ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকায় মাদ্রাসার বাথরুমে শিশুর মরদেহ, নির্যাতনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:২১:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 8

ঢাকায় শিশুর মৃত্যু ঘিরে মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অভিযোগ

রাজধানীর কদমতলীর রায়েরবাগের জোড়াখাম্বা এলাকায় একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার বাথরুম থেকে ১২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মো. নাঈম শেখের পরিবারের অভিযোগ, মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুটি আত্মহত্যা করেছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে রওজাতুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসার তৃতীয় তলার একটি বাথরুম থেকে নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কদমতলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাদ্দাম হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাথরুম থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে তার শরীরে বেতের আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

তিনি বলেন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাঈম বাথরুমের শাওয়ারের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে শরীরে আঘাতের দাগ থাকায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মরদেহ ঘিরে কান্নায় ভেঙে পড়েন নাঈমের মা নাজমা বেগম ও স্বজনরা। তারা অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার শিক্ষকের মারধরের কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

নাঈমের মা বলেন, তার ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না। তিনি দাবি করেন, যদি ফাঁস দিয়ে মৃত্যু হতো, তাহলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকত না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিচার দাবি করেন।

নিহতের মামা সুমন অভিযোগ করেন, নাঈম হেফজ বিভাগে পড়াশোনা করত। ঘটনার আগের দিন তাকে বেত দিয়ে মারধর করা হয়েছিল। সেই নির্যাতনের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে পরিবারের ধারণা।

নিহত নাঈম শেখ রিকশাচালক বাবু শেখের বড় ছেলে। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ঢাকায় মাদ্রাসার বাথরুমে শিশুর মরদেহ, নির্যাতনের অভিযোগ

সর্বশেষ আপডেট ০৮:২১:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর কদমতলীর রায়েরবাগের জোড়াখাম্বা এলাকায় একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার বাথরুম থেকে ১২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মো. নাঈম শেখের পরিবারের অভিযোগ, মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুটি আত্মহত্যা করেছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে রওজাতুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসার তৃতীয় তলার একটি বাথরুম থেকে নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কদমতলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাদ্দাম হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাথরুম থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে তার শরীরে বেতের আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

তিনি বলেন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাঈম বাথরুমের শাওয়ারের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে শরীরে আঘাতের দাগ থাকায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মরদেহ ঘিরে কান্নায় ভেঙে পড়েন নাঈমের মা নাজমা বেগম ও স্বজনরা। তারা অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার শিক্ষকের মারধরের কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

নাঈমের মা বলেন, তার ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না। তিনি দাবি করেন, যদি ফাঁস দিয়ে মৃত্যু হতো, তাহলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকত না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিচার দাবি করেন।

নিহতের মামা সুমন অভিযোগ করেন, নাঈম হেফজ বিভাগে পড়াশোনা করত। ঘটনার আগের দিন তাকে বেত দিয়ে মারধর করা হয়েছিল। সেই নির্যাতনের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে পরিবারের ধারণা।

নিহত নাঈম শেখ রিকশাচালক বাবু শেখের বড় ছেলে। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।