খুরশীদ ইরফানের মৃত্যুতে আসকের শোক
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
- / 14
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী এবং শিশু অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত খুরশীদ ইরফান আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
রোববার (২ আগস্ট) এক শোকবার্তায় আসক জানায়, খুরশীদ ইরফান আহমেদের মৃত্যুতে সংগঠনটি একজন দূরদর্শী প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, প্রজ্ঞাবান সহযাত্রী এবং দীর্ঘদিনের শুভানুধ্যায়ীকে হারিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের মানবাধিকার আন্দোলন হারিয়েছে এমন একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠককে, যিনি ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সারাজীবন নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করেছেন।
শোকবার্তায় বলা হয়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই খুরশীদ ইরফান আহমেদ আসকের আদর্শিক ভিত্তি সুদৃঢ় করা, সাংগঠনিক বিকাশ এবং মানবাধিকারভিত্তিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশে নারী ও শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, তাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে তার অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আসক জানায়, তার উদ্যোগেই সংগঠনটির শিশু অধিকার ইউনিট প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে এই ইউনিট শিশু অধিকার সুরক্ষা, নির্যাতনের শিকার শিশুদের সহায়তা এবং শিশুবান্ধব আইন ও নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুবিধাবঞ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে তার দূরদর্শিতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আজও অনুপ্রেরণার উৎস।
এ ছাড়া নির্যাতন, সহিংসতা ও মানসিক আঘাতের শিকার ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য সাইকো-সোশ্যাল কাউন্সেলিং কার্যক্রমের বিকাশ ও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণেও তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। মানবাধিকার সুরক্ষায় আইনি সহায়তার পাশাপাশি মানসিক পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন এবং তা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, খুরশীদ ইরফান আহমেদের প্রজ্ঞা, মানবিকতা, সততা ও মূল্যবোধনিষ্ঠ নেতৃত্ব আসকের পথচলায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তার মৃত্যুতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
আসক মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছে।





































