঁকি বেড়েছে।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর এলাকায় ৪২৬ জনের বেশি বাংলাদেশি জেলে অপহরণের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩২৪ জন দেশে ফিরলেও বাকিদের এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম. সাখাওয়াত হোসেনের মতে, রাখাইনে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর আরাকান আর্মির অর্থ সংগ্রহের জন্য অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং মাদক ও অস্ত্র পাচারের তৎপরতা আরও বেড়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ

সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৫:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

মিয়ানমারের সঙ্গে ২৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে প্রায় ১০৮ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ।

আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার এবং মানবপাচার ঠেকাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জাপানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যে চলমান অস্থিতিশীলতা এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সরকার এ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বাস্তবায়ন হলে প্রতিবেশী কোনো দেশের সঙ্গে সীমান্তে এটিই হবে বাংলাদেশের প্রথম কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ প্রকল্প।

গত মাসে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের লক্ষ্য হলো অবৈধ অনুপ্রবেশ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ ও চোরাচালান প্রতিরোধ।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্তের নির্বাচিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রায় ১০৮ কিলোমিটার বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কোন কোন স্থানে এই অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম নিক্কেই এশিয়াকে বলেন, সীমান্তের ওপারে আগের মতো কার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাঠামো না থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অননুমোদিত পারাপার, মাদক ও অস্ত্র পাচার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বেড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, রাখাইনমুখী যোদ্ধা যাতায়াত, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র পাচারের ঝুঁকি বেড়েছে। তার মতে, কাঁটাতারের বেড়ার পাশাপাশি সীমান্ত টহল সড়ক নির্মাণ করা হলে নজরদারি আরও কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের গণমাধ্যম কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, সীমান্তবর্তী মংডুসহ আশপাশের এলাকায় আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। এতে জেলেদের অপহরণ, নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার এবং স্থলমাইনের ঝুঁকি বেড়েছে।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর এলাকায় ৪২৬ জনের বেশি বাংলাদেশি জেলে অপহরণের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩২৪ জন দেশে ফিরলেও বাকিদের এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম. সাখাওয়াত হোসেনের মতে, রাখাইনে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর আরাকান আর্মির অর্থ সংগ্রহের জন্য অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং মাদক ও অস্ত্র পাচারের তৎপরতা আরও বেড়েছে।