শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি সিএসএ নেটওয়ার্কের
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:০৮:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 21
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের ১৩ বছর বয়সী সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক ও উদ্বেগ জানিয়েছে ২৬টি জাতীয় এনজিওর সমন্বয়ে গঠিত শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ (সিএসএ প্রিভেনশন) নেটওয়ার্ক। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে নেটওয়ার্কটি জানায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। পরদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড় এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং তদন্ত চলছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, তদন্ত শেষ হয়ে আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে চূড়ান্তভাবে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়। তবে প্রকৃত অপরাধীরা যাতে কোনোভাবেই আইনের আওতা থেকে বেরিয়ে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
নেটওয়ার্কের মতে, অপ্রতিমের মৃত্যু শুধু তার পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি নয়, বরং দেশে শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ ধরনের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে না দেখে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার বা পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হলেও ২ হাজার ৩৮ জনের এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) জানুয়ারি থেকে আগস্ট ২০২৬ সালের পরিসংখ্যানের কথা উল্লেখ করে নেটওয়ার্কটি আরও জানায়, এ সময়ে শিশুদের বিরুদ্ধে ৭০৯টি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, শারীরিক নির্যাতন, যৌন হয়রানি, অপহরণ ও নিখোঁজের ঘটনা রয়েছে।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল তথ্য, ফরেনসিক আলামতসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রমাণ যথাযথভাবে সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের দাবি জানিয়েছে নেটওয়ার্কটি। একই সঙ্গে তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।
শিশু নিখোঁজের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি বা মামলা গ্রহণের পরপরই তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু এবং পরিবার, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিশু সুরক্ষাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দ্রুত সমন্বয় নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়েছে।
শিশুদের চলাচলের স্থান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পার্ক, পাহাড়ি ও নির্জন এলাকা এবং আবাসিক এলাকায় পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সিসিটিভি, নিরাপদ চলাচল ও জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে শিশু নিখোঁজ, নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা মোকাবিলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং শিশু আইন ২০১৩ ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে নেটওয়ার্কটি জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯ ও ১০৯৮ সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির কথাও বলেছে।
সিএসএ প্রিভেনশন নেটওয়ার্ক বলেছে, প্রতিটি শিশুর নিরাপদে বেঁচে থাকা, চলাফেরা, শিক্ষা গ্রহণ ও বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের অংশীদার রাষ্ট্র হিসেবে এসব অধিকার নিশ্চিত করা বাংলাদেশের দায়িত্ব। কোনো শিশুর নিখোঁজ হওয়া বা সহিংসতার শিকার হওয়াকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত নয়।
অপ্রতিমের মর্মান্তিক মৃত্যু শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে উল্লেখ করে নেটওয়ার্কটি বলেছে, অপ্রতিম হত্যার বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আর কোনো শিশু যেন একই ধরনের ঘটনার শিকার না হয়, সে জন্য রাষ্ট্র ও সমাজকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
































