ই-বর্জ্য আমদানির তথ্য প্রকাশ হয় না, নিরাপত্তা নিয়েও নেই নজরদারি
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৪:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
- / 5
কত শতাংশ ই-বর্জ্য দেশে আমদানি হয় এনবিআরে বছর অনুযায়ী তা প্রকাশ করা হয় না। এমনকি ই-বর্জ্য ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয় না। অন্যদিকে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে এক পাউন্ড মাইক্রো প্লাস্টিক রয়েছে। ই-বর্জে্যর ফলে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতির ধরনগুলো গবেষণায় তুলে ধরা দরকার। এজন্য জাতীয় পর্যায়ে বরাদ্দ, মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার, নিরাপদ রিসাইক্লিং করার দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১ টায় বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে পরিবেশগত সুশাসন ও জবাবদিহিতা জোরদারের লক্ষ্যে রাজধানী ওয়াইডাব্লিউসিএ মিলনায়তনে “বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: বাস্তবতা ও করণীয়” শীর্ষক একটি নীতি-পরামর্শ সংলাপ অনুষ্ঠানে বক্তারা এ দাবি জানিয়েছেন। অধিকারভিত্তিক সংগঠন ভয়েস-এর উদ্যোগে এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রগ্রেসিভ কমিউনিকেশনস (এপিসি)-এর সহায়তায় এই সংলাপের আয়োজন করা হয়।
বক্তারা ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১-এর কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সরকারি সংস্থাগুলোর আরও শক্তিশালী অঙ্গীকার, নিয়মিত তদারকি এবং বিদ্যমান বাস্তবায়ন-ঘাটতি দূরীকরণে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থা, শিল্পখাত, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২১ এর কার্যকারিতার ওপর ভয়েস-এর সাম্প্রতিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন ই-বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার মধ্যে ১০ শতাংশেরও কম আনুষ্ঠানিকভাবে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা হয়। জরিপে অন্তর্ভুক্ত সকল প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরে নিবন্ধিত হলেও গত অর্থবছরে কোনো প্রতিষ্ঠানই ব্যবহারের অযোগ্য পণ্য সংগ্রহ করেনি। এ তথ্যগুলো ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১-এর বাস্তবায়নে বিদ্যমান গুরুতর ঘাটতির চিত্র তুলে ধরে।
ভয়েস এর উপ-পরিচালক মুশাররাত মাহেরা বর্তমান ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২২ সালে সারা বিশ্বে প্রায় ৬২ মিলিয়ন মেট্রিক টন ই-বর্জ্য উৎপন্ন হয়েছে। বাংলাদেশে ই-বর্জ্যের পরিমাণ আনুমানিক ৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন। তিনি আরও জানান, প্রতি বছর ই-বর্জ্য থেকে প্রায় ২০০–২২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পদ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক পরামর্শক তড়িৎ কান্তি বিশ্বাস বলেন, “সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা প্রয়োজন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গবেষণায় শুধু সেকেন্ডারি তথ্যের ওপর নির্ভর না করে প্রাথমিক তথ্যও সুশৃঙ্খলভাবে সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত ও কার্যকর কৌশল প্রণয়ন করতে হবে, যাতে ই-বর্জ্যকে একটি মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর করা যায়।”
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. রওশন মমতাজ বলেন, “সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কৌশলগত ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি, পরিবেশ অধিদপ্তরের অধীনস্থ কমিটিগুলোতে সদস্যদের সক্ষমতা অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টন এবং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে আরও সুফল পাওয়া সম্ভব।”
চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন খান বলেন, “ইলেকট্রনিক পণ্যগুলোকে একটি শক্তিশালী মনিটরিং ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে, যাতে উৎপাদিত ই-বর্জ্যের সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ও বাজারভিত্তিক সমাধান উদ্ভাবনের লক্ষ্যে সার্কুলার ইকোনমিতে বেসরকারি খাতকে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে।”
ভয়েস-এর নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “একটি সরকারি পরিপত্র জারি করে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সুস্পষ্ট কাঠামো প্রতিষ্ঠা এবং ই-বর্জ্যকে কার্যকরভাবে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর নিশ্চিত করতে হবে।”
সভায় নাগরিক উদ্যোগ, আরণ্যক ফাউন্ডেশন, ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন রিসাইক্লিং কোম্পানি ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।





































