গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস বয়কট বিটিএসের
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫৫:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
- / 111
সংগীত বিশ্বের জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ৬৯তম বার্ষিক গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে অংশ না নেয়ার ও কোনো গান জমা না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। রেকর্ড একাডেমি কর্তৃক প্রবর্তিত নতুন ‘সেরা এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স’ ক্যাটাগরিকে ‘বিভাজনমূলক’ ও ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে তারা এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) ইনস্টাগ্রামে বিবৃতি প্রকাশ করে বিটিএসের সাত সদস্য আরএম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি এবং জংকুক এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
মাসখানেক আগে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের আয়োজক প্রতিষ্ঠান দ্য রেকর্ডিং একাডেমি ২০২৭ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের জন্য ‘বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স’ নামে একটি নতুন বিভাগ চালুর ঘোষণা দেয়। কোরিয়ার কে-পপ, জাপানের জে-পপ কিংবা চীনের সি-পপের মতো এশীয় অঞ্চলের জনপ্রিয় সংগীতকর্মকে স্বীকৃতি দেয়া হবে এ বিভাগে।
অনেকে এটিকে এশীয় সংগীতের স্বীকৃতি হিসেবে দেখলেও, বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ এর সমালোচনা করছেন। তাদের মতে, এই নতুন আঞ্চলিক ক্যাটাগরির ফলে এশীয় শিল্পীদের গ্র্যামির মূল বা শীর্ষ ক্যাটাগরিগুলো (যেমন ‘অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার’ বা ‘রেকর্ড অব দ্য ইয়ার’) থেকে আলাদা করে এক ধরনের কাচের দেয়াল তুলে দেয়া হচ্ছে।
এই বৈষম্যমূলক বিভাজনের প্রতিবাদেই ২০২৭ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসকে বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে বিটিএস। বিবৃতিতে ব্যান্ডটির সদস্যরা বলেন, ‘আমরা এ বছর গ্র্যামির বিবেচনার জন্য কোনো গান না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা আশা করি আমাদের সংগীত কোনো অঞ্চল বা ভাষার ভিত্তিতে বিভক্ত না হয়ে, কেবল গান হিসেবেই নিজের যোগ্যতায় মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং ভালোবাসা পাবে।’
২০১৯ সাল থেকে বিটিএসের সাত সদস্য রেকর্ডিং একাডেমির ভোটিং মেম্বার হিসেবে যুক্ত আছেন। এর আগে বিভিন্ন বিভাগে বেশ কয়েকবার গ্র্যামিতে মনোনয়ন পেয়েছে বিটিএস। তবে পুরস্কার জেতেনি এখনো। তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন।
এ বছরের মার্চে প্রকাশ পাওয়া বিটিএসের নতুন অ্যালবাম ‘আরিরাং’ বিশ্বজুড়ে অভাবনীয় সাফল্য পায় এবং মার্কিন বিলবোর্ড চার্টের শীর্ষে জায়গা করে নেয়। ফলে ২০২৭ সালের গ্র্যামিতে তাদের প্রথম ট্রফি জয়ের প্রবল সম্ভাবনা দেখছিলেন সংগীত বোদ্ধারা। তবে ট্রফি জয়ের সেই উজ্জ্বল সম্ভাবনার মুখে দাঁড়িয়েও গ্র্যামির এই বিভাজনমূলক নীতির বিরুদ্ধে বিটিএসের এমন সাহসী অবস্থান বিশ্বসংগীত অঙ্গনে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।































