রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দিচ্ছে বিএনপি?
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৮:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
- / 16
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে আগামীকাল শনিবার দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা থাকলেও দলটি অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনায় নিয়েই প্রার্থী নির্বাচন করতে চায় বিএনপি।
দলীয় সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে দলীয় অভ্যন্তরে এ বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। ফলে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের আলোচনার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, বিএনপি এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি করতে চায় যিনি রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সক্ষম এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক মর্যাদা রক্ষা এবং সরকার ও রাষ্ট্রের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত দলীয় ফোরামের আলোচনার মাধ্যমেই নেওয়া হবে। সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রেখে দেশের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেই দায়িত্বে দেখতে চায় বিএনপি।
একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দলের নেতাদের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি শুধু আনুষ্ঠানিক পদ নয়; রাজনৈতিক সংকটের সময় এ পদের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। তাই ব্যক্তি নির্বাচনে কোনো ধরনের ভুলের সুযোগ নেই।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নাম রয়েছে। নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ, একজন সাবেক সচিব এবং রাজনীতির বাইরের কয়েকজন ব্যক্তির নাম নিয়েও আলোচনা চলছে।
দলটির নেতারা বলছেন, রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি। এমন কাউকে বেছে নেওয়া হবে, যিনি সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমে অযথা জটিলতা সৃষ্টি করবেন না, আবার একই সঙ্গে বঙ্গভবনের সাংবিধানিক মর্যাদাও সমুন্নত রাখবেন।
বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, রাষ্ট্রপতি এমন একজন হওয়া উচিত যিনি রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারবেন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখবেন। আরেক নেতা বলেন, দলীয় আনুগত্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যোগ্যতা, সততা ও সর্বজনগ্রহণযোগ্যতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, বিএনপির ৩১ দফা বা ঘোষিত জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের যৌথ ভোটের যে প্রস্তাব ছিল, তা এবার কার্যকর হচ্ছে না। ফলে বিদ্যমান সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী সংসদেই নির্বাচন হবে। জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

































