ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘বিশ্বকাপে ফিফা, বাংলাদেশে মুরুব্বি’

রাজু হামিদ
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:১১:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • / 80

ফিফা বিশ্বকাপ ও বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে রম্য কার্টুন। এআই নির্মিত

এবারের ফিফা বিশ্বকাপ আর কয়েক মাস আগের জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেখে মনে হলো- দুই আয়োজনের স্ক্রিপ্ট সম্ভবত একই লেখক লিখেছেন। শুধু চরিত্র বদলেছে।

একটাতে ছিল গোলপোস্ট, আরেকটাতে ভোটপোস্ট। একটাতে রেফারি বাঁশি বাজিয়েছে, আরেকটাতে নির্বাচন কমিশন। একটাতে ভিএআর, আরেকটাতে “পর্যবেক্ষক”। আর দর্শক? দুই জায়গাতেই সোশ্যাল মিডিয়ার বিশ্লেষকরা- যারা ম্যাচ শুরুর আগেই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে ফেলেন!

বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর কয়েকটা ম্যাচ যেতেই মনে হলো, খেলা ২২ জন খেলছে ঠিকই, কিন্তু বাঁশিটা যেন একজনের পক্ষেই একটু বেশি বাজছে। সোশ্যাল মিডিয়ার আদালতে তখন রায় হয়ে গেল- “এটা আর্জেন্টিনা না, এটা কমিটির দল!”

ফাউল করলেও কার্ড নেই।

হাত লাগলেও পেনাল্টি আছে।

অফসাইড হলেও লাইনের দোষ।

রেফারির সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে- “ফিফা বিক্রি হয়ে গেছে!”

ফেসবুক তখন আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছিল না; হয়ে গিয়েছিল আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত।

যে দেশে প্রতিদিন অন্তত একশো অর্থনীতিবিদ, দুইশো সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞ আর তিনশো ক্রিকেট বিশ্লেষক জন্ম নেয়, সে দেশে এক মাসে কয়েক লাখ ফিফা রেফারি জন্ম নেবে- এটাই তো স্বাভাবিক।

নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের অবস্থাও খুব একটা আলাদা ছিল না। চায়ের দোকানে চা কম, বিশ্লেষণ বেশি।

যে রিকশাওয়ালা সারাজীবন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনও বিশ্লেষণ করেননি, তিনিও বলে দিলেন- “ভাই, সব সেটিং হয়ে গেছে।”

সেটিং- এই শব্দটার মতো জনপ্রিয় শব্দ সম্ভবত বাংলা অভিধানে আর নেই।

রাস্তার গর্ত? সেটিং।

টেন্ডার? সেটিং।

ফুটবল? সেটিং।

নির্বাচন? সেটিং।

বৃষ্টি বেশি? এটাও হয়তো সেটিং!

তারপর কী হলো?

ভোর হতে না হতেই সব হিসাব উল্টে গেল। যে মই বেয়ে অনেকে আর্জেন্টিনাকে গাছে তুলেছিলেন, সেই মই-ই কেউ একজন চুপচাপ সরিয়ে নিল। ট্রফি গেল অন্য হাতে, গোল্ডেন বুটও অন্য কারও পায়ে। টাইমলাইনে তখন নীরবতা- যেন লোডশেডিং।

কেন জানি, দৃশ্যটা কয়েক মাস আগের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিল।

নির্বাচনের আগে যে আলোচনা চলছিল, সেখানে “আর্জেন্টিনা”র ভূমিকায় ছিল জামায়াতে ইসলামী। অভিযোগ ছিল- যতই ফাউল করুক, কার্ড নেই। কেউ বলতেন, “রেফারি তো ওদের পকেটে!” আবার কেউ নিশ্চিত ছিলেন, “এবার কাপ… না না, সরকার ওরাই গড়বে!”

কিছু সহকর্মীকে দেখেছি তেজগাঁও ট্রাকস্ট্রান্ডে বসে জরিপ কষছেন- “১৬০ ওখানে, ১৪০ এখানে… খেলা শেষ!”

এরপর শুরু হলো আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ। কেউ বললেন- যুক্তরাষ্ট্র আছে, কেউ বললেন- তুরস্ক আছে, কেউ বললেন- পাকিস্তান আছে, কেউ বললেন- চীনও নাকি ব্যাকআপে! আর ভারত- বাংলাদেশে কারো জ্বর হলেও সেখানে ভারতের হাত থাকে। মনে হচ্ছিল, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বসে নির্বাচন পরিচালনা করছে!

বিশ্বকাপেও তো একই গল্প শুনেছি। “ট্রাম্প নাকি মেসির পাশে!” যেন হোয়াইট হাউস থেকে অফসাইড লাইন টানা হচ্ছে!

কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার পর দেখা গেল, কাপ উঠেছে বিএনপির হাতে। বলতে পারেন, নির্বাচনের “গোল্ডেন বুট”ও গেল তারেক রহমানের ঝুলিতে।

এবার আসি ব্রাজিল আর আওয়ামী লীগের মিল নিয়ে।

ব্রাজিল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর তাদের সমর্থকদের একাংশের অবস্থা ছিল অনেকটা ভাড়া বাসা ছেড়ে নতুন বাসা খোঁজার মতো।

আজ ফ্রান্স।

কাল জার্মানি।

পরশু স্পেন।

শেষে যে-ই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে, সেদিন থেকেই সেই দল “ছোটবেলার প্রিয় দল”।

রাজনীতিতেও কমবেশি একই দৃশ্য।

যে দল মাঠে ছিল না, তাদের অনেক সমর্থক এমন একজনকে বেছে নিলেন, যিনি অন্তত তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নন।

অর্থাৎ, নিজের দল জিতুক না জিতুক- প্রতিপক্ষ যেন ট্রফি না পায়।

এই দর্শনের নামই সম্ভবত “কৌশলগত দেশপ্রেম”।

আওয়ামী লীগের কর্মী-সমার্থকদেরও হয়েছিলো একই দশা। তাদের দল নির্বাচনে ছিল না। আর জামায়াতকে তো তারা ঐতিহাসিক প্রতিপক্ষই মনে করে। ফলে অনেক সমর্থক শেষ পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থীকেই কম ক্ষতির বিকল্প হিসেবে দেখলেন।

কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, “এতে আওয়ামী লীগের লাভ কী?”

লাভ একটাই- আর্জেন্টিনা সমর্থকদের টিপ্পনী থেকে যেমন ব্রাজিল ভক্তরা বাঁচতে চেয়েছিলেন, তেমনি জামায়াতের বিজয়ের টিপ্পনী থেকেও অনেকে বাঁচতে চেয়েছেন।

সবশেষে একটা কথা।

বিশ্বকাপের একটা ভালো দিক আছে। চার বছর পরপর হবেই। মাঝখানে ফিফার সভাপতি বদলাতে পারেন, রেফারি বদলাতে পারেন, ভিএআর বদলাতে পারে- কিন্তু বিশ্বকাপের ক্যালেন্ডার বদলায় না।

আমাদের দেশের নির্বাচন অবশ্য একটু ভিন্ন জিনিস।

এখানে সংবিধান, কমিশন, রাজনৈতিক দল- সবাই আছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ থাকে সেই রহস্যময় “মুরব্বিরা”। ফিফার বিশ্বকাপ কবে হবে, সেটা তারা ঠিক করতে পারেন না বটে; তবে বাংলাদেশের নির্বাচন কবে হবে, সেটা নিয়ে তাদের মতামতই যেন শেষ কথা!

তাই বিশ্বকাপের সূচি জানতে মানুষ ফিফার ওয়েবসাইটে ঢোকে।

আর নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ জানতে মানুষ ঢোকে রাজনৈতিক গুঞ্জনের বাজারে। এই যেমন এখন বাজারে গুঞ্জন- অক্টোবরের মধ্যে দেশে সেনা শাসন আসছে। এরপর আরেকটি মধ্যবর্তী নির্বাচন হচ্ছে। সেখানে আওয়ামী লীগ নৌকা প্রতীকে অংশ নিচ্ছেন। তবে ফলাফল কি হবে- তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌছায়নি টং দোকানের বিশ্লেষকরা।

তাই বলি, গোলপোস্টের খেলায় ক্যালেন্ডার চলে ফিফার নিয়মে।

আর ভোটপোস্টের খেলায় ক্যালেন্ডার চলে… ‘মুরব্বিদের ইশারায়’।

এই কারণেই হয়তো বিশ্বকাপে শুধু চ্যাম্পিয়ন বদলায়, আর আমাদের রাজনীতিতে বদলে যায়-খেলার সময়সূচিও!

 

রম্য রচনা: বিশ্বকাপ ফুটবল ও বাংলাদেশের নির্বাচন

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

‘বিশ্বকাপে ফিফা, বাংলাদেশে মুরুব্বি’

সর্বশেষ আপডেট ০১:১১:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

এবারের ফিফা বিশ্বকাপ আর কয়েক মাস আগের জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেখে মনে হলো- দুই আয়োজনের স্ক্রিপ্ট সম্ভবত একই লেখক লিখেছেন। শুধু চরিত্র বদলেছে।

একটাতে ছিল গোলপোস্ট, আরেকটাতে ভোটপোস্ট। একটাতে রেফারি বাঁশি বাজিয়েছে, আরেকটাতে নির্বাচন কমিশন। একটাতে ভিএআর, আরেকটাতে “পর্যবেক্ষক”। আর দর্শক? দুই জায়গাতেই সোশ্যাল মিডিয়ার বিশ্লেষকরা- যারা ম্যাচ শুরুর আগেই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে ফেলেন!

বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর কয়েকটা ম্যাচ যেতেই মনে হলো, খেলা ২২ জন খেলছে ঠিকই, কিন্তু বাঁশিটা যেন একজনের পক্ষেই একটু বেশি বাজছে। সোশ্যাল মিডিয়ার আদালতে তখন রায় হয়ে গেল- “এটা আর্জেন্টিনা না, এটা কমিটির দল!”

ফাউল করলেও কার্ড নেই।

হাত লাগলেও পেনাল্টি আছে।

অফসাইড হলেও লাইনের দোষ।

রেফারির সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে- “ফিফা বিক্রি হয়ে গেছে!”

ফেসবুক তখন আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছিল না; হয়ে গিয়েছিল আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত।

যে দেশে প্রতিদিন অন্তত একশো অর্থনীতিবিদ, দুইশো সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞ আর তিনশো ক্রিকেট বিশ্লেষক জন্ম নেয়, সে দেশে এক মাসে কয়েক লাখ ফিফা রেফারি জন্ম নেবে- এটাই তো স্বাভাবিক।

নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের অবস্থাও খুব একটা আলাদা ছিল না। চায়ের দোকানে চা কম, বিশ্লেষণ বেশি।

যে রিকশাওয়ালা সারাজীবন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনও বিশ্লেষণ করেননি, তিনিও বলে দিলেন- “ভাই, সব সেটিং হয়ে গেছে।”

সেটিং- এই শব্দটার মতো জনপ্রিয় শব্দ সম্ভবত বাংলা অভিধানে আর নেই।

রাস্তার গর্ত? সেটিং।

টেন্ডার? সেটিং।

ফুটবল? সেটিং।

নির্বাচন? সেটিং।

বৃষ্টি বেশি? এটাও হয়তো সেটিং!

তারপর কী হলো?

ভোর হতে না হতেই সব হিসাব উল্টে গেল। যে মই বেয়ে অনেকে আর্জেন্টিনাকে গাছে তুলেছিলেন, সেই মই-ই কেউ একজন চুপচাপ সরিয়ে নিল। ট্রফি গেল অন্য হাতে, গোল্ডেন বুটও অন্য কারও পায়ে। টাইমলাইনে তখন নীরবতা- যেন লোডশেডিং।

কেন জানি, দৃশ্যটা কয়েক মাস আগের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিল।

নির্বাচনের আগে যে আলোচনা চলছিল, সেখানে “আর্জেন্টিনা”র ভূমিকায় ছিল জামায়াতে ইসলামী। অভিযোগ ছিল- যতই ফাউল করুক, কার্ড নেই। কেউ বলতেন, “রেফারি তো ওদের পকেটে!” আবার কেউ নিশ্চিত ছিলেন, “এবার কাপ… না না, সরকার ওরাই গড়বে!”

কিছু সহকর্মীকে দেখেছি তেজগাঁও ট্রাকস্ট্রান্ডে বসে জরিপ কষছেন- “১৬০ ওখানে, ১৪০ এখানে… খেলা শেষ!”

এরপর শুরু হলো আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ। কেউ বললেন- যুক্তরাষ্ট্র আছে, কেউ বললেন- তুরস্ক আছে, কেউ বললেন- পাকিস্তান আছে, কেউ বললেন- চীনও নাকি ব্যাকআপে! আর ভারত- বাংলাদেশে কারো জ্বর হলেও সেখানে ভারতের হাত থাকে। মনে হচ্ছিল, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বসে নির্বাচন পরিচালনা করছে!

বিশ্বকাপেও তো একই গল্প শুনেছি। “ট্রাম্প নাকি মেসির পাশে!” যেন হোয়াইট হাউস থেকে অফসাইড লাইন টানা হচ্ছে!

কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার পর দেখা গেল, কাপ উঠেছে বিএনপির হাতে। বলতে পারেন, নির্বাচনের “গোল্ডেন বুট”ও গেল তারেক রহমানের ঝুলিতে।

এবার আসি ব্রাজিল আর আওয়ামী লীগের মিল নিয়ে।

ব্রাজিল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর তাদের সমর্থকদের একাংশের অবস্থা ছিল অনেকটা ভাড়া বাসা ছেড়ে নতুন বাসা খোঁজার মতো।

আজ ফ্রান্স।

কাল জার্মানি।

পরশু স্পেন।

শেষে যে-ই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে, সেদিন থেকেই সেই দল “ছোটবেলার প্রিয় দল”।

রাজনীতিতেও কমবেশি একই দৃশ্য।

যে দল মাঠে ছিল না, তাদের অনেক সমর্থক এমন একজনকে বেছে নিলেন, যিনি অন্তত তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নন।

অর্থাৎ, নিজের দল জিতুক না জিতুক- প্রতিপক্ষ যেন ট্রফি না পায়।

এই দর্শনের নামই সম্ভবত “কৌশলগত দেশপ্রেম”।

আওয়ামী লীগের কর্মী-সমার্থকদেরও হয়েছিলো একই দশা। তাদের দল নির্বাচনে ছিল না। আর জামায়াতকে তো তারা ঐতিহাসিক প্রতিপক্ষই মনে করে। ফলে অনেক সমর্থক শেষ পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থীকেই কম ক্ষতির বিকল্প হিসেবে দেখলেন।

কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, “এতে আওয়ামী লীগের লাভ কী?”

লাভ একটাই- আর্জেন্টিনা সমর্থকদের টিপ্পনী থেকে যেমন ব্রাজিল ভক্তরা বাঁচতে চেয়েছিলেন, তেমনি জামায়াতের বিজয়ের টিপ্পনী থেকেও অনেকে বাঁচতে চেয়েছেন।

সবশেষে একটা কথা।

বিশ্বকাপের একটা ভালো দিক আছে। চার বছর পরপর হবেই। মাঝখানে ফিফার সভাপতি বদলাতে পারেন, রেফারি বদলাতে পারেন, ভিএআর বদলাতে পারে- কিন্তু বিশ্বকাপের ক্যালেন্ডার বদলায় না।

আমাদের দেশের নির্বাচন অবশ্য একটু ভিন্ন জিনিস।

এখানে সংবিধান, কমিশন, রাজনৈতিক দল- সবাই আছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ থাকে সেই রহস্যময় “মুরব্বিরা”। ফিফার বিশ্বকাপ কবে হবে, সেটা তারা ঠিক করতে পারেন না বটে; তবে বাংলাদেশের নির্বাচন কবে হবে, সেটা নিয়ে তাদের মতামতই যেন শেষ কথা!

তাই বিশ্বকাপের সূচি জানতে মানুষ ফিফার ওয়েবসাইটে ঢোকে।

আর নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ জানতে মানুষ ঢোকে রাজনৈতিক গুঞ্জনের বাজারে। এই যেমন এখন বাজারে গুঞ্জন- অক্টোবরের মধ্যে দেশে সেনা শাসন আসছে। এরপর আরেকটি মধ্যবর্তী নির্বাচন হচ্ছে। সেখানে আওয়ামী লীগ নৌকা প্রতীকে অংশ নিচ্ছেন। তবে ফলাফল কি হবে- তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌছায়নি টং দোকানের বিশ্লেষকরা।

তাই বলি, গোলপোস্টের খেলায় ক্যালেন্ডার চলে ফিফার নিয়মে।

আর ভোটপোস্টের খেলায় ক্যালেন্ডার চলে… ‘মুরব্বিদের ইশারায়’।

এই কারণেই হয়তো বিশ্বকাপে শুধু চ্যাম্পিয়ন বদলায়, আর আমাদের রাজনীতিতে বদলে যায়-খেলার সময়সূচিও!

 

রম্য রচনা: বিশ্বকাপ ফুটবল ও বাংলাদেশের নির্বাচন