ঢাকা ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উদ্বোধনের ১৩ দিনেও ফাঁকা পূর্বাচল বাস ডিপো

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • / 121

উদ্বোধনের ১৩ দিনেও ফাঁকা পূর্বাচল বাস ডিপো

রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে পূর্বাচলে চালু করা হয়েছে অস্থায়ী বাস ডিপো। পরিকল্পনা ছিল, দূরপাল্লার বাসগুলো নির্ধারিত যাত্রার কয়েক ঘণ্টা আগে পূর্বাচল ডিপোতে অবস্থান করবে। পরে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মহাখালী টার্মিনালে গিয়ে যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে রওনা হবে। এতে মহাখালী এলাকায় অপ্রয়োজনীয় বাসের চাপ কমে যানজটও নিয়ন্ত্রণে আসবে।

তবে গত ১৬ জুলাই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের ১৩ দিন পার হলেও সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এখনো দৃশ্যমান হয়নি। অধিকাংশ পরিবহন সংস্থা আগের নিয়মেই বাস পরিচালনা করছে। ফলে মহাখালীর যানজট কমানোর যে লক্ষ্য নিয়ে ডিপো চালু করা হয়েছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি।

বুধবার দুপুরে পূর্বাচল ৩ নম্বর সেক্টরে অস্থায়ী বাস ডিপো ঘুরে দেখা যায়, বিশাল এলাকাজুড়ে তৈরি ডিপো প্রায় ফাঁকাই পড়ে আছে। শতাধিক বাস রাখার সক্ষমতা থাকলেও সেখানে বিভিন্ন পরিবহনের মাত্র ২০টি বাস অবস্থান করছিল। স্থানীয় বাসিন্দা আমানুল্লাহ জানান, এলাকাটি আগে ‘আলামপুর ফকিরপাড়া’ নামে পরিচিত ছিল, যা বর্তমানে পূর্বাচল ৩ নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত।

ডিপোতে বিলাশ পরিবহন, আহনাল পরিবহন, ইকবাল পরিবহন, সাভার পরিবহন লিমিটেড, দিশারী পরিবহন সার্ভিস, সৌখিন সিটিং সার্ভিস, গ্রিন বাংলা এসি সার্ভিস, হাজী ট্রাভেল, পিংকি ও হানিফ পরিবহনের কয়েকটি বাস দেখা গেলেও অধিকাংশ পরিবহন এখনো সেখানে বাস রাখছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্বোধনের পরও সব পরিবহনকে কার্যকরভাবে ডিপো ব্যবহারের আওতায় আনা যায়নি।

কুড়িগ্রাম রুটের পিংকি পরিবহনের চালক আলমগীর জানান, দূরবর্তী জেলার কিছু বাস সকালবেলা ঢাকায় এসে অস্থায়ীভাবে পূর্বাচল ডিপোতে রাখা হচ্ছে। তবে সব বাস সেখানে যায় না। অনেক বাস ট্রিপ শেষ করে অন্যত্র চলে যায়। তিনি বলেন, চার দিন ধরে ডিপোতে অবস্থান করছেন। এখন পর্যন্ত বড় কোনো সমস্যা না হলেও খাবারের সংকট রয়েছে।

আহনাল পরিবহনের সুপারভাইজার বাবুর ভাষ্য, মহাখালী টার্মিনালে সব বাস মালিক সমিতির সদস্য নয়। সমিতির বাইরে থাকা পরিবহনগুলোকে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হয়। এ কারণে কিছু বাস পূর্বাচলে রাখা হচ্ছে।

তবে চালক-শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় ডিপো ব্যবহার করতে অনীহা রয়েছে অনেকের। আশপাশে খাবারের কোনো ব্যবস্থা নেই। কয়েক কিলোমিটার দূরে গিয়ে খেতে হয়। পাশাপাশি মানসম্মত টয়লেট ও বিশ্রামাগারেরও অভাব রয়েছে।

সুনামগঞ্জ রুটের বিলাশ পরিবহনের চালক মেহেদী হাসান বলেন, বাস রাখার জায়গা হলেও খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভালো টয়লেটও নেই।

চালক-শ্রমিকদের জন্য ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগে তাবু, ফ্যান, খাট ও বিছানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের উদ্যোগে সাবমার্সিবল পাম্পের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানিরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে মাঠ এখনো কাঁচা থাকায় বালুর কারণে চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। দিনের বেলায় তাবুর ভেতরে অতিরিক্ত গরমে অবস্থান করাও কষ্টকর হয়ে পড়ে।

ডিপোতে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশের টিএসআই রফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার দুপুর পর্যন্ত আরও ১৪টি বাস ডিপোতে প্রবেশ করেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। রাজউক আশপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দুই-এক দিনের মধ্যেই দুটি রেস্তোরাঁ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মূল সড়ক থেকে ডিপোতে প্রবেশপথের গর্ত ভরাটের কাজও চলছে, যাতে বাস চলাচল সহজ হয়।

রাজউকের পূর্বাচল সেক্টরের দায়িত্বে থাকা আনসারের সহকারী কমান্ডার মো. রুবেল হোসেন জানান, বাস ডিপোতে আনসার সদস্যরা অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী ১০ থেকে ১৬ জন সদস্য পালাক্রমে দায়িত্বে থাকেন। তারা শুধু ডিপো নয়, পুরো পূর্বাচল এলাকার নিরাপত্তা ও টহল কার্যক্রমও পরিচালনা করেন। বর্তমানে পূর্বাচলে আনসারের মোট ৫০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

ডিপোতে বর্তমানে রাজউকের অধীনে ১৫ জন আনসার সদস্য, ট্রাফিক বিভাগের তিনজন এবং পুলিশ লাইনের ১৮ জন সদস্য পালাক্রমে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজউকের পক্ষে মাঠ উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা কনভয় সার্ভিসের প্রকৌশলী সুদীপ্ত সরকার জানান, বর্তমানে ১৫০ ফুট বাই ৬০০ ফুট এলাকা বাস রাখার উপযোগী করা হচ্ছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে এ অংশের কাজ শেষ হবে। প্রায় ১০ একর জায়গাজুড়ে স্থায়ী বাস টার্মিনালে শেড, ওয়েটিং রুম, ক্যান্টিন, ওয়াশরুম, নামাজের স্থান ও আধুনিক বাস ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে সরেজমিন দেখা গেছে, রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে মাঠ উন্নয়নের কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে না ওঠা পর্যন্ত সব পরিবহনকে ডিপো ব্যবহারে উৎসাহিত করা কঠিন হবে।

অন্যদিকে বুধবার মহাখালী বাস টার্মিনালের নাবিস্কো এলাকায় প্রধান সড়কের দুই পাশে শতাধিক বাস পার্কিং করে রাখা দেখা যায়। কয়েকজন চালকের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা মালিক সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

জলসিঁড়ি পরিবহনের হেলপার আরমান এবং অপর চালক জসিম জানান, নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষায় তারা সাময়িকভাবে সড়কে বাস রেখে আছেন। সময় হলেই যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে রওনা হবেন।

ঢাকা জেলা বাস-মিনিবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সহসভাপতি ইউসুফ মির্জা বলেন, বৃষ্টি কমে গেলে আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে ডিপো পুরোপুরি বাস রাখার উপযোগী হয়ে যাবে। তখন সেখানে গাড়ির সংখ্যাও বাড়ানো হবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন গ্যারেজও পূর্বাচলে সরিয়ে নেওয়া হবে। বর্তমানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫টি বাস ডিপোতে যাচ্ছে। তবে খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় চালক-শ্রমিকরা সমস্যায় পড়ছেন। পুলিশ কমিশনার স্বল্পমূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, রাজউক, পুলিশ এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে কাজ এগিয়ে চলছে। আশা করা হচ্ছে, আগস্টের মাঝামাঝি থেকে শেষ নাগাদ অধিকাংশ দূরপাল্লার বাস পূর্বাচল ডিপোতে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে। তখন মহাখালী এলাকায় বাসের চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

উদ্বোধনের ১৩ দিনেও ফাঁকা পূর্বাচল বাস ডিপো

সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে পূর্বাচলে চালু করা হয়েছে অস্থায়ী বাস ডিপো। পরিকল্পনা ছিল, দূরপাল্লার বাসগুলো নির্ধারিত যাত্রার কয়েক ঘণ্টা আগে পূর্বাচল ডিপোতে অবস্থান করবে। পরে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মহাখালী টার্মিনালে গিয়ে যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে রওনা হবে। এতে মহাখালী এলাকায় অপ্রয়োজনীয় বাসের চাপ কমে যানজটও নিয়ন্ত্রণে আসবে।

তবে গত ১৬ জুলাই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের ১৩ দিন পার হলেও সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এখনো দৃশ্যমান হয়নি। অধিকাংশ পরিবহন সংস্থা আগের নিয়মেই বাস পরিচালনা করছে। ফলে মহাখালীর যানজট কমানোর যে লক্ষ্য নিয়ে ডিপো চালু করা হয়েছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি।

বুধবার দুপুরে পূর্বাচল ৩ নম্বর সেক্টরে অস্থায়ী বাস ডিপো ঘুরে দেখা যায়, বিশাল এলাকাজুড়ে তৈরি ডিপো প্রায় ফাঁকাই পড়ে আছে। শতাধিক বাস রাখার সক্ষমতা থাকলেও সেখানে বিভিন্ন পরিবহনের মাত্র ২০টি বাস অবস্থান করছিল। স্থানীয় বাসিন্দা আমানুল্লাহ জানান, এলাকাটি আগে ‘আলামপুর ফকিরপাড়া’ নামে পরিচিত ছিল, যা বর্তমানে পূর্বাচল ৩ নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত।

ডিপোতে বিলাশ পরিবহন, আহনাল পরিবহন, ইকবাল পরিবহন, সাভার পরিবহন লিমিটেড, দিশারী পরিবহন সার্ভিস, সৌখিন সিটিং সার্ভিস, গ্রিন বাংলা এসি সার্ভিস, হাজী ট্রাভেল, পিংকি ও হানিফ পরিবহনের কয়েকটি বাস দেখা গেলেও অধিকাংশ পরিবহন এখনো সেখানে বাস রাখছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্বোধনের পরও সব পরিবহনকে কার্যকরভাবে ডিপো ব্যবহারের আওতায় আনা যায়নি।

কুড়িগ্রাম রুটের পিংকি পরিবহনের চালক আলমগীর জানান, দূরবর্তী জেলার কিছু বাস সকালবেলা ঢাকায় এসে অস্থায়ীভাবে পূর্বাচল ডিপোতে রাখা হচ্ছে। তবে সব বাস সেখানে যায় না। অনেক বাস ট্রিপ শেষ করে অন্যত্র চলে যায়। তিনি বলেন, চার দিন ধরে ডিপোতে অবস্থান করছেন। এখন পর্যন্ত বড় কোনো সমস্যা না হলেও খাবারের সংকট রয়েছে।

আহনাল পরিবহনের সুপারভাইজার বাবুর ভাষ্য, মহাখালী টার্মিনালে সব বাস মালিক সমিতির সদস্য নয়। সমিতির বাইরে থাকা পরিবহনগুলোকে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হয়। এ কারণে কিছু বাস পূর্বাচলে রাখা হচ্ছে।

তবে চালক-শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় ডিপো ব্যবহার করতে অনীহা রয়েছে অনেকের। আশপাশে খাবারের কোনো ব্যবস্থা নেই। কয়েক কিলোমিটার দূরে গিয়ে খেতে হয়। পাশাপাশি মানসম্মত টয়লেট ও বিশ্রামাগারেরও অভাব রয়েছে।

সুনামগঞ্জ রুটের বিলাশ পরিবহনের চালক মেহেদী হাসান বলেন, বাস রাখার জায়গা হলেও খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভালো টয়লেটও নেই।

চালক-শ্রমিকদের জন্য ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগে তাবু, ফ্যান, খাট ও বিছানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের উদ্যোগে সাবমার্সিবল পাম্পের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানিরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে মাঠ এখনো কাঁচা থাকায় বালুর কারণে চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। দিনের বেলায় তাবুর ভেতরে অতিরিক্ত গরমে অবস্থান করাও কষ্টকর হয়ে পড়ে।

ডিপোতে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশের টিএসআই রফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার দুপুর পর্যন্ত আরও ১৪টি বাস ডিপোতে প্রবেশ করেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। রাজউক আশপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দুই-এক দিনের মধ্যেই দুটি রেস্তোরাঁ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মূল সড়ক থেকে ডিপোতে প্রবেশপথের গর্ত ভরাটের কাজও চলছে, যাতে বাস চলাচল সহজ হয়।

রাজউকের পূর্বাচল সেক্টরের দায়িত্বে থাকা আনসারের সহকারী কমান্ডার মো. রুবেল হোসেন জানান, বাস ডিপোতে আনসার সদস্যরা অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী ১০ থেকে ১৬ জন সদস্য পালাক্রমে দায়িত্বে থাকেন। তারা শুধু ডিপো নয়, পুরো পূর্বাচল এলাকার নিরাপত্তা ও টহল কার্যক্রমও পরিচালনা করেন। বর্তমানে পূর্বাচলে আনসারের মোট ৫০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

ডিপোতে বর্তমানে রাজউকের অধীনে ১৫ জন আনসার সদস্য, ট্রাফিক বিভাগের তিনজন এবং পুলিশ লাইনের ১৮ জন সদস্য পালাক্রমে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজউকের পক্ষে মাঠ উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা কনভয় সার্ভিসের প্রকৌশলী সুদীপ্ত সরকার জানান, বর্তমানে ১৫০ ফুট বাই ৬০০ ফুট এলাকা বাস রাখার উপযোগী করা হচ্ছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে এ অংশের কাজ শেষ হবে। প্রায় ১০ একর জায়গাজুড়ে স্থায়ী বাস টার্মিনালে শেড, ওয়েটিং রুম, ক্যান্টিন, ওয়াশরুম, নামাজের স্থান ও আধুনিক বাস ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে সরেজমিন দেখা গেছে, রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে মাঠ উন্নয়নের কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে না ওঠা পর্যন্ত সব পরিবহনকে ডিপো ব্যবহারে উৎসাহিত করা কঠিন হবে।

অন্যদিকে বুধবার মহাখালী বাস টার্মিনালের নাবিস্কো এলাকায় প্রধান সড়কের দুই পাশে শতাধিক বাস পার্কিং করে রাখা দেখা যায়। কয়েকজন চালকের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা মালিক সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

জলসিঁড়ি পরিবহনের হেলপার আরমান এবং অপর চালক জসিম জানান, নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষায় তারা সাময়িকভাবে সড়কে বাস রেখে আছেন। সময় হলেই যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে রওনা হবেন।

ঢাকা জেলা বাস-মিনিবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সহসভাপতি ইউসুফ মির্জা বলেন, বৃষ্টি কমে গেলে আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে ডিপো পুরোপুরি বাস রাখার উপযোগী হয়ে যাবে। তখন সেখানে গাড়ির সংখ্যাও বাড়ানো হবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন গ্যারেজও পূর্বাচলে সরিয়ে নেওয়া হবে। বর্তমানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫টি বাস ডিপোতে যাচ্ছে। তবে খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় চালক-শ্রমিকরা সমস্যায় পড়ছেন। পুলিশ কমিশনার স্বল্পমূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, রাজউক, পুলিশ এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে কাজ এগিয়ে চলছে। আশা করা হচ্ছে, আগস্টের মাঝামাঝি থেকে শেষ নাগাদ অধিকাংশ দূরপাল্লার বাস পূর্বাচল ডিপোতে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে। তখন মহাখালী এলাকায় বাসের চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।