তালাকের অজুহাতে ভরণপোষণ বন্ধ নয়: হাইকোর্ট
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৫১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
- / 34
আইন অনুযায়ী প্রমাণিত বা কার্যকর নয়- এমন তালাকের অজুহাতে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ কিংবা দেনমোহর এড়ানোর সুযোগ নেই। একই সঙ্গে নাবালক সন্তানের ভরণপোষণকে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র আইনগত অধিকার হিসেবে ঘোষণা করে যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। সম্প্রতি বিচারপতি আবদুর রহমানের একক বেঞ্চের দেওয়া এ রায়ের অনুলিপি বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রকাশ্যে আসে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালে এক দম্পতির বিয়ে হয়। পরে স্ত্রী ও তাদের নাবালক কন্যার পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের মামলা করা হয়। স্বামী দাবি করেন, তিনি আগেই স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। তবে ফ্যামিলি কোর্টে তিনি আইন অনুযায়ী সেই তালাকের বৈধতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন। ফলে আদালত স্ত্রী ও সন্তানের পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের ডিক্রি দেন।
এরপর স্বামী নতুন করে একটি ঘোষণামূলক মামলা করে তালাক কার্যকর হয়েছে দাবি করে আগের ডিক্রি বাস্তবায়ন স্থগিতের আবেদন করেন। নিম্ন আদালত সেই আবেদন খারিজ করলে বিষয়টি হাইকোর্টে গড়ায়।
রায়ে আদালত বলেন, শুধু নতুন মামলা করা হয়েছে- এই অজুহাতে চূড়ান্ত ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না। কোনো উচ্চতর আদালত ডিক্রি স্থগিত না করা পর্যন্ত তা কার্যকর থাকবে এবং এক্সিকিউশন কোর্ট সেটি বাস্তবায়ন করতে বাধ্য।
আদালত আরও স্পষ্ট করেন, আইন অনুযায়ী প্রমাণিত নয় বা কার্যকর নয়- এমন তালাকের কোনো আইনগত মূল্য নেই। ফলে এমন তালাক দেখিয়ে স্ত্রী বা সন্তানের ভরণপোষণ এবং দেনমোহরের দায় এড়ানো যাবে না।
রায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে হাইকোর্ট বলেন, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ মা-বাবার পারিবারিক বিরোধের ওপর নির্ভরশীল নয়। এটি শিশুর নিজস্ব আইনগত অধিকার। তালাক নিয়ে বিরোধ থাকলেও বাবা সন্তানের ভরণপোষণের দায় এড়াতে পারবেন না।
আদালত আরও বলেন, বিবাহ, তালাক, দেনমোহর ও ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির একমাত্র এখতিয়ার ফ্যামিলি কোর্টের। এক্সিকিউশন কোর্ট নতুন করে তালাক বৈধ কি না, সে প্রশ্ন বিচার করতে পারে না।
হাইকোর্ট রুল খারিজ করে নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রাখেন। একই সঙ্গে স্বামীকে দেনমোহরের বকেয়া এবং স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের সব বকেয়া ভরণপোষণ পরিশোধের নির্দেশ দেন।
আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, এই রায় নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে আদালতের চূড়ান্ত রায়কে নতুন মামলা দিয়ে দীর্ঘসূত্রতায় ফেলার প্রবণতার বিরুদ্ধেও এটি একটি শক্ত বার্তা।



































