জুলাইয়ে রাকিব হত্যা: ৫০ অভিযুক্ত, বাদ ৪৯
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:০০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
- / 34
রাজধানীর মিরপুর-১০ গোলচত্বরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাকিব হোসেন (২৯) নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সঙ্গে মামলার এজাহারে নাম থাকা আরও ৪৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. মমিনুল ইসলাম গত ১৩ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তদন্ত শেষে তিনি জানান, প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি কিংবা ঘটনার সময় তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন না বা অসৎ উদ্দেশ্যে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে, এমন ৪৯ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রভুক্তদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার বিপ্লব কুমার, সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিল, কামাল আহমেদ মজুমদার, ইলিয়াস মোল্লা, এস এম মান্নান কচি, এখলাস উদ্দিন মোল্লা ও সাবেক কাউন্সিলর কাসেম মোল্লাসহ আরও অনেকে।
অন্যদিকে অব্যাহতির সুপারিশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন খান, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক এমপি কামরুল আরেফিন, পাবনা-৪ আসনের সাবেক এমপি গালিবুর রহমান শরিফ, আলোক হেলথকেয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. লোকমান হোসেন এবং ব্যবসায়ী ইলিয়াস আহমেদ তালুকদার।
অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল সংক্রান্ত ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপন ২০২৪ সালের ৫ জুন উচ্চ আদালত অবৈধ ঘোষণা করার পর দেশজুড়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন নতুন গতি পায়। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে তা দমন করতে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তরা গোপন বৈঠকের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার আন্দোলন কঠোরভাবে দমনের পরিকল্পনা করেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তারা আন্দোলন দমনে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এর ফলে আন্দোলন সহিংস রূপ নেয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত চলাকালে নিহত রাকিব হোসেনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিবারের আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই রাতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি মিছিল মিরপুর-১০ গোলচত্বরে পৌঁছালে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে রাকিব হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তৎকালীন পরিস্থিতির কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই রাকিবের মরদেহ ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরে গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর রাকিবের বাবা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক মিরপুর মডেল থানায় শেখ হাসিনাসহ ৯৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বাদী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, তার ছেলে রাকিব হোসেন এমআইএসটি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করে একটি প্রতিষ্ঠানে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বলেন, মামলার অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
























