মুখোমুখি মির্জা ফখরুল ও জামায়াত আমীর
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৯:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 40
রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরোধী দলের ভূমিকা ও সরকারের আচরণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। একজন বিরোধী দলের ভাষাকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন, অন্যজন অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকারও আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান বিরোধী দলের নেতারা এমন ভাষায় কথা বলছেন, যেভাবে একসময় শেখ হাসিনা বলতেন।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং সেই লক্ষ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে জুলাই সনদ প্রণয়ন সম্ভব হয়েছে। বিএনপি জুলাই সনদ মানে না; এমন প্রচারণাকে বিভ্রান্তিকর দাবি করে তিনি বলেন, দলটি শুরু থেকেই সংস্কারের পক্ষে রয়েছে এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়নে কাজ করছে।
সংবিধান সংস্কার কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এ কমিশন গঠন করা হয়েছে, যা বিএনপি শুরু থেকেই সমর্থন করেনি। তবে সংসদের মাধ্যমে আলোচনা করে মতপার্থক্য দূর করার আহ্বান জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিরোধী দলের কাজ সরকারের সমালোচনা করা, তবে তা সংসদের ভেতরে হলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও শক্তিশালী হয়। রাস্তায় আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও সেটি যেন সংঘাতে রূপ না নেয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ করছে না, যা ইতিবাচক দিক। একই সঙ্গে বেকার সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, রোববার (২ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ লেবার পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত ‘জান দিব, জুলাই দিব না’ শীর্ষক আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের আচরণ আগের আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরের নির্যাতনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরিবর্তে সরকার একই ধরনের দমন-পীড়নের পথে হাঁটছে। তার ভাষায়, “আগের সরকার যা করেছে, এখন তারই পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে।”
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামতকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। তিনি ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফল অস্বীকারের ঐতিহাসিক পরিণতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, জনগণের রায়কে সম্মান জানানোই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি।
বিএনপির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে জামায়াতের সমর্থন ছাড়া বিএনপির সরকার গঠন সম্ভব হতো না। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দুই নেতার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিরোধী রাজনীতি, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।































