‘জীবন দেব,চব্বিশ হারাতে দেব না’: জামায়াত আমির
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:৫৬:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
- / 30
জীবন দিয়ে হলেও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষা করার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, তরুণ, যুবক ও শ্রমিকের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এই অর্জন কেউ যেন ছিনিয়ে নিতে না পারে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে আইডিবি মিলনায়তনে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আল্লাহর কসম, জীবন দেব কিন্তু ‘২৪’ হারিয়ে যেতে দেব না। আমরা লজ্জিত, কারণ প্রতিবার সাধারণ মানুষ, ছাত্র, তরুণ, যুবক, শ্রমিক জীবন দিয়ে অর্জন এনে দেওয়ার পর কিছু লুটেরা সেই অর্জন ছিনিয়ে নেয়। আজও ২০২৪-এর অর্জন হারিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
তিনি বলেন, বর্তমানে যে সংসদ ও সরকার গঠিত হয়েছে, তা ২০২৪ সালের আন্দোলনের ফসল বলে সবাই স্বীকার করেন। তবে কেউ কেউ ২০২৪ সালের গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন। আগের সময়ের ত্যাগও অস্বীকার করেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ওই সময়ে জামায়াত তাদের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হারিয়েছে, শত শত কর্মী প্রাণ দিয়েছেন, অনেকে কারাগারে গেছেন, চাকরি হারিয়েছেন ও বাড়িঘরে থাকতে পারেননি।
তবে তিনি বলেন, “২০২৪ না হলে আজ আমি এখানে বক্তৃতা দিতে পারতাম না, বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারতাম না, সংসদ সদস্য হতে পারতাম না। একইভাবে তারেক রহমানও প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম দাবি হিসেবে ফ্যাসিবাদ যেন আর দেশে ফিরে না আসে, সে জন্য রাষ্ট্র সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।
গণভোটের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা ব্যক্তিদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, চারটি প্রশ্ন জনগণ বুঝতে পারেনি—এমন বক্তব্য জাতিকে অপমান করার শামিল। তার ভাষায়, “আমি মূর্খ হতে পারি, কিন্তু আমার জাতি মূর্খ নয়।”
তিনি আরও বলেন, চারটি প্রশ্ন মানুষ বুঝতে না পারলে ৩১টি প্রশ্ন কীভাবে বুঝবে? এসব বক্তব্যকে তিনি “গোঁজামিল ও ভাওতাবাজি” বলে উল্লেখ করেন। রাজনীতিবিদরা যদি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেন, তাহলে দেশের মানুষ কোথায় যাবে—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
নির্বাচনের আগে সবাই গণভোটের পক্ষে ছিলেন দাবি করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ বলেছেন। এখন ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠনের যুক্তিতে ৭০ শতাংশের গণরায় অগ্রাহ্য করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন করেন, “৫১ বড়, নাকি ৭০ বড়?”
নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক ইতিহাসে থেকে যাবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সাড়ে তিন ঘণ্টা ব্ল্যাকআউট করে কী করা হয়েছে, জনগণ তা জানে। সময় হলে ইতিহাস সবকিছুর বিচার করবে।
সংবিধান সংশোধন কমিটি নিয়েও প্রশ্ন তুলে জামায়াত আমির বলেন, সংবিধানে এমন কোনো কমিটির অস্তিত্ব আছে কি না তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, এটি জুলাইয়ের চেতনা ও গণভোটকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।
তিনি বলেন, জনগণের রায়কে অপমান করা হলে জনগণই তার বিচার করবে। জামায়াতে ইসলামী জনগণের সঙ্গে আছে এবং ৭০ শতাংশ মানুষের গণরায় বাস্তবায়নের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে।
প্রতিবেশী দেশ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের দলই একমাত্র, যাদের ভারত পছন্দ করে না। ভারতের মাটিতে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও জামায়াতের জন্য ‘লাল কার্ড’ দেখানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে এসব নিয়ে তারা চিন্তিত নন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ই তাদের আশ্রয়।
অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল।


































