প্রশিক্ষণে নারী বাদ, নারীপক্ষের প্রতিবাদ
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৮:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
- / 76
শুক্রবার এক বিবৃতিতে নারীপক্ষ জানিয়েছে, গত ১৫ জুলাই দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এ প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ আয়োজিত ‘অ্যাপ্লাইড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ৩০ জন কর্মকর্তাকে মনোনীত করেছে।
৪৭৩ জন আবেদনকারীর মধ্যে ৯০ জন নারী কর্মকর্তা আবেদন করলেও একজন নারী কর্মকর্তাকেও এই প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এর কারণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক সন্ধ্যার পর ক্লাস শেষ হওয়া এবং নারী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করেছে।
অথচ যেসব নারী কর্মকর্তা এই প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করেছিলেন, তাঁদের অনেকেই নিয়মিত অফিসের প্রয়োজনে সন্ধ্যা এমনকি রাত পর্যন্ত কাজ করেন। অফিসের প্রয়োজন হলে অফিস-সংক্রান্ত ভ্রমণও করেন। তাহলে কেবল প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেই তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিল কেন? এমন সিদ্ধান্ত আসলে নারীকে কর্মক্ষেত্রে অদক্ষ করে রাখার ষড়যন্ত্র যা আমাদের গতানুগতিক নারীর পেশাগত জীবনের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করে।
নারীপক্ষ এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনটি দাবি উত্থাপন করেছে।
এক , অনতিবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে সমানসংখ্যক নারী কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা।
দুই, প্রশিক্ষণে নারী কর্মকর্তাদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
তিন, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ বা অফিসিয়াল কর্মকাণ্ডে নারীদের ন্যায্যতার ভিত্তিতে সুযোগ নিশ্চিত করা।
নারীপক্ষের মতে, সন্ধ্যাকালীন কোর্সের জন্য নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নারীর জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সেই সমাধান না করে নারীদেরই প্রশিক্ষণের সুযোগ থেকে বাদ দেওয়া বৈষম্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। এই ধরনের প্রশিক্ষণ থেকে নারী কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়া তাদের আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে ওঠার পথে অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।





































