ঢাকা ১১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামে আক্রান্ত সন্তানদের সেবায় মায়ের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫১:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 34

হামে আক্রান্ত সন্তানদের সেবায় মায়ের মৃত্যু

বান্দরবানে হামে আক্রান্ত দুই সন্তানের সেবা করতে গিয়ে নিজেও অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন লেংরুং ম্রো (২৬) নামে এক মা। বর্তমানে তার চার বছর বয়সী মেয়ে দংওয়াই ম্রো বান্দরবান সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে শিশুটি এখনো জানে না, তার মা আর বেঁচে নেই।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে বান্দরবান সদর হাসপাতালের হাম রোগীদের জন্য নির্ধারিত আইসোলেশন ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, দংওয়াই ম্রো চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। তার ভাই কাইনওয়াই ম্রো সুস্থ হওয়ায় শুক্রবার তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

হাসপাতালে শিশুটির পাশে ছিলেন তার চাচা ক্রংতং ম্রো। তিনি জানান, তাদের বাড়ি রুমা উপজেলার দুর্গম গ্যালেঙ্গা ইউনিয়নের চিনিপাড়া গ্রামে। কয়েক সপ্তাহ আগে পরিবারের বড় সন্তান তাইলেং ম্রো হামে আক্রান্ত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে সে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়।

এরপর গত ২৬ জুলাই লেংরুং ম্রো আবারও হামে আক্রান্ত দুই সন্তানকে নিয়ে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। সন্তানদের সার্বক্ষণিক সেবা-যত্ন করতে গিয়ে ২৮ জুলাই তিনিও অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান।

চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে পরিবারের আর্থিক সংকট এবং চিকিৎসা ব্যয়ের আশঙ্কায় তাকে সেখানে নেওয়া হয়নি। পরিবর্তে গ্রামের বাড়িতে কবিরাজি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।

ক্রংতং ম্রো বলেন, তার বড় ভাই ক্রংসং ম্রো অশিক্ষিত এবং বাংলা ভাষায় দক্ষ নন। অর্থের অভাব ও চিকিৎসা ব্যয়ের ভয়ে তিনি স্ত্রীকে চট্টগ্রামে না নিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে নেন। দুই সন্তানকে হাসপাতালে রেখে তাদের দেখাশোনার দায়িত্ব চাচার ওপর দিয়ে যান।

গ্রামে নেওয়ার পর ২৯ জুলাই লেংরুং ম্রোর মৃত্যু হয়। পরদিন পারিবারিকভাবে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সন্তানদের সেবা করতে গিয়েই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এদিকে স্ত্রীর মৃত্যুর পর শিশুদের বাবা ক্রংসং ম্রোও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে শয্যাশায়ী রয়েছেন। ফলে তিন শিশুর দেখভাল ও চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব এখন চাচা ক্রংতং ম্রোর ওপর।

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সম্প্রতি হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, দারিদ্র্য এবং সময়মতো টিকা না পাওয়ায় শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি দেখা দিচ্ছে।

বান্দরবান সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামে আক্রান্ত ২৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ১৫ জন শিশু, ৬ জন নারী এবং ৩ জন পুরুষ। চলতি বছর জেলায় হামে আক্রান্তের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হামে আক্রান্ত সন্তানদের সেবায় মায়ের মৃত্যু

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫১:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

বান্দরবানে হামে আক্রান্ত দুই সন্তানের সেবা করতে গিয়ে নিজেও অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন লেংরুং ম্রো (২৬) নামে এক মা। বর্তমানে তার চার বছর বয়সী মেয়ে দংওয়াই ম্রো বান্দরবান সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে শিশুটি এখনো জানে না, তার মা আর বেঁচে নেই।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে বান্দরবান সদর হাসপাতালের হাম রোগীদের জন্য নির্ধারিত আইসোলেশন ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, দংওয়াই ম্রো চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। তার ভাই কাইনওয়াই ম্রো সুস্থ হওয়ায় শুক্রবার তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

হাসপাতালে শিশুটির পাশে ছিলেন তার চাচা ক্রংতং ম্রো। তিনি জানান, তাদের বাড়ি রুমা উপজেলার দুর্গম গ্যালেঙ্গা ইউনিয়নের চিনিপাড়া গ্রামে। কয়েক সপ্তাহ আগে পরিবারের বড় সন্তান তাইলেং ম্রো হামে আক্রান্ত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে সে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়।

এরপর গত ২৬ জুলাই লেংরুং ম্রো আবারও হামে আক্রান্ত দুই সন্তানকে নিয়ে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। সন্তানদের সার্বক্ষণিক সেবা-যত্ন করতে গিয়ে ২৮ জুলাই তিনিও অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান।

চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে পরিবারের আর্থিক সংকট এবং চিকিৎসা ব্যয়ের আশঙ্কায় তাকে সেখানে নেওয়া হয়নি। পরিবর্তে গ্রামের বাড়িতে কবিরাজি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।

ক্রংতং ম্রো বলেন, তার বড় ভাই ক্রংসং ম্রো অশিক্ষিত এবং বাংলা ভাষায় দক্ষ নন। অর্থের অভাব ও চিকিৎসা ব্যয়ের ভয়ে তিনি স্ত্রীকে চট্টগ্রামে না নিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে নেন। দুই সন্তানকে হাসপাতালে রেখে তাদের দেখাশোনার দায়িত্ব চাচার ওপর দিয়ে যান।

গ্রামে নেওয়ার পর ২৯ জুলাই লেংরুং ম্রোর মৃত্যু হয়। পরদিন পারিবারিকভাবে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সন্তানদের সেবা করতে গিয়েই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এদিকে স্ত্রীর মৃত্যুর পর শিশুদের বাবা ক্রংসং ম্রোও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে শয্যাশায়ী রয়েছেন। ফলে তিন শিশুর দেখভাল ও চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব এখন চাচা ক্রংতং ম্রোর ওপর।

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সম্প্রতি হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, দারিদ্র্য এবং সময়মতো টিকা না পাওয়ায় শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি দেখা দিচ্ছে।

বান্দরবান সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামে আক্রান্ত ২৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ১৫ জন শিশু, ৬ জন নারী এবং ৩ জন পুরুষ। চলতি বছর জেলায় হামে আক্রান্তের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।