প্রীতিলতার ইতিহাস কি ভুলতে বসেছে নতুন প্রজন্ম?
- সর্বশেষ আপডেট ১২:২৬:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 62
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্নিযুগের অন্যতম নারী বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। চট্টগ্রামের ইতিহাসে সাহস ও আত্মত্যাগের প্রতীক হয়ে থাকা এই বিপ্লবীর স্মৃতি আজও বহন করছে নগরী। তবে সময়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে তার বিপ্লবী কর্মকাণ্ড কতটা পরিচিত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবে সশস্ত্র অভিযান চালায় একদল তরুণ বিপ্লবী। ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। মাস্টারদা সূর্য সেনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে যুক্ত হন।
অভিযান শেষে ফেরার সময় ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে আহত হন প্রীতিলতা। গ্রেপ্তার এড়ানোর পাশাপাশি সংগঠনের গোপন তথ্য রক্ষায় তিনি পটাশিয়াম সায়ানাইড গ্রহণ করে আত্মাহুতি দেন। মাত্র ২১ বছর বয়সে তার এই আত্মত্যাগ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।
তবে বর্তমান প্রজন্মের অনেকের কাছে প্রীতিলতার জীবন ও সংগ্রামের বিস্তারিত ইতিহাস অজানা বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। প্রীতিলতা সম্পর্কে কয়েকজন তরুণ জানান, তারা পরিবারের বড়দের কাছ থেকে তার কথা শুনেছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তার সাহসী ভূমিকা তাদের কাছে অনুপ্রেরণার। একই সঙ্গে তার জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে আরও তথ্যচিত্র, চলচ্চিত্র ও অন্যান্য উপস্থাপনা প্রয়োজন বলেও তারা মনে করেন।
প্রীতিলতার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পাঠ্যবইয়ে তার জীবন ও বিপ্লবী কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃতভাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
চট্টগ্রাম বিপ্লব ও বিপ্লবী স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক আলমগীর সবুজ বলেন, সময়ের সঙ্গে বিপ্লবীদের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। তিনি চান, সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তকে বিপ্লবীদের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করুক। এতে নতুন প্রজন্ম দেশের ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানতে পারবে এবং বিপ্লবীদের স্মৃতি বিস্মৃত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে।
১৯২৮ সালে চট্টগ্রামের ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন প্রীতিলতা। পরবর্তী সময়ে শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি যুক্ত হন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে।
মাত্র ২১ বছরের জীবনে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মত্যাগ দেখিয়ে যায়, স্বাধীনতার সংগ্রামে নারীর ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তার জীবন ও সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে; এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
































