প্রয়াত জোটার স্মরণে বিশেষ ব্যান্ড পরে খেলবে পর্তুগাল
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৪১:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
- / 8
ফুটবল মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সাবেক সতীর্থকে ভুলে যায়নি পর্তুগাল। অকাল প্রয়াত সাবেক তারকা ফরোয়ার্ড দিয়েগো জোটার স্মৃতিকে সম্মান জানাতে এক অনন্য উদ্যোগ নিয়েছে পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দল। এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচগুলোতে বিশেষ এক ধরণের আর্মব্যান্ড বা বাহুবন্ধনী পরে মাঠে নামবেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সতীর্থরা। গতকাল শনিবার (১৩ জুন) দলটির তারকা মিডফিল্ডার ভিতিনিয়া এক অফিসিয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এই আবেগঘন তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
আগামী বুধবার ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ ‘কে’-তে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি পর্তুগাল।
পর্তুগিজ ফুটবলারদের হাতে জড়াতে যাওয়া বিশেষ এই সম্মানসূচক আর্মব্যান্ডটি তৈরি করে উপহার দিয়েছেন স্বয়ং পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্তেনেগ্রো। এই ব্যান্ডের বিশেষত্ব হলো, এতে পর্তুগালের বর্তমান বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা সব খেলোয়াড়ের নামের পাশাপাশি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ও বিশেষভাবে যুক্ত করা হয়েছে প্রয়াত ফরোয়ার্ড দিয়েগো জোটার নাম। উল্লেখ্য, গত বছর স্পেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিজের আপন ভাইসহ করুণ মৃত্যুর শিকার হন জোটা। পর্তুগালের জাতীয় জার্সিতে ৪৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ১৪টি দারুণ গোল করেছিলেন তিনি। তাঁর এই আকস্মিক ও অকাল মৃত্যু এখনো পর্তুগাল দলের ড্রেসিংরুমে গভীর ক্ষত ও শোকের আবহ তৈরি করে রাখে।
সংবাদ সম্মেলনে ভিতিনহা বলেন, “আমরা যখন বিশ্বকাপের আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলাম, তখন তিনি আমাদের নিজ হাতে এই বিশেষ আর্মব্যান্ডটি উপহার দেন। সরকারের পক্ষ থেকে ফিফার সাথে কথা বলে নিশ্চিত করা হয়েছে যেন আন্তর্জাতিক ম্যাচের সব নিয়মকানুন মেনেই এটি তৈরি করা হয় এবং মাঠে পরা যায়।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই ব্যান্ডে আমাদের সবার নামের সাথে দিয়েগো জোটার নাম খোদাই করা আছে। এটি পরা বাধ্যতামূলক ছিল না, আমাদের ওপরই সিদ্ধান্ত ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমরা সবাই মৃত সতীর্থের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই এটি প্রতিটি ম্যাচে পরার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
ফরাসি ক্লাব পিএসজির (PSG) হয়ে টানা দুটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপাজয়ী মিডফিল্ডার ভিতিনহা অবশ্য কাগজে-কলমে বা মাঠের লড়াইয়ে পর্তুগালকে বিশ্বকাপের হট ফেবারিট বলতে নারাজ। তিনি বাস্তবসম্মত মন্তব্য করে বলেন, “আমি এখনই মুখ ফুটে বলবো না যে আমরাই এবারের বিশ্বকাপের একমাত্র ফেবারিট। তবে আমাদের দলে এমন অনেক বিশ্বমানের গুণ ও ফুটবলীয় সামর্থ্য রয়েছে, যা দিয়ে আমরা টুর্নামেন্টের অনেক দূর পর্যন্ত অনায়াসে যেতে পারি।
এই প্রসঙ্গে তিনি গত কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে মরক্কোর কাছে হেরে আকস্মিক বিদায় নেওয়ার douloureuse বা বেদনাদায়ক স্মৃতিও মনে করিয়ে দেন। ভিতিনিয়া বলেন, “আমরা অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি। আমরা জানি বিশ্বমঞ্চে সফল হওয়ার সঠিক পথ হলো অতি-আত্মবিশ্বাসী না হয়ে বিনয়ী থাকা এবং প্রতি ম্যাচে নিজেদের সেরা ফুটবলটা খেলা। আমাদের দলে প্রতিভার কোনো অভাব নেই, এখন শুধু মাঠের টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিক্যাল বিষয়গুলো একসঙ্গে নিখুঁতভাবে কাজে লাগাতে হবে।”
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাজুড়ে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপের বিশাল ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং দীর্ঘ ভ্রমণসূচিকে ফুটবলারদের জন্য বড় একটি শারীরিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন ভিতিনহা। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে এটিকে কোনোভাবেই অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে রাজি নন তিনি। তাঁর নিজের ভাষায়, “ভিন্ন ভিন্ন দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু আমাদের স্বাভাবিক খেলায় কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু এই প্রতিকূলতা শুধু আমাদের একার জন্য নয়, সব দলের জন্যই সমান। একেক শহরে ভিন্ন ভিন্ন তাপমাত্রা থাকবে। তবে যেহেতু এটি ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর বিশ্বকাপ, তাই এখানে ভালো করতে না পারলে কোনো অজুহাত চলে না।”
সংবাদ সম্মেলনের শেষ অংশে নিজের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার ও অপূর্ণ স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন ভিতিনহা। সাবেক পেশাদার ফুটবলার বাবা ভিতর মানুয়েলের পথ ধরেই মূলত ফুটবলের সবুজ গালিচায় পা রেখেছিলেন এই তারকা। তিনি জানান, ক্যারিয়ারে ক্লাব ফুটবলে অনেক উঁচুতে পৌঁছালেও বিশ্বকাপ জেতাই এখন তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ও একমাত্র লক্ষ্য। ভিতিনহা আবেগতাড়িত হয়ে বলেন, “সেই ছোটবেলা থেকেই বাবার খেলা দেখে দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন বুনেছি। আমি সবসময় ফুটবল বিশ্বের এই রাজকীয় মঞ্চে খেলতে চেয়েছিলাম। ক্লাবের হয়ে অনেক বড় ট্রফি ইতিমধ্যেই অর্জন করেছি, এখন শুধু দেশের হয়ে সোনার বিশ্বকাপ জেতার সেই পরম স্বপ্নটিও পূরণ করতে চাই।


































