ঢাকা ১০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবাসন বাজারের হাতে, নিম্নবিত্তের ঠাঁই কোথায়: আইপিডি

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:১০:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 15

ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)

দেশের শহরগুলোতে বাড়ছে আবাসন সংকট, অথচ নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা এখনো অপ্রতুল। আবাসন খাতকে বাজার ও বেসরকারি উদ্যোগের ওপর ছেড়ে দেওয়ার ফলে শহরের বড় একটি জনগোষ্ঠী কার্যত প্রাতিষ্ঠানিক আবাসনের বাইরে পড়ে যাচ্ছে বলে মনে করছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)।

সংগঠনটি বলছে, সবার জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের অঙ্গীকার থাকলেও জাতীয় আবাসন নীতি ২০১৬ বাস্তবায়নে এখনো কার্যকর কর্মপরিকল্পনা নেই। ফলে আবাসন সংকট দিন দিন গভীর হচ্ছে। এ অবস্থায় আবাসনকে সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে এনে জাতীয় আবাসন নীতি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে আইপিডি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে আইপিডি বলেছে, আবাসনকে শুধু বাজারের হাতে ছেড়ে দিলে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রকে পরিকল্পনা, জমি, অর্থায়ন ও নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

সংগঠনটির মতে, সংকটটি শুধু ঢাকার নয়; এটি দেশের সামগ্রিক নগর ও স্থানিক পরিকল্পনার দুর্বলতার প্রতিফলন। বিভাগীয় ও জেলা শহরসহ অধিকাংশ পৌর এলাকায় পরিকল্পিত আবাসন কাঠামো না থাকায় কৃষিজমি, জলাভূমি ও প্রাকৃতিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা ধ্বংস করে অপরিকল্পিতভাবে শহর সম্প্রসারণ হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জলাবদ্ধতা, যানজট ও নাগরিক সেবার ওপর।

অন্যদিকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের মতো কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক শহরে বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ প্রাতিষ্ঠানিক আবাসনের সুযোগ না পেয়ে বস্তি ও অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বসবাস করছেন। আইপিডির মতে, এসব বস্তি উচ্ছেদ করে সমস্যার সমাধান হবে না। বরং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের জোগান বাড়ানো এবং বিদ্যমান বসতিগুলোর জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

আইপিডি প্রস্তাব দিয়েছে, সরকারি-বেসরকারি যেকোনো আবাসন প্রকল্পে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য অন্তত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ জমি অথবা আবাসিক ইউনিট সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হোক। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নগর এলাকায় পর্যাপ্ত জমির জোগান নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা প্রয়োজন।

সংগঠনটি বস্তি ও অনানুষ্ঠানিক বসতিতে ‘অন-সাইট আপগ্রেডেশন’ পদ্ধতি চালুরও সুপারিশ করেছে। এর মাধ্যমে নিরাপদ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, আলো-বাতাস ও চলাচলের পথ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাবলিক-প্রাইভেট-কমিউনিটি পার্টনারশিপের মাধ্যমে সাশ্রয়ী আবাসন গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

আবাসন সংকট কমাতে ঢাকাকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ কমানোর ওপরও জোর দিয়েছে আইপিডি। তাদের মতে, বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোকে পরিকল্পিত শিল্প, কর্মসংস্থান ও আবাসনের সমন্বিত ‘গ্রোথ সেন্টার’ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এতে একদিকে ঢাকার ওপর অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ কমবে, অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবাসন ও নাগরিক সুবিধার ভারসাম্য তৈরি হবে।

নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের আবাসনের জন্য ‘জাতীয় সাশ্রয়ী আবাসন তহবিল’ গঠন এবং কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ব্যবস্থা করার সুপারিশও করেছে আইপিডি। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চল, ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বড় শহরগুলোতে শ্রমজীবীদের জন্য সরকারি উদ্যোগে ভাড়াভিত্তিক সামাজিক আবাসন নির্মাণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আইপিডির মতে, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোতে দক্ষ নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়োগ এবং কার্যকর মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া আবাসন সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে কৃষিজমি ও জলাভূমি রক্ষা করে পরিবেশবান্ধব আবাসন এবং টেকসই নির্মাণ প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

সংগঠনটি বলছে, শুধু ঢাকাকে কেন্দ্র করে আবাসন নীতি তৈরি করে দেশের সংকট মোকাবিলা করা যাবে না। জাতীয় আবাসন নীতি ২০১৬ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বড় শহর থেকে প্রান্তিক পৌরসভা পর্যন্ত সাশ্রয়ী আবাসন, নাগরিক সুবিধা ও পরিকল্পিত অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।

আইপিডির ভাষ্য, আবাসনকে সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে না আনলে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে সামাজিক ও সাশ্রয়ী আবাসনকে নগর উন্নয়নের কেন্দ্রে নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আবাসন বাজারের হাতে, নিম্নবিত্তের ঠাঁই কোথায়: আইপিডি

সর্বশেষ আপডেট ০৮:১০:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

দেশের শহরগুলোতে বাড়ছে আবাসন সংকট, অথচ নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা এখনো অপ্রতুল। আবাসন খাতকে বাজার ও বেসরকারি উদ্যোগের ওপর ছেড়ে দেওয়ার ফলে শহরের বড় একটি জনগোষ্ঠী কার্যত প্রাতিষ্ঠানিক আবাসনের বাইরে পড়ে যাচ্ছে বলে মনে করছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)।

সংগঠনটি বলছে, সবার জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের অঙ্গীকার থাকলেও জাতীয় আবাসন নীতি ২০১৬ বাস্তবায়নে এখনো কার্যকর কর্মপরিকল্পনা নেই। ফলে আবাসন সংকট দিন দিন গভীর হচ্ছে। এ অবস্থায় আবাসনকে সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে এনে জাতীয় আবাসন নীতি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে আইপিডি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে আইপিডি বলেছে, আবাসনকে শুধু বাজারের হাতে ছেড়ে দিলে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রকে পরিকল্পনা, জমি, অর্থায়ন ও নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

সংগঠনটির মতে, সংকটটি শুধু ঢাকার নয়; এটি দেশের সামগ্রিক নগর ও স্থানিক পরিকল্পনার দুর্বলতার প্রতিফলন। বিভাগীয় ও জেলা শহরসহ অধিকাংশ পৌর এলাকায় পরিকল্পিত আবাসন কাঠামো না থাকায় কৃষিজমি, জলাভূমি ও প্রাকৃতিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা ধ্বংস করে অপরিকল্পিতভাবে শহর সম্প্রসারণ হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জলাবদ্ধতা, যানজট ও নাগরিক সেবার ওপর।

অন্যদিকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের মতো কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক শহরে বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ প্রাতিষ্ঠানিক আবাসনের সুযোগ না পেয়ে বস্তি ও অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বসবাস করছেন। আইপিডির মতে, এসব বস্তি উচ্ছেদ করে সমস্যার সমাধান হবে না। বরং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের জোগান বাড়ানো এবং বিদ্যমান বসতিগুলোর জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

আইপিডি প্রস্তাব দিয়েছে, সরকারি-বেসরকারি যেকোনো আবাসন প্রকল্পে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য অন্তত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ জমি অথবা আবাসিক ইউনিট সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হোক। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নগর এলাকায় পর্যাপ্ত জমির জোগান নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা প্রয়োজন।

সংগঠনটি বস্তি ও অনানুষ্ঠানিক বসতিতে ‘অন-সাইট আপগ্রেডেশন’ পদ্ধতি চালুরও সুপারিশ করেছে। এর মাধ্যমে নিরাপদ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, আলো-বাতাস ও চলাচলের পথ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাবলিক-প্রাইভেট-কমিউনিটি পার্টনারশিপের মাধ্যমে সাশ্রয়ী আবাসন গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

আবাসন সংকট কমাতে ঢাকাকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ কমানোর ওপরও জোর দিয়েছে আইপিডি। তাদের মতে, বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোকে পরিকল্পিত শিল্প, কর্মসংস্থান ও আবাসনের সমন্বিত ‘গ্রোথ সেন্টার’ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এতে একদিকে ঢাকার ওপর অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ কমবে, অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবাসন ও নাগরিক সুবিধার ভারসাম্য তৈরি হবে।

নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের আবাসনের জন্য ‘জাতীয় সাশ্রয়ী আবাসন তহবিল’ গঠন এবং কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ব্যবস্থা করার সুপারিশও করেছে আইপিডি। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চল, ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বড় শহরগুলোতে শ্রমজীবীদের জন্য সরকারি উদ্যোগে ভাড়াভিত্তিক সামাজিক আবাসন নির্মাণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আইপিডির মতে, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোতে দক্ষ নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়োগ এবং কার্যকর মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া আবাসন সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে কৃষিজমি ও জলাভূমি রক্ষা করে পরিবেশবান্ধব আবাসন এবং টেকসই নির্মাণ প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

সংগঠনটি বলছে, শুধু ঢাকাকে কেন্দ্র করে আবাসন নীতি তৈরি করে দেশের সংকট মোকাবিলা করা যাবে না। জাতীয় আবাসন নীতি ২০১৬ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বড় শহর থেকে প্রান্তিক পৌরসভা পর্যন্ত সাশ্রয়ী আবাসন, নাগরিক সুবিধা ও পরিকল্পিত অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।

আইপিডির ভাষ্য, আবাসনকে সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে না আনলে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে সামাজিক ও সাশ্রয়ী আবাসনকে নগর উন্নয়নের কেন্দ্রে নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।