মিরপুরের শাহ আলীতে অভিযোগ
আদালতের স্থগিতাদেশ, তবু ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর প্রভাবে জমি দখলের চেষ্টা
- সর্বশেষ আপডেট ০২:৪৬:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 89
হাইকোর্টের স্পষ্ট স্থগিতাদেশ থাকার পরও রাজধানীর শাহ আলী এলাকায় দুটি বেসরকারি জীবনবিমা প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগ করেছে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।
প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে মো. আনিসুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি বিরোধীয় সম্পত্তিতে গিয়ে দখল নেওয়ার চেষ্টা করেন। আনিসুল মৃত কামরুল ইসলামের ছেলে। আদালতের স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকা অবস্থায় কীভাবে দখলের এমন উদ্যোগ নেওয়া হলো এবং এর পেছনে কার প্রভাব রয়েছে; এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে প্রতিষ্ঠানটি।
আদালতের নথি অনুযায়ী, সম্পত্তিটির মালিকানা নিয়ে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং মৃত কামরুল ইসলামের স্ত্রী আক্তার জাহান (রাইসা সুলতানা) ও তাঁর সন্তানদের মধ্যে বিরোধ চলছে। এ বিরোধের বিষয়ে গত ২৯ জুলাই হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহ ও বিচারপতি মো. মঞ্জুর আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুল জারি করেন।
একই আদেশে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ৬ এপ্রিলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ, ১৫ জুলাইয়ের মহানগর দায়রা জজের আদেশ এবং ১৬ জুলাইয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়।
এর আগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে বিরোধীয় সম্পত্তির দখল আক্তার জাহান ও তাঁর সন্তানদের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই আদেশের বিরুদ্ধে করা পুনর্বিবেচনার আবেদন মহানগর দায়রা জজ খারিজ করলে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স হাইকোর্টে আবেদন করে।
হাইকোর্টের আদেশের ফলে দখল হস্তান্তরসংক্রান্ত আগের আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত রয়েছে বলে আদালতের নথিতে দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে ওই সম্পত্তিতে নতুন করে দখলের চেষ্টা হয়ে থাকলে তা আদালতের আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না; এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।
প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে দখলের হুমকি পাওয়ার পর গত ২২ সেপ্টেম্বর শাহ আলী থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। জিডির নম্বর ১২৮০। একই দিনে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পক্ষ থেকেও ১২২৯ নম্বরে আরেকটি জিডি করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে মো. আনিসুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি বিস্তারিত জানাতে সময় লাগবে। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ রয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
দখলের অভিযোগ ও জিডির বিষয়ে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।’
পরে আদালতের আদেশের কপি ও থানায় করা জিডির কপি তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব দেননি।
অন্যদিকে, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁকে পাওয়া যায়নি।
ফলে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের মধ্যেই বিরোধীয় সম্পত্তিতে দখলচেষ্টার অভিযোগ, আগেই থানায় করা জিডি এবং এর সঙ্গে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগ;সব মিলিয়ে ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

































