পেপাল-পেওনিয়ারে সহজ হচ্ছে লেনদেন
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৮:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
- / 24
আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা আরও সহজ ও নিরাপদ করতে নতুন আন্তঃসীমান্ত লেনদেন কাঠামো চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে পেপাল, পেওনিয়ার ও স্ট্রাইপের মতো বৈশ্বিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে দেশের ব্যাংকগুলোর অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
নতুন নীতিমালার আওতায় অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা পরিচালনা ও বিদেশে অর্থ পাঠানোর জন্য ‘ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার’ (সিডিপিএসপি)-এর সঙ্গে বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব করতে পারবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট (ডিভিএ) বা ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর সুযোগ করে দিতে পারবে। এসব অ্যাকাউন্ট ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি মাস্টার ডিভিএ বা সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। প্রতিটি লেনদেন রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ এবং হিসাব সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
এই ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ভ্রমণ, চিকিৎসা, সরকারি সফর, আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের সাবস্ক্রিপশন ফি, ই-ভিসা, হোটেল বুকিং, আইটি সেবা ও নির্ধারিত সীমার মধ্যে অনলাইন কেনাকাটার অর্থ পরিশোধ করা যাবে।
এছাড়া এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) এবং রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাবধারীরাও এই সুবিধা নিতে পারবেন। ইআরকিউ হিসাব থাকা প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ডিভিএ ব্যবহার করতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সার, সফটওয়্যার রপ্তানিকারক, আইটি সেবা প্রদানকারী ও ই-কমার্স উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে আয় করা অর্থ দেশে আনার ক্ষেত্রে আরও সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আসা বিদেশি পর্যটক ও অনাবাসীরাও বিভিন্ন মার্চেন্ট পয়েন্টে ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পারবেন।
তবে সেবা চালুর আগে ব্যাংকগুলোকে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিচালন প্রস্তুতির তথ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি অর্থপাচার প্রতিরোধ (এএমএল) ও গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি) নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করে নিয়মিত লেনদেনের তথ্য জমা দিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সংযোগ আরও সহজ হবে। এতে দেশের ফ্রিল্যান্সিং, আইটি রপ্তানি ও অনলাইন ব্যবসার আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থায় নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
































