ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিখোঁজের ১০ দিন পর পুকুরে মিলল কাস্টমস সদস্যের খণ্ডিত মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 15

নিখোঁজের ১০ দিন পর পুকুরে মিলল কাস্টমস সদস্যের খণ্ডিত মরদেহ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় নিখোঁজের ১০ দিন পর কাস্টমস বিভাগের নিরাপত্তা শাখার সিপাহি রাকিব রায়হান তালুকদারের (৪০) খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার দেহের বিভিন্ন অংশ তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও একটি বস্তায় ভরে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছিল।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামে নিজ বাড়ির পাশের পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত রাকিব রায়হান তালুকদার সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। তিনি ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমস বিভাগের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাকিব প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ছুটিতে বাড়ি আসতেন এবং শনিবার কর্মস্থলে ফিরতেন। গত ২৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না মেলায় ২৭ জুলাই বড় ভাই নুরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান জানান, রোববার দুপুরে স্থানীয়রা পুকুরে একটি সন্দেহজনক বস্তা ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও একটি বস্তা থেকে রাকিবের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের ধারণা, হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে তার ব্যবহৃত ট্রাভেল ব্যাগ ও বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, ঘটনার পর থেকেই রাকিবের বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা নিখোঁজ রয়েছেন। পুলিশ উপজেলার অনন্তপুর বাজুয়া নদী এলাকা থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চাবির রিং উদ্ধার করেছে।

নিহতের স্বজনদের দাবি, পলাতক কেয়ারটেকার রাজু মির্জা টাঙ্গাইলের এক দালালের মাধ্যমে বিদেশে পালানোর চেষ্টা করছেন। তারা দ্রুত তার পাসপোর্ট জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জিডির তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) শুভ্র সাহা জানান, কেয়ারটেকার রাজু মির্জাসহ আরও তিন থেকে চারজন সন্দেহভাজন পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নিখোঁজের ১০ দিন পর পুকুরে মিলল কাস্টমস সদস্যের খণ্ডিত মরদেহ

সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় নিখোঁজের ১০ দিন পর কাস্টমস বিভাগের নিরাপত্তা শাখার সিপাহি রাকিব রায়হান তালুকদারের (৪০) খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার দেহের বিভিন্ন অংশ তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও একটি বস্তায় ভরে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছিল।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামে নিজ বাড়ির পাশের পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত রাকিব রায়হান তালুকদার সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। তিনি ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমস বিভাগের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাকিব প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ছুটিতে বাড়ি আসতেন এবং শনিবার কর্মস্থলে ফিরতেন। গত ২৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না মেলায় ২৭ জুলাই বড় ভাই নুরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান জানান, রোববার দুপুরে স্থানীয়রা পুকুরে একটি সন্দেহজনক বস্তা ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও একটি বস্তা থেকে রাকিবের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের ধারণা, হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে তার ব্যবহৃত ট্রাভেল ব্যাগ ও বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, ঘটনার পর থেকেই রাকিবের বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা নিখোঁজ রয়েছেন। পুলিশ উপজেলার অনন্তপুর বাজুয়া নদী এলাকা থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চাবির রিং উদ্ধার করেছে।

নিহতের স্বজনদের দাবি, পলাতক কেয়ারটেকার রাজু মির্জা টাঙ্গাইলের এক দালালের মাধ্যমে বিদেশে পালানোর চেষ্টা করছেন। তারা দ্রুত তার পাসপোর্ট জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জিডির তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) শুভ্র সাহা জানান, কেয়ারটেকার রাজু মির্জাসহ আরও তিন থেকে চারজন সন্দেহভাজন পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।