মানবপাচার প্রতিরোধে গণমাধ্যম ও সংস্কৃতির ভূমিকার ওপর জোর
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৩:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 29
মানবপাচারের মতো জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধে গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও সক্রিয় ও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টজনেরা। তাদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে মানবপাচার প্রতিরোধে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
বিশ্ব মানবপাচার প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ও বাংলাদেশ আর্ট ক্রিটিসিজম ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘মানবপাচার প্রতিরোধে গণমাধ্যম ও সংস্কৃতির ভূমিকা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এমপি। প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেজাউল করিম সোহাগ।
সেমিনারে বাংলাদেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস মিশন (আইজেএম), মানবপাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ‘কোটনেট’-এর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা, সাংবাদিক, লেখক, শিল্পী, শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আর্ট ক্রিটিসিজম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি মো. মানজুর হোছাঈন মাহি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক রতন মালো।
সেমিনারের শুরুতে কথক বিশ্বাস জয়ের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানবপাচারবিষয়ক সচেতনতামূলক গম্ভীরা গান পরিবেশন করেন। পরে চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক শিল্পী এস এম রকিবুল হাসান বাঁশির সুরে মানবপাচারের শিকার মানুষের বেদনা ও সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, মানবপাচারের মতো অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার প্রয়োজন। তিনি বলেন, সমাজে সাংস্কৃতিক চর্চা কমে যাওয়ায় অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। মানবপাচার রোধে আইনের শাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ প্রতারণা, শোষণ ও পাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে পারেন।
বিশেষ অতিথি ফারজানা শারমীন এমপি বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের তথ্য-উপাত্তনির্ভর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা, পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান বক্তা অধ্যাপক রেজাউল করিম সোহাগ তার উপস্থাপনায় বাংলাদেশ ও বিশ্বে মানবপাচারের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি আন্তঃদেশীয় মানবপাচারের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ মানবপাচার, জোরপূর্বক শ্রম এবং শিশুদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণকে মানবপাচারের গুরুত্বপূর্ণ রূপ হিসেবে উল্লেখ করেন। এসব অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সম্প্রতি পুনঃপ্রণীত ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’-এর যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে বলেন, একটি পরিবারের একজন সদস্য মানবপাচারের শিকার হওয়া মানে শুধু একজন মানুষকে হারানো নয়, বরং তার জ্ঞান, দক্ষতা ও সংস্কৃতিরও অপূরণীয় ক্ষতি হওয়া। তিনি জানান, বাংলাদেশ আর্ট ক্রিটিসিজম ট্রাস্ট শিল্প ও সংস্কৃতিভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে মানবপাচারসহ সামাজিক নানা সমস্যা মোকাবিলায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
এ বছরের বিশ্ব মানবপাচার প্রতিরোধ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘প্রতারণার আড়ালের ফাঁদ’। অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে মানবপাচার, সাইবার দাসত্ব এবং মানবিক সংকটের বিষয়টি সামনে আনতেই এই প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ আর্ট ক্রিটিসিজম ট্রাস্ট একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যা শিল্প, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ে সেমিনার, গবেষণা, আর্ট ওয়ার্কশপ, প্রদর্শনী, প্রকাশনা এবং অ্যাডভোকেসিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি শিল্পকর্ম নিয়ে আলোচনা, শিল্পীদের সহায়তা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে কাজ করে।
অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের পেশাদার সংগঠন হিসেবে নৈতিক সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনে ভূমিকা রেখে চলেছে।





































