ঢাকা ০৩:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেই ভারতেই হার নিগারদের

ক্রীড়া ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:১১:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 10

সেই ভারতেই হার নিগারদের

পাহাড়ের কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা করোগি অ্যাথলেটিক পার্ক। চারপাশের সবুজে ঘেরা স্টেডিয়াম, আর মাঠজুড়ে ছড়িয়ে থাকা নয়টি গ্যালারি; সব মিলিয়ে দারুণ এক আবহ। বেসবলের জন্য পরিচিত এই মাঠে এবার ক্রিকেটের উত্তাপ। তবে সেই চিরসবুজ মাঠেই রংহীন বাংলাদেশের মেয়েরা। এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটের সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে কোনো বিভাগেই নিজেদের সেরাটা দিতে পারেনি নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। ফলে ১১৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরে গেমসের স্বর্ণজয়ের স্বপ্ন শেষ হয়েছে বাংলাদেশের।

আগামীকাল ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে সারোয়ার ইমরানের দল। এর আগে সর্বশেষ এশিয়ান গেমসেও সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ।

নারী ক্রিকেটে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের লড়াইয়ে যেন বারবার একই গল্প। চলতি মাসে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালেও ভারতের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার এশিয়ান গেমসের শেষ চারেও একই প্রতিপক্ষের কাছে বিদায় নিতে হলো লাল-সবুজের দলকে।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শেফালি ভার্মার দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ৪ উইকেটে ১৯৫ রান সংগ্রহ করে ভারত। এশিয়া কাপের সেমিফাইনালেও বাংলাদেশের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়েছিলেন শেফালি। সেবার তিনবার জীবন পেয়েছিলেন বাংলাদেশের ফিল্ডারদের কাছ থেকে। তবে এবার শুরু থেকেই নিখুঁত ব্যাটিং করে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন তিনি।

পেস কিংবা স্পিন; কোনোটিই শেফালিকে থামাতে পারেনি। ৪৯ বলে ঠিক ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন ভারতীয় ওপেনার। তার ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ৯টি ছক্কা। গ্যালারিতে উপস্থিত কয়েকশ দর্শকের বড় অংশই ছিল ভারত সমর্থক। শেফালি সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো গ্যালারি। বাংলাদেশের হয়ে একটি করে উইকেট নেন মারুফা আক্তার, সানজিদা আক্তার মেঘলা, রাবেয়া খান ও নাহিদা আক্তার।

করোগি স্পোর্টস পার্কের উইকেটটি ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ সহায়ক। আগের সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৭৭ রান করেও হেরেছিল পাকিস্তান। তাই প্রায় ২০০ রানের লক্ষ্য পেলেও ভালো ব্যাটিং করতে পারলে লড়াই জমিয়ে তোলার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে।

কিন্তু শুরু থেকেই সেই সম্ভাবনা নষ্ট করে দেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ভারতের মতো ঝড়ো শুরু করতে পারেননি দুই ওপেনার দিলারা আক্তার ও জুরাইরা ফেরদৌস। রানের খাতা খোলার আগেই নন্দিনী শর্মার বলে আউট হন জুরাইরা। দলীয় ৪ রানেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর সুবহানা মুস্তারিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মাত্র ৪ রান করে ফেরেন সাজঘরে। ৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেই চাপ কাটানোর চেষ্টা করেন দিলারা আক্তার ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। কিন্তু পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে চার মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন নিগার। ৯ বলে ৯ রান করে ফিরতে হয় তাকে।

প্রথম ছয় ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩৯ রান করে বাংলাদেশ। বিপরীতে ভারত পাওয়ার প্লেতে তুলেছিল ৭২ রান। ম্যাচের পার্থক্যটা তখনই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এরপর বাংলাদেশের ইনিংসে কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন দিলারা আক্তার। তবে রানের গতি বাড়াতে গিয়ে দীপ্তি শর্মার বলে আউট হন তিনি। ৪টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ২৩ বলে ২৭ রান করেন দিলারা। ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫৩ রান। একই সময়ে ভারতের স্কোর ছিল ৯৭।

শেষ পর্যন্ত ভারতের স্পিন ও পেস আক্রমণের সামনে ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং। দিলারা, শারমিন আক্তার ও সুলতানা খাতুন ছাড়া কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘর ছুঁতে পারেননি। মাত্র ৮১ রানেই অলআউট হয়ে ১১৪ রানের বড় ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সেই ভারতেই হার নিগারদের

সর্বশেষ আপডেট ০২:১১:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাহাড়ের কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা করোগি অ্যাথলেটিক পার্ক। চারপাশের সবুজে ঘেরা স্টেডিয়াম, আর মাঠজুড়ে ছড়িয়ে থাকা নয়টি গ্যালারি; সব মিলিয়ে দারুণ এক আবহ। বেসবলের জন্য পরিচিত এই মাঠে এবার ক্রিকেটের উত্তাপ। তবে সেই চিরসবুজ মাঠেই রংহীন বাংলাদেশের মেয়েরা। এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটের সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে কোনো বিভাগেই নিজেদের সেরাটা দিতে পারেনি নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। ফলে ১১৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরে গেমসের স্বর্ণজয়ের স্বপ্ন শেষ হয়েছে বাংলাদেশের।

আগামীকাল ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে সারোয়ার ইমরানের দল। এর আগে সর্বশেষ এশিয়ান গেমসেও সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ।

নারী ক্রিকেটে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের লড়াইয়ে যেন বারবার একই গল্প। চলতি মাসে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালেও ভারতের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার এশিয়ান গেমসের শেষ চারেও একই প্রতিপক্ষের কাছে বিদায় নিতে হলো লাল-সবুজের দলকে।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শেফালি ভার্মার দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ৪ উইকেটে ১৯৫ রান সংগ্রহ করে ভারত। এশিয়া কাপের সেমিফাইনালেও বাংলাদেশের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়েছিলেন শেফালি। সেবার তিনবার জীবন পেয়েছিলেন বাংলাদেশের ফিল্ডারদের কাছ থেকে। তবে এবার শুরু থেকেই নিখুঁত ব্যাটিং করে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন তিনি।

পেস কিংবা স্পিন; কোনোটিই শেফালিকে থামাতে পারেনি। ৪৯ বলে ঠিক ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন ভারতীয় ওপেনার। তার ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ৯টি ছক্কা। গ্যালারিতে উপস্থিত কয়েকশ দর্শকের বড় অংশই ছিল ভারত সমর্থক। শেফালি সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো গ্যালারি। বাংলাদেশের হয়ে একটি করে উইকেট নেন মারুফা আক্তার, সানজিদা আক্তার মেঘলা, রাবেয়া খান ও নাহিদা আক্তার।

করোগি স্পোর্টস পার্কের উইকেটটি ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ সহায়ক। আগের সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৭৭ রান করেও হেরেছিল পাকিস্তান। তাই প্রায় ২০০ রানের লক্ষ্য পেলেও ভালো ব্যাটিং করতে পারলে লড়াই জমিয়ে তোলার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে।

কিন্তু শুরু থেকেই সেই সম্ভাবনা নষ্ট করে দেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ভারতের মতো ঝড়ো শুরু করতে পারেননি দুই ওপেনার দিলারা আক্তার ও জুরাইরা ফেরদৌস। রানের খাতা খোলার আগেই নন্দিনী শর্মার বলে আউট হন জুরাইরা। দলীয় ৪ রানেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর সুবহানা মুস্তারিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মাত্র ৪ রান করে ফেরেন সাজঘরে। ৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেই চাপ কাটানোর চেষ্টা করেন দিলারা আক্তার ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। কিন্তু পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে চার মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন নিগার। ৯ বলে ৯ রান করে ফিরতে হয় তাকে।

প্রথম ছয় ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩৯ রান করে বাংলাদেশ। বিপরীতে ভারত পাওয়ার প্লেতে তুলেছিল ৭২ রান। ম্যাচের পার্থক্যটা তখনই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এরপর বাংলাদেশের ইনিংসে কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন দিলারা আক্তার। তবে রানের গতি বাড়াতে গিয়ে দীপ্তি শর্মার বলে আউট হন তিনি। ৪টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ২৩ বলে ২৭ রান করেন দিলারা। ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫৩ রান। একই সময়ে ভারতের স্কোর ছিল ৯৭।

শেষ পর্যন্ত ভারতের স্পিন ও পেস আক্রমণের সামনে ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং। দিলারা, শারমিন আক্তার ও সুলতানা খাতুন ছাড়া কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘর ছুঁতে পারেননি। মাত্র ৮১ রানেই অলআউট হয়ে ১১৪ রানের বড় ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।