ঢাকা ১০:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে জাতীয় জনসংলাপ

ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে বেশি ঝুঁকিতে নারী ও শিশু

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:০৪:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 86

ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে বেশি ঝুঁকিতে নারী ও শিশু

বাংলাদেশে প্রতিবছর উৎপাদিত মোট ই-বর্জ্যের মাত্র ১০ শতাংশ আনুষ্ঠানিকভাবে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা হয়। বাকি ৯০ শতাংশ অনানুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থাপিত হওয়ায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে হাত দিয়ে ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে যুক্ত নারী ও শিশুরাই সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ওয়াইডাব্লিউসিএ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে’ শীর্ষক জাতীয় জনসংলাপে বক্তারা এসব তথ্য তুলে ধরেন। অধিকারভিত্তিক সংগঠন ভয়েস-এর উদ্যোগে এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রগ্রেসিভ কমিউনিকেশনস (এপিসি)-এর সহযোগিতায় এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভয়েস-এর উপ-পরিচালক মুশাররাত মাহেরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট পরামর্শক তরিত কান্তি বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ভয়েস-এর নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

স্বাগত বক্তব্যে আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন জাতীয় অগ্রাধিকারের একটি বিষয়। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্যাম্পেইন ও কর্মশালার মাধ্যমে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে হবে, যাতে তারা দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে টেকসই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখতে পারে।

মূল প্রবন্ধে মুশাররাত মাহেরা জানান, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী দেশে প্রতিবছর প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন ই-বর্জ্য উৎপন্ন হয়। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৪৬ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছাতে পারে। তিনি বলেন, ই-বর্জ্যের কারণে মাটিতে শতভাগ সীসা দূষণের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার বলেন, টেকসই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ, অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১ অনুযায়ী ই-বর্জ্য উৎপাদক, সংগ্রহকারী, পরিবহনকারী, পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকারী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতির জন্য দায়ী থাকবে। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও নির্ধারিত সংগ্রহকেন্দ্রে ই-বর্জ্য জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণের সঙ্গে ভবিষ্যতে ই-বর্জ্যের পরিমাণ আরও বাড়বে। তাই নিরাপদ পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা, গবেষণা, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এবং সরকার, শিল্পখাত ও অনানুষ্ঠানিক খাতের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

তরিত কান্তি বিশ্বাস বলেন, শুধু নীতিমালা প্রণয়ন বা সচেতনতামূলক কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। কার্যকর অবকাঠামো, বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করতে পারলেই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় টেকসই পরিবর্তন আনা সম্ভব।

জনসংলাপে অংশগ্রহণকারী বক্তারা ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত জাতীয় নীতির বাস্তবায়ন, শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা, নিরাপদ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সার্কুলার ইকোনমিভিত্তিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ই-বর্জ্যকে পরিবেশের জন্য হুমকি নয়, বরং মূল্যবান সম্পদে পরিণত করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে নাগরিক উদ্যোগ, আরণ্যক ফাউন্ডেশন, ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ, বিভিন্ন রিসাইক্লিং প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে জাতীয় জনসংলাপ

ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে বেশি ঝুঁকিতে নারী ও শিশু

সর্বশেষ আপডেট ০৭:০৪:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে প্রতিবছর উৎপাদিত মোট ই-বর্জ্যের মাত্র ১০ শতাংশ আনুষ্ঠানিকভাবে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা হয়। বাকি ৯০ শতাংশ অনানুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থাপিত হওয়ায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে হাত দিয়ে ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে যুক্ত নারী ও শিশুরাই সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ওয়াইডাব্লিউসিএ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে’ শীর্ষক জাতীয় জনসংলাপে বক্তারা এসব তথ্য তুলে ধরেন। অধিকারভিত্তিক সংগঠন ভয়েস-এর উদ্যোগে এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রগ্রেসিভ কমিউনিকেশনস (এপিসি)-এর সহযোগিতায় এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভয়েস-এর উপ-পরিচালক মুশাররাত মাহেরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট পরামর্শক তরিত কান্তি বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ভয়েস-এর নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

স্বাগত বক্তব্যে আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন জাতীয় অগ্রাধিকারের একটি বিষয়। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্যাম্পেইন ও কর্মশালার মাধ্যমে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে হবে, যাতে তারা দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে টেকসই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখতে পারে।

মূল প্রবন্ধে মুশাররাত মাহেরা জানান, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী দেশে প্রতিবছর প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন ই-বর্জ্য উৎপন্ন হয়। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৪৬ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছাতে পারে। তিনি বলেন, ই-বর্জ্যের কারণে মাটিতে শতভাগ সীসা দূষণের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার বলেন, টেকসই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ, অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১ অনুযায়ী ই-বর্জ্য উৎপাদক, সংগ্রহকারী, পরিবহনকারী, পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকারী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতির জন্য দায়ী থাকবে। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও নির্ধারিত সংগ্রহকেন্দ্রে ই-বর্জ্য জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণের সঙ্গে ভবিষ্যতে ই-বর্জ্যের পরিমাণ আরও বাড়বে। তাই নিরাপদ পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা, গবেষণা, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এবং সরকার, শিল্পখাত ও অনানুষ্ঠানিক খাতের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

তরিত কান্তি বিশ্বাস বলেন, শুধু নীতিমালা প্রণয়ন বা সচেতনতামূলক কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। কার্যকর অবকাঠামো, বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করতে পারলেই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় টেকসই পরিবর্তন আনা সম্ভব।

জনসংলাপে অংশগ্রহণকারী বক্তারা ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত জাতীয় নীতির বাস্তবায়ন, শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা, নিরাপদ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সার্কুলার ইকোনমিভিত্তিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ই-বর্জ্যকে পরিবেশের জন্য হুমকি নয়, বরং মূল্যবান সম্পদে পরিণত করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে নাগরিক উদ্যোগ, আরণ্যক ফাউন্ডেশন, ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ, বিভিন্ন রিসাইক্লিং প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।