ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালীতে যুবদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৩১:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 87

নোয়াখালীতে যুবদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় যুবদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দিনার দোকান এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম।

আহতরা হলেন—সিরাজপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. আনোয়ার, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ওমর ফারুক, যুবদল নেতা শরীফ, ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ওসমান গনি শিহাব, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি এনায়েত উল্লাহ রিফাত এবং শিবিরকর্মী নজরুল ইসলাম তামজিদ। তাদের বসুরহাট বাজারের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগে একটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র বিরোধের জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় শিবিরকর্মী নজরুল ইসলাম তামজিদকে যুবদলের নেতাকর্মীরা আটক করেন। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য রাত সোয়া ৮টার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা মোস্তফা রাজু ভূঁইয়া শিবিরের কয়েকজন নেতাকে ঘটনাস্থলে ডাকেন।

সিরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল হাসেম দাবি করেন, সমাধানের উদ্দেশ্যে ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতা দিনার দোকান এলাকার একটি চায়ের দোকানে গেলে সেখানে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ফারুক ও সিএনজি চালক বেলালের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তবে তিনি চলে যাওয়ার পর রাত পৌনে ১০টার দিকে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

আবুল হাসেম আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি কার্যালয় শুরু থেকেই বন্ধ ছিল এবং বিএনপির লোকজন নিজেরাই কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।

অন্যদিকে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আফতাব আহমেদ বাচ্চু অভিযোগ করেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির বহিরাগত লোকজন এনে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় দিনার দোকান এলাকায় বিএনপির কার্যালয় এবং একটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। তিনি দাবি করেন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ফারুক গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির দুজন আহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নোয়াখালীতে যুবদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর

সর্বশেষ আপডেট ০২:৩১:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় যুবদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দিনার দোকান এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম।

আহতরা হলেন—সিরাজপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. আনোয়ার, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ওমর ফারুক, যুবদল নেতা শরীফ, ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ওসমান গনি শিহাব, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি এনায়েত উল্লাহ রিফাত এবং শিবিরকর্মী নজরুল ইসলাম তামজিদ। তাদের বসুরহাট বাজারের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগে একটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র বিরোধের জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় শিবিরকর্মী নজরুল ইসলাম তামজিদকে যুবদলের নেতাকর্মীরা আটক করেন। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য রাত সোয়া ৮টার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা মোস্তফা রাজু ভূঁইয়া শিবিরের কয়েকজন নেতাকে ঘটনাস্থলে ডাকেন।

সিরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল হাসেম দাবি করেন, সমাধানের উদ্দেশ্যে ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতা দিনার দোকান এলাকার একটি চায়ের দোকানে গেলে সেখানে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ফারুক ও সিএনজি চালক বেলালের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তবে তিনি চলে যাওয়ার পর রাত পৌনে ১০টার দিকে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

আবুল হাসেম আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি কার্যালয় শুরু থেকেই বন্ধ ছিল এবং বিএনপির লোকজন নিজেরাই কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।

অন্যদিকে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আফতাব আহমেদ বাচ্চু অভিযোগ করেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির বহিরাগত লোকজন এনে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় দিনার দোকান এলাকায় বিএনপির কার্যালয় এবং একটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। তিনি দাবি করেন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ফারুক গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির দুজন আহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।