ঢাকা ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে শিশুকে দুধ খাওয়ানোর সময় চাচিকে কুপিয়ে হত্যা

পুলক রায়, শেরপুর
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:০০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 210

প্রতীকী ছবি

শেরপুর সদর উপজেলার চরসাপমারী গ্রামে কোলে থাকা শিশুকে দুধ খাওয়ানোর সময় রোকেয়া বেগম (৩৬) নামে এক নারীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ভাতিজার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আরিফ হোসেন (২০) নামে ওই যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ভাতশালা ইউনিয়নের চরসাপমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রোকেয়া বেগম তিন সন্তানের জননী। তিনি ওই গ্রামের মওলা মিয়ার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আরিফ সম্পর্কে রোকেয়ার ভাতিজা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে বাড়ির উঠানে একটি চেয়ারে বসে কোলে থাকা শিশুকে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন রোকেয়া। এ সময় তাঁর ভাসুর মওলা মিয়ার ছেলে আরিফ হাতে ধারালো দা নিয়ে সেখানে যান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি রোকেয়ার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ।

পুলিশের ভাষ্য, আরিফ ধারালো দা দিয়ে রোকেয়ার গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি কোপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

হামলার পর রক্তমাখা পোশাক পরেই আরিফ নিজের ঘরে চলে যান। পরে সেখানে গোসল করে আত্মগোপনের চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর পেয়ে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে আরিফের বসতঘরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ তাঁর চাচি রোকেয়া বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘর থেকে তাঁর পরনের রক্তমাখা ফুলপ্যান্ট উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, আরিফ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পারিবারিক বিরোধ কিংবা তুচ্ছ কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা তাঁদের। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শেরপুর সদর থানার ওসি খোকন চন্দ্র ঘোষ বলেন, ঘটনাস্থল থেকে রোকেয়া বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শেরপুরে শিশুকে দুধ খাওয়ানোর সময় চাচিকে কুপিয়ে হত্যা

সর্বশেষ আপডেট ০৮:০০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেরপুর সদর উপজেলার চরসাপমারী গ্রামে কোলে থাকা শিশুকে দুধ খাওয়ানোর সময় রোকেয়া বেগম (৩৬) নামে এক নারীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ভাতিজার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আরিফ হোসেন (২০) নামে ওই যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ভাতশালা ইউনিয়নের চরসাপমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রোকেয়া বেগম তিন সন্তানের জননী। তিনি ওই গ্রামের মওলা মিয়ার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আরিফ সম্পর্কে রোকেয়ার ভাতিজা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে বাড়ির উঠানে একটি চেয়ারে বসে কোলে থাকা শিশুকে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন রোকেয়া। এ সময় তাঁর ভাসুর মওলা মিয়ার ছেলে আরিফ হাতে ধারালো দা নিয়ে সেখানে যান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি রোকেয়ার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ।

পুলিশের ভাষ্য, আরিফ ধারালো দা দিয়ে রোকেয়ার গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি কোপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

হামলার পর রক্তমাখা পোশাক পরেই আরিফ নিজের ঘরে চলে যান। পরে সেখানে গোসল করে আত্মগোপনের চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর পেয়ে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে আরিফের বসতঘরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ তাঁর চাচি রোকেয়া বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘর থেকে তাঁর পরনের রক্তমাখা ফুলপ্যান্ট উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, আরিফ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পারিবারিক বিরোধ কিংবা তুচ্ছ কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা তাঁদের। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শেরপুর সদর থানার ওসি খোকন চন্দ্র ঘোষ বলেন, ঘটনাস্থল থেকে রোকেয়া বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।