মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ৩৩৮ এজেন্সির কাঠামো প্রত্যাখ্যান ইমার
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৬:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
- / 138
মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এজেন্সি বা দালালকে টাকা না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের অভিবাসনসংক্রান্ত ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য উল্লেখ নেই বলে অভিযোগ করেছে ইন্টারন্যাশনাল মাইগ্রেন্ট অ্যালায়েন্স (ইমা)। দ্রুত এ বিষয়ে ওয়েবসাইটে স্পষ্ট নির্দেশনা যুক্ত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর জন্য ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে যুক্ত করার সিদ্ধান্তকে ‘সিন্ডিকেটের নতুন রূপ’ হিসেবে উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইমার ১০ সদস্য সংগঠন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর ইস্কাটনে সেন্টার ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজ (সিডব্লিউসিএস) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনের শিরোনাম ছিল—‘মালয়েশিয়ায় শ্রমিক প্রেরণের ৩৩৮ এজেন্সি সিন্ডিকেটের নতুন রূপ; আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি’।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উইথনেস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ সিদ্দিকী। যৌথ বিবৃতি পাঠ করেন ওকাফের সভাপতি সৈয়দ মাহবুব এলাহী। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সিডব্লিউসিএসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. ইশরাত শামীম।
এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশী অভিবাসী মহিলা শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের (বমসা) উপপরিচালক প্রবীর কুমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) গবেষণা কর্মকর্তা মহিবুল্লাহ আল মারুফ, ভুক্তভোগী অভিবাসী কর্মী আনিসুর রহমান খান এবং ডিবির মিজানুর রহমান।
বক্তারা বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর চূড়ান্ত প্রক্রিয়া এখনও নির্ধারিত হয়নি বলে মন্ত্রণালয় স্বীকার করেছে। এ অবস্থায় শ্রমিকদের এখনই কোনো এজেন্সি বা দালালকে টাকা না দেওয়া, মেডিকেল পরীক্ষা না করানো এবং পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য অভিবাসনসংক্রান্ত সরকারি ওয়েবসাইটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
যৌথ বিবৃতিতে সৈয়দ মাহবুব এলাহী বলেন, গত ২৯ আগস্ট প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর কাজে ৩৩৮টি এজেন্সি যুক্ত থাকবে। এর মধ্যে ২৫টি সরাসরি এবং ৩১২টি সহযোগী হিসেবে কাজ করবে। তাঁর দাবি, এ সংখ্যা ২৫ কিংবা ৩৩৮; যাই হোক না কেন, নিয়ন্ত্রণ ও ব্যয় নির্ধারণের ক্ষমতা যদি সীমিত কিছু প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকে, তাহলে কাঠামোগতভাবে তা সিন্ডিকেটেরই রূপ নেয়। এর আর্থিক চাপ শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের ওপরই পড়ে।
তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা হলেও অনেক শ্রমিকের কাছ থেকে সাড়ে ৫ লাখ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ৩১ মে’র মধ্যে ১৬ হাজার ৭৯০ জন শ্রমিক পুরো টাকা পরিশোধ করে বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের কেউ টাকা ফেরত পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সৈয়দ মাহবুব এলাহী বলেন, অনিশ্চিত কোনো ব্যবস্থার কারণে যদি শ্রমিকদের আরও অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে কীভাবে?
মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার শ্রমিককে নীতিগতভাবে ‘জিরো-কস্টে’ পাঠানোর উদ্যোগ বাস্তবায়নে পাঁচ দফা দাবি জানায় ইমা। দাবিগুলো হলো;
যেকোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা সাব-সিন্ডিকেট প্রত্যাখ্যান করে সব বৈধ এজেন্সির জন্য সমান ও উন্মুক্ত সুযোগ নিশ্চিত করা।
সিন্ডিকেটে জড়িত এজেন্সিগুলো বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি স্বচ্ছ ও প্রকাশ্যভাবে যাচাইযোগ্য পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা।
ঘোষিত ‘জিরো-কস্ট’ নিয়োগ স্বাধীনভাবে যাচাই করে ধাপে ধাপে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্প্রসারণ করা।
আটকে থাকা ১৬ হাজার ৯৭০ শ্রমিকের সম্পূর্ণ অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়া।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, মর্যাদা ও সহজ অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
অধ্যাপক ড. ইশরাত শামীম বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে কার্যকর জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ব্যয় সরকারকে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
উইথনেস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ সিদ্দিকী বলেন, মালয়েশিয়ায় চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৬০০-এর বেশি শ্রমিককে পাঠানো হলেও সেখানে গিয়ে অনেকে দেখেছেন, চুক্তিতে উল্লেখ করা প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যক্রম বা অফিস নেই। ফলে চাকরিহীন অবস্থায় পড়ে থাকা শ্রমিকদের কেউ কেউ গ্রেপ্তারও হচ্ছেন।
তিনি বলেন, এসব শ্রমিকের অধিকার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে তাদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।




























