শ্রমিক অসন্তোষে নিষিদ্ধ সংগঠনের ইন্ধনের অভিযোগ
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৮:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / 19
পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতার পেছনে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ ঘটনায় কিছু শিল্প মালিক এবং শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও জড়িত বলে সরকারের কাছে তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে বলে জানান তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে পোশাকশিল্প মালিকদের দুটি সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের আলোচনা চলার মধ্যেই পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। এর পেছনে জড়িত শিল্প মালিক, শ্রমিক সংগঠন ও নেতাদের চিহ্নিত করা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন—এমন কিছু শিল্প মালিক অস্থিরতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছেন বলে সরকারের কাছে তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে সহিংসতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করবে না। এতে দেশের শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কারখানা বন্ধের তালিকা চেয়েছে সরকার
বৈঠকে শিল্প মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিছু মালিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারখানা বন্ধ রেখেছেন। এসব কারখানা ও মালিকের তালিকা সরকারকে দেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারখানা বন্ধ রাখা মালিকদের পাশাপাশি অস্থিরতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখা শ্রমিক সংগঠন ও নেতাদের নামের তালিকাও চাওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে কেউ ভুলক্রমে জড়িত হয়ে থাকলে তাঁদের সেখান থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমনের চেষ্টা করবে। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি কিংবা রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সীমান্তের ওপার থেকে কেউ ইশারায় পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে।
কারখানা বন্ধ চায় না সরকার
পোশাক খাতে উৎপাদন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো শিল্পকারখানা বন্ধ হোক, তা চায় না। এক মুহূর্তের জন্যও কারখানা বন্ধ থাকা সরকারের কাম্য নয়। একই সঙ্গে শিল্প খাতে কোনো ধরনের অস্থিরতাও চায় না সরকার।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য স্বার্থ রক্ষা এবং শিল্পের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা জরুরি। শ্রমিক আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে।































