দাবি মির্জা ফখরুলের
বিরোধী দল এখন শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪১:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 78
বিরোধী দলের বর্তমান বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিরোধী দলের নেতারা এখন এমন ভাষায় কথা বলছেন, যেভাবে একসময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কথা বলতেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ফ্যাসিবাদ পতনের পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় জুলাই সনদ প্রণয়ন সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি মহল থেকে প্রচার করা হচ্ছে যে বিএনপি জুলাই সনদ গ্রহণ করেনি। এটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। বিএনপি সবসময় সংস্কারের পক্ষে ছিল এবং জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসেছে। দলটি জুলাই সনদের বাস্তবায়ন থেকে সরে যাচ্ছে; এমন প্রচারণার কোনো ভিত্তি নেই।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণভোটে উত্থাপিত চারটি বিষয়ের মধ্যে তিনটিতে বিএনপির সম্মতি রয়েছে। তবে সংবিধান সংস্কার কমিশনের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টিকে তিনি জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এ বিষয়ে বিএনপি শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের পর জুলাই ঘোষণার প্রতিটি অংশে বিএনপি স্বাক্ষর করেছে এবং তা বাস্তবায়নের কাজও শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংসদে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তবে ‘সংস্কার’ না ‘সংশোধন’; এ ধরনের শব্দগত বিতর্ক অযথা বিভাজন সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধী দলের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, সংসদই মতপার্থক্য নিরসনের সর্বোত্তম জায়গা। সেখানে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। মতৈক্য না হলে বিরোধিতা করা যেতে পারে। কিন্তু বর্তমান বিরোধী নেতাদের বক্তব্যে অতীতের শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভাষার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের দায়িত্ব সরকারের সমালোচনা করা এবং ভুলত্রুটি তুলে ধরা। তবে সেটি সংসদের ভেতরে হলে গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্তিশালী হয়। রাস্তায় আন্দোলনও গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ, কিন্তু তা যেন কোনোভাবেই সংঘাতের দিকে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন। তাকে সহযোগিতা না করে যদি সবসময় নেতিবাচক বক্তব্য দিয়ে পেছনে টেনে ধরার চেষ্টা করা হয়, তাহলে দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে। রাজনৈতিক সংঘাত নয়, সহযোগিতার পরিবেশই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে।
গণমাধ্যম প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ নেই, যা একটি ইতিবাচক দিক। বেকার সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের নানা সমস্যা সমাধানে ধৈর্য ও সহনশীলতার প্রয়োজন। মাত্র পাঁচ মাসে সরকারের কাছ থেকে সব সমস্যার সমাধান প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। সরকারকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।
জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের পরিবার ও সন্তানদের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে এবং এ বিষয়ে বিএনপি গুরুত্ব দেবে।
আলোচনা সভায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, ডিইউজের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।






























