ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা, পাহারায় স্থানীয়রা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঠাকুরগাঁও
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • / 17

বিজিবির সঙ্গে পাহারায় স্থানীয়রা

সারাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় হুট করে ‘পুশইন’ বা অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ঠাকুরগাঁও সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপক জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা কঠোরহস্তে প্রতিহত করতে পুরো সীমান্তজুড়ে ঠাকুরগাঁও সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে এবার কেবল বিজিবি একাই নয়, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত রক্ষা করতে বিজিবির জোয়ানদের পাশাপাশি সীমান্ত পাহারায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে সরাসরি অংশ নিয়েছেন স্থানীয় সীমান্তবর্তী বাসিন্দারাও।

গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) রাতে জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বেউরঝাড়ি সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সেখানে ঠাকুরগাঁও ৫০ ব্যাটালিয়নের বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্থানীয় সাধারণ জনগণও সীমান্তে কড়া নজরদারি ও টহল কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছেন। সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্ত এলাকায় দিন-রাত সার্বক্ষণিক টহল, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে গোয়েন্দা নজরদারি এবং সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল এলাকায় সতর্কতামূলক নানাবিধ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত রেখা দিয়ে বাইরের কোনো ব্যক্তি যাতে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে সীমান্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও অরক্ষিত pointগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করে নজরদারি দ্বিগুণ জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত টহল কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ পর্যবেক্ষণ চৌকি বা ওয়াচ টাওয়ার। এর পাশাপাশি সীমান্তবর্তী সাধারণ জনসাধারণকে যেকোনো পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন করতে বিজিবির পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং ও গণসচেতনতামূলক বিশেষ সভা পরিচালনা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা সংবাদমাধ্যমকে জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা ও সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে তারা বিজিবির সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় করে কাজ করছেন। সীমান্ত এলাকায় অপরিচিত কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা চোরাচালানের তৎপরতা দেখা গেলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবি ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছেন। এদিকে সীমান্ত এলাকায় জনসাধারণের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও কার্যকরী হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের মতে, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের এই সমন্বিত উদ্যোগ যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও অনুপ্রবেশের চেষ্টা মোকাবিলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা, পাহারায় স্থানীয়রা

সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

সারাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় হুট করে ‘পুশইন’ বা অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ঠাকুরগাঁও সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপক জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা কঠোরহস্তে প্রতিহত করতে পুরো সীমান্তজুড়ে ঠাকুরগাঁও সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে এবার কেবল বিজিবি একাই নয়, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত রক্ষা করতে বিজিবির জোয়ানদের পাশাপাশি সীমান্ত পাহারায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে সরাসরি অংশ নিয়েছেন স্থানীয় সীমান্তবর্তী বাসিন্দারাও।

গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) রাতে জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বেউরঝাড়ি সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সেখানে ঠাকুরগাঁও ৫০ ব্যাটালিয়নের বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্থানীয় সাধারণ জনগণও সীমান্তে কড়া নজরদারি ও টহল কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছেন। সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্ত এলাকায় দিন-রাত সার্বক্ষণিক টহল, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে গোয়েন্দা নজরদারি এবং সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল এলাকায় সতর্কতামূলক নানাবিধ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত রেখা দিয়ে বাইরের কোনো ব্যক্তি যাতে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে সীমান্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও অরক্ষিত pointগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করে নজরদারি দ্বিগুণ জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত টহল কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ পর্যবেক্ষণ চৌকি বা ওয়াচ টাওয়ার। এর পাশাপাশি সীমান্তবর্তী সাধারণ জনসাধারণকে যেকোনো পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন করতে বিজিবির পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং ও গণসচেতনতামূলক বিশেষ সভা পরিচালনা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা সংবাদমাধ্যমকে জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা ও সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে তারা বিজিবির সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় করে কাজ করছেন। সীমান্ত এলাকায় অপরিচিত কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা চোরাচালানের তৎপরতা দেখা গেলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবি ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছেন। এদিকে সীমান্ত এলাকায় জনসাধারণের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও কার্যকরী হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের মতে, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের এই সমন্বিত উদ্যোগ যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও অনুপ্রবেশের চেষ্টা মোকাবিলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।