মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ইস্যুতে অন্ধকারে মন্ত্রণালয়
- সর্বশেষ আপডেট ০১:০৪:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 84
মালয়েশিয়ায় নতুন করে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর উদ্যোগের কথা জানানো হলেও এখনো কার্যক্রম শুরুর দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর কথা থাকলেও কবে থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু হবে, তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই সংশ্লিষ্টদের কাছে। এই ইস্যুতে মূলত অন্ধকারেই রয়েছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
এদিকে প্রতিদিন শত শত অভিবাসনপ্রত্যাশী বোয়েসেলের কার্যালয়ে ভিড় করছেন। তবে কবে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারাও।
বোয়েসেলের একাধিক কর্মকর্তা জানান, নতুন করে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত তাদের জানানো হয়নি। কার্যালয়ে একটি নোটিশ টাঙানো হয়েছে, যেখানে ৩১ তারিখের পর নতুন কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে মালয়েশিয়ায় কবে থেকে কর্মী পাঠানোর জন্য ‘কলিং’ শুরু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এ অবস্থায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে হালনাগাদ তথ্য কার কাছে রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) একাংশের সঙ্গে বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ জানান, মালয়েশিয়া ইস্যুতে শুরু থেকেই তাকে সীমিত কিছু তথ্যের বাইরে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মো. মোখতার আহমেদ বলেন, মালয়েশিয়া ইস্যুতে প্রথম থেকেই সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে নির্দিষ্ট কিছু তথ্যের বাইরে আর কিছু জানায়নি।
অন্যদিকে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তার কাছে নেই বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কথা বলতে চান না। মন্ত্রী অথবা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন। শুরু থেকেই তারা বিষয়টি দেখভাল করে থাকলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি তারাই ভালো জানেন।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর বক্তব্য জানতে কয়েক দফা তার দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খোলার বিষয়ে দেশটির ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশের দুই দফা আলোচনা হয়েছে। তবে ওই আলোচনায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রতিমন্ত্রীর কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি শ্রমবাজারটি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের মতো একটি বিষয়ে একাধিক অংশীজন যুক্ত থাকেন। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যেও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। কারণ বিষয়টি সরাসরি অভিবাসন ও বৈদেশিক সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত।
সরকারি পর্যায় থেকে প্রথমে আগস্টের শেষ দিকে মালয়েশিয়ার অভিবাসন কার্যক্রম শুরুর কথা বলা হয়েছিল। পরে সেই সময়সীমা পিছিয়ে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ নির্ধারণ করা হয়। তবে এখনো কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা বা দৃশ্যমান প্রস্তুতি দেখা যায়নি।

































