ঢাকা ০৬:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হোসেনপুরে রাস্তার ওপর ভবনের ধ্বংসাবশেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কিশোরগঞ্জ
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 19

হোসেনপুরে রাস্তার ওপর ভবনের ধ্বংসাবশেষ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে খাল পুনঃখননের জন্য ভেঙে ফেলা পাকা ভবনের ধ্বংসাবশেষ এক মাসের বেশি সময় ধরে রাস্তার ওপর পড়ে রয়েছে। এতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হলেও ধ্বংসাবশেষ অপসারণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুর থেকে লাখুহাটি হয়ে পানান বিল পর্যন্ত ২ দশমিক ৩৬০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ চলছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বরাদ্দ থেকে ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় ৭০ লাখ ৮৫ হাজার ১৩১ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, গাংগাটিয়া বাজারের ক্ষুদিরাম রবী দাসের বাড়ির পাশে খালের ওপর বেশ কয়েকটি দোকানপাট ছিল। এর মধ্যে কয়েকটি ছিল পাকা ভবন। খাল খননের প্রয়োজনে এসব ভবনের কিছু অংশ ভেঙে ফেলা হয়। তবে ভেঙে ফেলা ভবনের পরিত্যক্ত অংশ এক মাসের বেশি সময় ধরে বাজারের সড়কের ওপর পড়ে রয়েছে। এতে সড়কটি সংকুচিত হয়ে যানবাহন ও মানুষের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।

গত ১৯ এপ্রিল স্থানীয় সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। ৩০ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গাংগাটিয়া বাজার এলাকায় এখনো প্রায় ৩০০ ফুট খননকাজ বাকি রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এদিকে খননকাজের কারণে আব্দুল আজিজ উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা সড়কটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে খালে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভেকু দিয়ে খাল খননের সময় সড়কের পাশে পর্যাপ্ত মাটি না দেওয়ায় ধসের সৃষ্টি হয়েছে।

ডাংরি গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে হৃদয় বলেন, ভেকু দিয়ে খাল খননের সময় রাস্তার পাশে পর্যাপ্ত মাটি ভরাট করা হয়নি। ফলে সড়কটি ধসে খালের দিকে চলে যাচ্ছে।

গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল হক বলেন, ভেঙে ফেলা দোকানের পাকা ভবনের অংশ রাস্তায় পড়ে থাকায় যানবাহন ও পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। দ্রুত এসব ধ্বংসাবশেষ অপসারণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

গাংগাটিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মাসুদ বলেন, রাস্তার ওপর ভবনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যাচ্ছে না। বাজারের ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এগুলো দ্রুত অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।

অটোরিকশাচালক সবুজ মিয়াও একই অভিযোগ করে বলেন, রাস্তার ওপর ভবনের অংশ পড়ে থাকায় যানবাহন নিয়ে চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।

খাল পুনঃখনন প্রকল্পের সভাপতি ও গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা আক্তার বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হোসেনপুরে রাস্তার ওপর ভবনের ধ্বংসাবশেষ

সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে খাল পুনঃখননের জন্য ভেঙে ফেলা পাকা ভবনের ধ্বংসাবশেষ এক মাসের বেশি সময় ধরে রাস্তার ওপর পড়ে রয়েছে। এতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হলেও ধ্বংসাবশেষ অপসারণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুর থেকে লাখুহাটি হয়ে পানান বিল পর্যন্ত ২ দশমিক ৩৬০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ চলছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বরাদ্দ থেকে ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় ৭০ লাখ ৮৫ হাজার ১৩১ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, গাংগাটিয়া বাজারের ক্ষুদিরাম রবী দাসের বাড়ির পাশে খালের ওপর বেশ কয়েকটি দোকানপাট ছিল। এর মধ্যে কয়েকটি ছিল পাকা ভবন। খাল খননের প্রয়োজনে এসব ভবনের কিছু অংশ ভেঙে ফেলা হয়। তবে ভেঙে ফেলা ভবনের পরিত্যক্ত অংশ এক মাসের বেশি সময় ধরে বাজারের সড়কের ওপর পড়ে রয়েছে। এতে সড়কটি সংকুচিত হয়ে যানবাহন ও মানুষের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।

গত ১৯ এপ্রিল স্থানীয় সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। ৩০ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গাংগাটিয়া বাজার এলাকায় এখনো প্রায় ৩০০ ফুট খননকাজ বাকি রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এদিকে খননকাজের কারণে আব্দুল আজিজ উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা সড়কটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে খালে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভেকু দিয়ে খাল খননের সময় সড়কের পাশে পর্যাপ্ত মাটি না দেওয়ায় ধসের সৃষ্টি হয়েছে।

ডাংরি গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে হৃদয় বলেন, ভেকু দিয়ে খাল খননের সময় রাস্তার পাশে পর্যাপ্ত মাটি ভরাট করা হয়নি। ফলে সড়কটি ধসে খালের দিকে চলে যাচ্ছে।

গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল হক বলেন, ভেঙে ফেলা দোকানের পাকা ভবনের অংশ রাস্তায় পড়ে থাকায় যানবাহন ও পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। দ্রুত এসব ধ্বংসাবশেষ অপসারণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

গাংগাটিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মাসুদ বলেন, রাস্তার ওপর ভবনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যাচ্ছে না। বাজারের ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এগুলো দ্রুত অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।

অটোরিকশাচালক সবুজ মিয়াও একই অভিযোগ করে বলেন, রাস্তার ওপর ভবনের অংশ পড়ে থাকায় যানবাহন নিয়ে চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।

খাল পুনঃখনন প্রকল্পের সভাপতি ও গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা আক্তার বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’