পাঁচ মাসে দেশে ধর্ষণের শিকার ২৫০ জন
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:০৬:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
- / 149
চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসের মধ্যেই সারা দেশে সর্বমোট ১ হাজার ৩৫ জন নারী ও কন্যা শিশু বিভিন্ন ধরনের পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে ২৫০ জন নারী ও শিশু সরাসরি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এছাড়া ৬৫ জন ভুক্তভোগী সংঘবদ্ধ বা গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন, ১৮ জনকে নির্মমভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং আরও ৫৩ জন নারী ও শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে।
আজ শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ‘আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে’ আয়োজিত এক বিশেষ নাগরিক সংলাপে এই উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’ শীর্ষক এই সংলাপে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মীরা অংশ নেন।
উক্ত নাগরিক সংলাপে অংশ নিয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী সামাজিক এই সহিংসতা ও অবক্ষয় প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ পেশ করেন। তিনি তৃণমূল বা স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় নেতাদের এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত করার এবং নারী নির্যাতন রোধে ভূমিকা রাখা স্বনামধন্য ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, দেশের সাবেক বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেবল ভাইরাল হওয়া ঘটনাগুলোর দিকে নজর দিলে চলবে না। ভাইরাল সংবাদের বাইরে লোকচক্ষুর অন্তরালে ঘটে যাওয়া সব ধরনের নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনার সুনির্দিষ্ট ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এই ধরনের জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগে এবং প্রশাসনের-এর ভেতরে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংলাপের প্রধান অতিথি, বর্তমান সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন দেশের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশে নারী ও শিশু সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনের কোনো অভাব নেই; আমাদের মূল সমস্যাটা আসলে আইনের সঠিক ও দ্রুত প্রয়োগ এবং মানুষের সামাজিক মানসিকতায়।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কেবল আইন বা শাস্তি দিয়ে এই সামাজিক ব্যাধি দূর করা সম্ভব নয়। নারী ও শিশুদের অধিকার পুরোপুরি রক্ষা এবং সমাজে তাদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশের সরকার, আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থা এবং সাধারণ জনগণকে একই সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সচেতনতার সাথে কাজ করার জোরালো আহ্বান জানান মন্ত্রী।

































