ঢাকা ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মূল অধিবেশনে ভাষণ বলে ইউনূসকে নিয়ে মিথ্যাচার

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৭:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 40

মূল অধিবেশনে ভাষণ বলে ইউনূসকে নিয়ে মিথ্যাচার

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ঘিরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যকে নিয়ে দেশের কিছু সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একটি অনুষ্ঠানে ইউনূস বক্তব্য দিলেও সেটিকে সাধারণ পরিষদের মূল সাধারণ বিতর্কের ভাষণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জাতিসংঘের নিজস্ব অনুষ্ঠানসূচি ও প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ‘সামাজিক ব্যবসা, তরুণ ও প্রযুক্তি’ শীর্ষক আয়োজনটি ছিল সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের একটি পার্শ্ব-আয়োজন। ওই অনুষ্ঠানে ইউনূস অন্যতম প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তাসহ অন্য অতিথিরাও অংশ নেন।

জাতিসংঘের ওয়েব টেলিভিশনের অনুষ্ঠানসূচিতে ২১ সেপ্টেম্বরের আয়োজনটিকে ‘হাই-লেভেল সাইড ইভেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সামাজিক ব্যবসা, তরুণ নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীল প্রযুক্তির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

অন্যদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মূল সাধারণ বিতর্ক শুরু হয় ২২ সেপ্টেম্বর। জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানসূচিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া আয়োজনটিকে সাধারণ বিতর্ক হিসেবে আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ ২১ সেপ্টেম্বরের পার্শ্ব-আয়োজন এবং ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া মূল সাধারণ বিতর্ক দুটি পৃথক অনুষ্ঠান।

ফলে ইউনূস জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বক্তব্য দিয়েছেন; এ তথ্য সঠিক। তবে ২১ সেপ্টেম্বরের ওই বক্তব্যকে সাধারণ পরিষদের মূল সাধারণ বিতর্কের ভাষণ হিসেবে উপস্থাপন করলে অনুষ্ঠানের প্রকৃতি সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হয়।

জাতিসংঘের নথিতেও বিষয়টি স্পষ্ট। ২১ সেপ্টেম্বরের আয়োজনের নথিতে অনুষ্ঠানটিকে ‘সামাজিক ব্যবসা, তরুণ ও প্রযুক্তি’ বিষয়ক ইভেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ইউনূসের পাশাপাশি সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের বক্তব্যের কথাও রয়েছে। এটিকে সাধারণ পরিষদের মূল সাধারণ বিতর্ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।

২২ সেপ্টেম্বরের মূল সাধারণ বিতর্কের জন্য জাতিসংঘ আলাদা অনুষ্ঠানসূচি ও নথি প্রকাশ করেছে। ওই পর্বে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। ফলে সাধারণ পরিষদের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত কোনো অনুষ্ঠানকে শুধু স্থান বিবেচনায় মূল অধিবেশনের ভাষণ হিসেবে বর্ণনা করা যায় না।

২১ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠানে ইউনূস ক্ষুদ্রঋণ, সামাজিক ব্যবসা, তরুণ উদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটির মূল আলোচনাও ছিল সামাজিক ব্যবসা, তরুণ নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীল প্রযুক্তিকে ঘিরে।

এ ধরনের পার্শ্ব-আয়োজন সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, আন্তর্জাতিক সংস্থা, গবেষক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। তবে এসব অনুষ্ঠান সাধারণ পরিষদের মূল সাধারণ বিতর্কের প্লেনারি অধিবেশন নয়।

দেশীয় কয়েকটি সংবাদ প্রতিবেদনে ইউনূসের বক্তব্যকে ‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও কিছু প্রতিবেদনে বিষয়টির প্রকৃতি স্পষ্ট করা হয়েছে। যেমন, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে তাকে উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-আয়োজনে বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ডেইলি নিউ নেশনের প্রতিবেদনেও ২১ সেপ্টেম্বরের আয়োজনকে ‘সাইড ইভেন্ট’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

সুতরাং ২১ সেপ্টেম্বরের ঘটনাটির নির্ভুল বর্ণনা হলো; ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের একটি পার্শ্ব-আয়োজনে বক্তব্য দিয়েছেন। তাকে সাধারণ পরিষদের মূল সাধারণ বিতর্কের ভাষণদাতা হিসেবে উপস্থাপন করলে জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানসূচির সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মূল অধিবেশনে ভাষণ বলে ইউনূসকে নিয়ে মিথ্যাচার

সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৭:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ঘিরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যকে নিয়ে দেশের কিছু সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একটি অনুষ্ঠানে ইউনূস বক্তব্য দিলেও সেটিকে সাধারণ পরিষদের মূল সাধারণ বিতর্কের ভাষণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জাতিসংঘের নিজস্ব অনুষ্ঠানসূচি ও প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ‘সামাজিক ব্যবসা, তরুণ ও প্রযুক্তি’ শীর্ষক আয়োজনটি ছিল সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের একটি পার্শ্ব-আয়োজন। ওই অনুষ্ঠানে ইউনূস অন্যতম প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তাসহ অন্য অতিথিরাও অংশ নেন।

জাতিসংঘের ওয়েব টেলিভিশনের অনুষ্ঠানসূচিতে ২১ সেপ্টেম্বরের আয়োজনটিকে ‘হাই-লেভেল সাইড ইভেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সামাজিক ব্যবসা, তরুণ নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীল প্রযুক্তির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

অন্যদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মূল সাধারণ বিতর্ক শুরু হয় ২২ সেপ্টেম্বর। জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানসূচিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া আয়োজনটিকে সাধারণ বিতর্ক হিসেবে আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ ২১ সেপ্টেম্বরের পার্শ্ব-আয়োজন এবং ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া মূল সাধারণ বিতর্ক দুটি পৃথক অনুষ্ঠান।

ফলে ইউনূস জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বক্তব্য দিয়েছেন; এ তথ্য সঠিক। তবে ২১ সেপ্টেম্বরের ওই বক্তব্যকে সাধারণ পরিষদের মূল সাধারণ বিতর্কের ভাষণ হিসেবে উপস্থাপন করলে অনুষ্ঠানের প্রকৃতি সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হয়।

জাতিসংঘের নথিতেও বিষয়টি স্পষ্ট। ২১ সেপ্টেম্বরের আয়োজনের নথিতে অনুষ্ঠানটিকে ‘সামাজিক ব্যবসা, তরুণ ও প্রযুক্তি’ বিষয়ক ইভেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ইউনূসের পাশাপাশি সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের বক্তব্যের কথাও রয়েছে। এটিকে সাধারণ পরিষদের মূল সাধারণ বিতর্ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।

২২ সেপ্টেম্বরের মূল সাধারণ বিতর্কের জন্য জাতিসংঘ আলাদা অনুষ্ঠানসূচি ও নথি প্রকাশ করেছে। ওই পর্বে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। ফলে সাধারণ পরিষদের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত কোনো অনুষ্ঠানকে শুধু স্থান বিবেচনায় মূল অধিবেশনের ভাষণ হিসেবে বর্ণনা করা যায় না।

২১ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠানে ইউনূস ক্ষুদ্রঋণ, সামাজিক ব্যবসা, তরুণ উদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটির মূল আলোচনাও ছিল সামাজিক ব্যবসা, তরুণ নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীল প্রযুক্তিকে ঘিরে।

এ ধরনের পার্শ্ব-আয়োজন সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, আন্তর্জাতিক সংস্থা, গবেষক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। তবে এসব অনুষ্ঠান সাধারণ পরিষদের মূল সাধারণ বিতর্কের প্লেনারি অধিবেশন নয়।

দেশীয় কয়েকটি সংবাদ প্রতিবেদনে ইউনূসের বক্তব্যকে ‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও কিছু প্রতিবেদনে বিষয়টির প্রকৃতি স্পষ্ট করা হয়েছে। যেমন, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে তাকে উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-আয়োজনে বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ডেইলি নিউ নেশনের প্রতিবেদনেও ২১ সেপ্টেম্বরের আয়োজনকে ‘সাইড ইভেন্ট’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

সুতরাং ২১ সেপ্টেম্বরের ঘটনাটির নির্ভুল বর্ণনা হলো; ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের একটি পার্শ্ব-আয়োজনে বক্তব্য দিয়েছেন। তাকে সাধারণ পরিষদের মূল সাধারণ বিতর্কের ভাষণদাতা হিসেবে উপস্থাপন করলে জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানসূচির সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না।