যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জেরে তিন দেশে ইরানের পাল্টা হামলা
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:২৩:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
- / 22
ইরানের অভ্যন্তরে হামলার পরিধি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে দুই দেশের সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে ইরান জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে আত্মঘাতী ড্রোন, কুয়েতে রাডার ব্যবস্থা, প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও জ্বালানি স্থাপনা এবং বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়েছে।
জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া আটটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে। কুয়েতও জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২১টি ড্রোন ঠেকিয়েছে। তবে হামলায় কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা ইরানের কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনায় আঘাত করেছে।
হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর বান্দার আব্বাস, যেখানে দেশটির নৌবাহিনী ও বিপ্লবী গার্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির কাছে গ্রেটার টুনব দ্বীপে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কারমানপুর জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় দেশটিতে অন্তত ৩৫ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক নাগরিক ও কতজন সামরিক সদস্য, তা জানানো হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ঘিরে নৌ অবরোধ জোরদার করেছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, সতর্কবার্তা অমান্য করায় ইরানের খার্গ দ্বীপগামী একটি তেলবাহী জাহাজ অচল করে দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়েছে। বিশ্বের বড় অংশের তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে অস্থিরতা দীর্ঘ হলে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের কালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে ‘অস্তিত্বের যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দেশটির বিপ্লবী গার্ড হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, অবরোধ চলতে থাকলে আঞ্চলিক তেল ও গ্যাস রপ্তানি ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।
তবে উত্তেজনার মধ্যেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান এখনও সমঝোতায় আগ্রহী। তিনি বলেছেন, আলোচনা হবে নাকি সামরিক অভিযান আরও বাড়বে, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা আরও বাড়ছে।



































