ঢাকা ১১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের ছায়ায় ফিফা!

স্পোর্টস ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৩১:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • / 56

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: ক্লারিন

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্ন উঠছে- ফিফার সিদ্ধান্ত কি শুধুই ফুটবলের স্বার্থে নেওয়া হচ্ছে, নাকি এর পেছনে প্রভাব ফেলছে বৈশ্বিক রাজনীতি? সবশেষ এই বিতর্ক আরো জোরদার হয়েছে গতরাতে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার খেলা নিয়ে।

ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচেও আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সুবিধা দিয়েছে ফিফা। আর এই ম্যাচের পর স্যোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ফুটবল প্রেমিদের।

এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে একটি বিশ্লেষনধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে “আর্জেন্টিনার প্রভাবশালী দৈনিক ‘ক্লারিন’।

২০১৮ সালে হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে ট্রাম্প ইনফান্তিনোকে বলেছিলেন, “আপনি তো বেশ বিখ্যাত এবং গুরুত্বপূর্ণ।” সেই সাক্ষাতের পর থেকেই দুজনের সম্পর্ক ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে।

নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে ফিফার ভাড়া করা অফিস, ট্রাম্পের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সফরে একসঙ্গে উপস্থিতি- সব মিলিয়ে এই সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা।

এমনকি ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিয়েও আলোচনার জন্ম হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের কাছে প্রদর্শনের সময় মূল ট্রফিটি তাঁর কাছেই থেকে যায়। পরে ফিফাকে দ্রুত একটি প্রতিরূপ তৈরি করতে হয়।

আরও একটি দাবি এসেছে মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে অভিবাসনবিরোধী অভিযান সীমিত রাখার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও ফিফার মধ্যে অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা ছিল। তবে এ বিষয়ে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ছোট ছোট সদস্য দেশের ফুটবল ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক জোরদার করে ইনফান্তিনো নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও শক্ত করেছেন। ফলে ফিফার নেতৃত্বে তাঁর অবস্থান আরও দীর্ঘমেয়াদি হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।

সমালোচকদের অভিযোগ, একসময় যেখানে ফিফা বিশ্বজুড়ে সরকারগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার করত, এখন উল্টো বড় শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক প্রভাবই ফিফার ওপর বাড়ছে।

এই প্রেক্ষাপটে নজর এখন ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের দিকেও। কারণ ক্রীড়া বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাও রাজনৈতিক চাপ থেকে পুরোপুরি মুক্ত না থাকে, তাহলে ভবিষ্যতের বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরগুলোতেও একই ধরনের প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ট্রাম্পের ছায়ায় ফিফা!

সর্বশেষ আপডেট ১২:৩১:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্ন উঠছে- ফিফার সিদ্ধান্ত কি শুধুই ফুটবলের স্বার্থে নেওয়া হচ্ছে, নাকি এর পেছনে প্রভাব ফেলছে বৈশ্বিক রাজনীতি? সবশেষ এই বিতর্ক আরো জোরদার হয়েছে গতরাতে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার খেলা নিয়ে।

ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচেও আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সুবিধা দিয়েছে ফিফা। আর এই ম্যাচের পর স্যোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ফুটবল প্রেমিদের।

এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে একটি বিশ্লেষনধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে “আর্জেন্টিনার প্রভাবশালী দৈনিক ‘ক্লারিন’।

২০১৮ সালে হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে ট্রাম্প ইনফান্তিনোকে বলেছিলেন, “আপনি তো বেশ বিখ্যাত এবং গুরুত্বপূর্ণ।” সেই সাক্ষাতের পর থেকেই দুজনের সম্পর্ক ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে।

নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে ফিফার ভাড়া করা অফিস, ট্রাম্পের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সফরে একসঙ্গে উপস্থিতি- সব মিলিয়ে এই সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা।

এমনকি ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিয়েও আলোচনার জন্ম হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের কাছে প্রদর্শনের সময় মূল ট্রফিটি তাঁর কাছেই থেকে যায়। পরে ফিফাকে দ্রুত একটি প্রতিরূপ তৈরি করতে হয়।

আরও একটি দাবি এসেছে মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে অভিবাসনবিরোধী অভিযান সীমিত রাখার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও ফিফার মধ্যে অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা ছিল। তবে এ বিষয়ে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ছোট ছোট সদস্য দেশের ফুটবল ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক জোরদার করে ইনফান্তিনো নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও শক্ত করেছেন। ফলে ফিফার নেতৃত্বে তাঁর অবস্থান আরও দীর্ঘমেয়াদি হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।

সমালোচকদের অভিযোগ, একসময় যেখানে ফিফা বিশ্বজুড়ে সরকারগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার করত, এখন উল্টো বড় শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক প্রভাবই ফিফার ওপর বাড়ছে।

এই প্রেক্ষাপটে নজর এখন ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের দিকেও। কারণ ক্রীড়া বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাও রাজনৈতিক চাপ থেকে পুরোপুরি মুক্ত না থাকে, তাহলে ভবিষ্যতের বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরগুলোতেও একই ধরনের প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।