প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৫:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
- / 95
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন,”প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিটি শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ভিত্তি। সমাজের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাঠ্যক্রমকেও সময়োপযোগী, শিশুবান্ধব এবং শিশুদের শেখার পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, শিশুদের যুক্তিভিত্তিক চিন্তার দক্ষতা, জীবন দক্ষতা ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এমন অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে, যেখানে পাঠদানের পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমও সমান গুরুত্ব পাবে। সরকার, উন্নয়ন সহযোগী এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আমরা এ লক্ষ্য অর্জন করতে পারব।”
বুধবার (২৯ জুলাই ) সকালে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের আয়োজনে “বাংলাদেশে প্রাথমিক পাঠ্যক্রম উন্নয়ন: সংস্কার যাত্রার সম্মিলিত পর্যালোচনা” শীর্ষক একটি নীতিনির্ধারণী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এ মন্তব্য করেন।
” শিশুদের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা: আমাদের পথচলা ” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের আহসান।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশন (ক্যাম্প)-এর নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট (ব্র্যাক আইইডি)-এর প্রোগ্রাম প্রধান ও গবেষণা প্রধান সৈয়দা সাযিয়া জামান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (ন্যাপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ, ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)-এর টিম লিডার (হিউম্যান ক্যাপিটাল) ও শিক্ষা উপদেষ্টা মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস। শিক্ষাক্রম কাযক্রম তুলে ধরেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের পরিচালক প্রোগাম মাহিন চৌধুরী।
আলোচনায় শিশুদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের শেখার চাহিদা বিবেচনায় রেখে কীভাবে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী পাঠ্যক্রম গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীরা এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পাঠ্যক্রমের ওপর জোর দেন, যা শিশুদের মৌলিক শিক্ষা, চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা, যোগাযোগ দক্ষতা এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা, দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল এবং অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের প্রয়োজনকেও পাঠ্যক্রম উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন, কার্যকর পাঠ্যক্রম গড়ে তুলতে শুধু পাঠ্যক্রম তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। এ জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণ, মানসম্মত শিক্ষা উপকরণ, শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান এবং উপযুক্ত মূল্যায়ন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেসঙ্গে শিক্ষা হবে আনন্দদায়ক। শিশুরা খেলার ছলে শিখবে। গ্রাম, শহর, প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার ধরনের পরিবতনে গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাক্রমের ফোকাস হবে শিক্ষাদান পদ্ধতিকে শক্তিশালী করা। শিক্ষকদের মানসম্মতভাবে তৈরি করা। প্রি-প্রাইমারি থেকে দ্বাদশ শ্রেনি পযন্ত শিক্ষাক্রমকে একটি ফ্রেমওয়ার্কে দেখতে হবে।
রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, প্রতিটি শিশুকে প্রকৃত শিক্ষা দিতে হলে চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার অংশীজন, শিক্ষক, শিক্ষা প্রশাসন এবং অভিভাবক। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। একে কখনো কখনো পরিবধন, পরিমাজন করতে হবে। তবে পরিবধন, পরিমাজন করতে গিয়ে লেসনগুলো আমরা যেনো ভুলে না যাই। প্রতিপদে আমরা যেনো শিখি।
তিনি আরো বলেন, মেয়েশিশুরা সহিংসতার শিকার হলে তার বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। কারণ তার পরিবার তাকে আর বিদ্যালয়ে পাঠায় না।
কবিতা বোস বলেন, সরকারের একার পক্ষে প্রাথমিক শিক্ষা কাঠামো নিয়ে মাঠপর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব নয়। সেজন্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, অভিভাবক সকলকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে সহায়তা করতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গবেষণা ও তথ্য উপাত্ত সংগ্রহে ভূমিকা রাখতে পারে। দেশের প্রান্তিক এলাকা ভোলার চরফ্যাশন, কুড়িগ্রামের রৌমারি, সুনামগঞ্জের তাহেরপুরের বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাব্যবস্থা কেমন হওয়া দরকার তা তুলে ধরেন । প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে কিভাবে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন করা যায় সেদিকেও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রাথমিক পাঠ্যক্রম উন্নয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়, অর্জিত শিক্ষা পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ আয়োজিত এ সেমিনারে সরকারি প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সংস্থা, শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। সেমিনারে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, যুগোপযোগী এবং মানসম্মত করার বিষয়ে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় আরও গুরুত্ব দেওয়া হয় এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রমাণভিত্তিক ও দক্ষতাভিত্তিক পাঠ্যক্রম গড়ে তোলার ওপর, যা শিশুদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবোধ অর্জনে সহায়তা করবে এবং পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে সক্ষম করে তুলবে।
সেমিনারের শেষে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, সুশীল সমাজ এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে এবং প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত, সমতাভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।



































