ঢাকা ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাঘিয়ার বিলে বৈঠার ছন্দে জমজমাট নৌকা বাইচ

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাদারীপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৫১:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 9

বাঘিয়ার বিলে বৈঠার ছন্দে জমজমাট নৌকা বাইচ

জারি-সারি ও লোকসংগীতের সুরের পর শত শত বৈঠার ছন্দে জমে উঠল ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম ইউনিয়নের পাখুল্লা গ্রামের বাঘিয়ার বিলে অনুষ্ঠিত এ নৌকা বাইচ দেখতে নৌকায় চড়ে জড়ো হন হাজারো মানুষ। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো বিল পরিণত হয় উৎসবের মিলনমেলায়।

আয়োজকেরা জানান, গ্রামবাংলার প্রায় চারশ বছরের পুরোনো ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এ আয়োজন। নৌকা বাইচের আগে ভাসমান নৌকায় হারমোনিয়াম, ঢোলসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে লোকসংগীত ও জারি-সারি গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা। গান শেষে বাঘিয়ার বিলে শুরু হয় মূল প্রতিযোগিতা।

প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় ১০টির বেশি নৌকা অংশ নেয়। বৈঠার তালে তালে নৌকাগুলো ছুটে চলার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে দর্শকদের উচ্ছ্বাস। কখনো এক নৌকা অন্যটিকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যায়, আবার কখনো মুহূর্তেই বদলে যায় অবস্থান। দুই পাড়ে এবং আশপাশের নৌকাগুলোতে অবস্থান নেওয়া দর্শকেরা করতালি ও উল্লাসে প্রতিযোগীদের উৎসাহ দেন।

নৌকা বাইচ ঘিরে কৃষক, শ্রমিক, বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। প্রতিযোগিতা দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ বাঘিয়ার বিলে এসে জড়ো হন। নৌকার দৌড় আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকায় তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে ফ্রিজ, পাঁচটি এলইডি টেলিভিশন ও পাঁচটি মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন পুরস্কার দেওয়া হয়।

নৌকা বাইচের উদ্যোক্তা সমির বালা বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নৌকা বাইচে প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি একাধিকবার প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই নিজ এলাকায় প্রতিবছর নৌকা বাইচ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি নিজেও জারি-সারি গানের শিল্পী। তাই অন্য কোথাও এমন আয়োজন না থাকলেও নিজ এলাকায় জারি-সারি ও ভাটিয়ালি গানের মাধ্যমে নৌকা বাইচের উদ্বোধন করা হয়।

আয়োজক কমিটির সভাপতি জৌতিশ হালদার বলেন, নৌকা বাইচ আবহমান বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এমন আয়োজন করা হচ্ছে। এতে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও নৌকা বাইচ ও লোকজ সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, পাখুল্লা-সিরাজকাঠি যুবসমাজের উদ্যোগে গত পাঁচ বছর ধরে এ নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ছোটবেলা থেকেই তাঁর পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে নৌকা বাইচের ঐতিহ্য দেখে আসছেন। প্রায় চারশ বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্য এখন এলাকার যুবসমাজ ধরে রেখেছে। ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা তাঁদের।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বাঘিয়ার বিলে বৈঠার ছন্দে জমজমাট নৌকা বাইচ

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৫১:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জারি-সারি ও লোকসংগীতের সুরের পর শত শত বৈঠার ছন্দে জমে উঠল ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম ইউনিয়নের পাখুল্লা গ্রামের বাঘিয়ার বিলে অনুষ্ঠিত এ নৌকা বাইচ দেখতে নৌকায় চড়ে জড়ো হন হাজারো মানুষ। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো বিল পরিণত হয় উৎসবের মিলনমেলায়।

আয়োজকেরা জানান, গ্রামবাংলার প্রায় চারশ বছরের পুরোনো ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এ আয়োজন। নৌকা বাইচের আগে ভাসমান নৌকায় হারমোনিয়াম, ঢোলসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে লোকসংগীত ও জারি-সারি গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা। গান শেষে বাঘিয়ার বিলে শুরু হয় মূল প্রতিযোগিতা।

প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় ১০টির বেশি নৌকা অংশ নেয়। বৈঠার তালে তালে নৌকাগুলো ছুটে চলার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে দর্শকদের উচ্ছ্বাস। কখনো এক নৌকা অন্যটিকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যায়, আবার কখনো মুহূর্তেই বদলে যায় অবস্থান। দুই পাড়ে এবং আশপাশের নৌকাগুলোতে অবস্থান নেওয়া দর্শকেরা করতালি ও উল্লাসে প্রতিযোগীদের উৎসাহ দেন।

নৌকা বাইচ ঘিরে কৃষক, শ্রমিক, বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। প্রতিযোগিতা দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ বাঘিয়ার বিলে এসে জড়ো হন। নৌকার দৌড় আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকায় তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে ফ্রিজ, পাঁচটি এলইডি টেলিভিশন ও পাঁচটি মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন পুরস্কার দেওয়া হয়।

নৌকা বাইচের উদ্যোক্তা সমির বালা বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নৌকা বাইচে প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি একাধিকবার প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই নিজ এলাকায় প্রতিবছর নৌকা বাইচ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি নিজেও জারি-সারি গানের শিল্পী। তাই অন্য কোথাও এমন আয়োজন না থাকলেও নিজ এলাকায় জারি-সারি ও ভাটিয়ালি গানের মাধ্যমে নৌকা বাইচের উদ্বোধন করা হয়।

আয়োজক কমিটির সভাপতি জৌতিশ হালদার বলেন, নৌকা বাইচ আবহমান বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এমন আয়োজন করা হচ্ছে। এতে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও নৌকা বাইচ ও লোকজ সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, পাখুল্লা-সিরাজকাঠি যুবসমাজের উদ্যোগে গত পাঁচ বছর ধরে এ নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ছোটবেলা থেকেই তাঁর পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে নৌকা বাইচের ঐতিহ্য দেখে আসছেন। প্রায় চারশ বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্য এখন এলাকার যুবসমাজ ধরে রেখেছে। ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা তাঁদের।