চায়ের দোকানেও সংবিধান নিয়ে আলোচনা হয়: আইনমন্ত্রী
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৪২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 11
বাংলাদেশে সংবিধান নিয়ে শুধু আদালত, সংসদ কিংবা আইনজীবীদের মধ্যেই আলোচনা হয় না, সাধারণ মানুষের মধ্যেও এর চর্চা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় এমনকি চায়ের দোকানেও সংবিধান নিয়ে আলোচনা হয়। এ ধরনের আলোচনা নাগরিকদের নিজেদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধান নিয়ে আইনজীবী ও বিচারকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। চায়ের দোকান পর্যন্ত যে সাংবিধানিক চর্চা রয়েছে, সেটিকে আরও বিস্তৃত করা দরকার। রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হবে এবং নাগরিকদের অধিকার ও দায়িত্ব কী; এসব বিষয়ে মানুষের আলোচনা বাড়লে সাংবিধানিক সচেতনতাও বাড়বে।
সংবিধান নিয়ে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন মত ও চিন্তার মানুষের মধ্যে আলোচনা ও বিতর্কের মধ্য দিয়েই গণতান্ত্রিক চর্চা বিকশিত হয়। সংবিধানের বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
বক্তব্যে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, মৌলিক অধিকার রক্ষায় উচ্চ আদালতের এখতিয়ার দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থার অপব্যবহার বা ভুল প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হয়।
তিনি বলেন, সংবিধান ও আইনের শাসন শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি নাগরিকদেরও নিজেদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। এসব বিষয়ে আলোচনা আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি নয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সম্পন্ন করাই সরকারের লক্ষ্য। এসব অপরাধের বিচারের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত আসতে হবে এবং যেকোনো বিচারে অপরাধ প্রমাণের নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অতীত সরকারের সময়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে আইনমন্ত্রী দাবি করেন, ওই সময়ে কয়েক হাজার মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এবং শত শত মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক হয়রানি ও মামলা নিয়েও বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষায় আইন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আইন সংস্কারের প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, কমিশনকে আরও কার্যকর করতে নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কমিশনের কাঠামো ও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সুশাসনকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনীতি, আইনের শাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার কাজ এগিয়ে নিতে হচ্ছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারও এ প্রক্রিয়ার অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক চর্চার প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন মতপ্রকাশ, সংগঠন এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এসব অধিকার নিশ্চিত করতে সাংবিধানিক সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনও বক্তব্য দেন। তিনি মতপার্থক্যকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে উল্লেখ করে সংবিধান ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস এবং দেশটির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন আয়োজনের কথা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে আলোচনা ও প্যানেল আলোচনা, রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতা এবং আমেরিকান ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম প্রদর্শনী রয়েছে।


































