রাষ্ট্রপতির আলোচনায় বিএনপির তিন নেতা
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:০১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
- / 15
রাষ্ট্রপতি পদে নতুন নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, বিএনপির তিন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান এবং দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, শনিবার (১ আগস্ট) দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় আসতে পারে। যদিও এটি বৈঠকের আনুষ্ঠানিক এজেন্ডায় নাও থাকতে পারে। অতীতের মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাবও উঠতে পারে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর সিদ্ধান্তের দায়িত্ব অর্পণের বিষয়টিও বিবেচনায় থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য।
দলীয় সূত্রের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি সাংবিধানিক অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, কূটনৈতিক ভারসাম্য, ব্যক্তিগত সততা ও গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এমন একজনকে মনোনয়নের চিন্তা চলছে, যিনি অভিজ্ঞ, মর্যাদাসম্পন্ন এবং বিতর্কমুক্ত।
এই বিবেচনায় অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খানের নাম আলোচনায় রয়েছে। উচ্চশিক্ষা, নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞানে গবেষণা, আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজের অভিজ্ঞতা এবং বিজ্ঞান, পরিকল্পনা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তার পক্ষে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদের দীর্ঘ সাংবিধানিক ও সংসদীয় অভিজ্ঞতা এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূল থেকে জাতীয় নেতৃত্বে উঠে আসা এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাকে আলোচনায় রেখেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ বর্তমানে শূন্য। তাই এ পদে কে আসতে পারেন, তা নিয়ে আলোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন খান বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন একজনকে নির্বাচন করা উচিত, যার বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য কোনো নেতিবাচক রেকর্ড বা দুর্নীতির অভিযোগ নেই এবং যিনি রাষ্ট্রের স্বার্থে দৃঢ় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে সক্ষম। তার মতে, প্রয়োজনে অবসরপ্রাপ্ত কোনো জ্যেষ্ঠ বিচারপতির মতো অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেও এ পদে বিবেচনা করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দলীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও এমন একজন ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া প্রয়োজন, যার স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে এবং যিনি সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য।




























