ঢাকা ০১:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৫১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 19

৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ৫ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। রাজধানীর সাবেক গণভবন প্রাঙ্গণে নির্মিত এ জাদুঘরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে সকাল ৯টায়।

শনিবার (১ আগস্ট) সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব দীপংকর বিশ্বাস গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, জাদুঘর উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সময় চেয়ে আগেই সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ৫ আগস্ট সকাল ৯টায় উদ্বোধনের সময় নির্ধারণ করেছেন। এর মাধ্যমে বহুল আলোচিত এই জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে। দীর্ঘদিনের নানা অভিযোগ, দমন-পীড়ন ও বাকস্বাধীনতার সংকোচনের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা সেই আন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে। ওই দিনের ঘটনাপ্রবাহে গণভবন ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যেখানে আন্দোলনকারীদের প্রবেশ দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

পরবর্তীতে সেই গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাদুঘরে স্থান পেয়েছে আন্দোলনের আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল-দস্তাবেজ, শহীদ ও আহতদের ব্যবহৃত পোশাক, আন্দোলনের ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, বিভিন্ন স্মারক এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য। পাশাপাশি গত ১৭ বছরের শাসনামলের বিভিন্ন নিদর্শনও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তবে নির্মাণকাজ চলাকালে জাদুঘরটি নিয়ে একাধিকবার বিতর্ক সৃষ্টি হয়। উদ্বোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কয়েক দফা পিছিয়ে যায়। নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল।

সবশেষে বর্তমান সরকার আগামী ৫ আগস্ট জাদুঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্কৃতিমন্ত্রী ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের সভাপতি নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও চেতনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উদ্বোধনের পর থেকেই জাদুঘরটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। দর্শনার্থীদের জন্য গাইডেড ট্যুরের পাশাপাশি গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি এবং অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন

সর্বশেষ আপডেট ১২:৫১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ৫ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। রাজধানীর সাবেক গণভবন প্রাঙ্গণে নির্মিত এ জাদুঘরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে সকাল ৯টায়।

শনিবার (১ আগস্ট) সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব দীপংকর বিশ্বাস গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, জাদুঘর উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সময় চেয়ে আগেই সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ৫ আগস্ট সকাল ৯টায় উদ্বোধনের সময় নির্ধারণ করেছেন। এর মাধ্যমে বহুল আলোচিত এই জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে। দীর্ঘদিনের নানা অভিযোগ, দমন-পীড়ন ও বাকস্বাধীনতার সংকোচনের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা সেই আন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে। ওই দিনের ঘটনাপ্রবাহে গণভবন ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যেখানে আন্দোলনকারীদের প্রবেশ দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

পরবর্তীতে সেই গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাদুঘরে স্থান পেয়েছে আন্দোলনের আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল-দস্তাবেজ, শহীদ ও আহতদের ব্যবহৃত পোশাক, আন্দোলনের ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, বিভিন্ন স্মারক এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য। পাশাপাশি গত ১৭ বছরের শাসনামলের বিভিন্ন নিদর্শনও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তবে নির্মাণকাজ চলাকালে জাদুঘরটি নিয়ে একাধিকবার বিতর্ক সৃষ্টি হয়। উদ্বোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কয়েক দফা পিছিয়ে যায়। নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল।

সবশেষে বর্তমান সরকার আগামী ৫ আগস্ট জাদুঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্কৃতিমন্ত্রী ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের সভাপতি নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও চেতনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উদ্বোধনের পর থেকেই জাদুঘরটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। দর্শনার্থীদের জন্য গাইডেড ট্যুরের পাশাপাশি গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি এবং অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।