ঢাকা ০৮:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাল্যবিয়ে ঠেকাতে একসঙ্গে কাজের অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৬:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • / 7

কুড়িগ্রামে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, কিশোরী, কিশোর ও যুবদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন বক্তারা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ) প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের আয়োজনে কুড়িগ্রামে ‘চাইল্ড, নট ব্রাইড (সিএনবি)’ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এ অঙ্গীকার করেন । বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং কিশোরী, কিশোর ও যুবদের ক্ষমতায়নে চার বছরের অর্জন উদযাপন করতে এ মন্তব্য করা হয়।

নরওয়েজিয়ান স্টেট ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (এনআরকে টেলিথন)-এর অর্থায়নে এবং আরডিআরএস বাংলাদেশ ও এমজেএসকেএস-এর সহযোগিতায় কুড়িগ্রামের নয়টি উপজেলার ৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় কিশোরী, কিশোর ও যুবদের নেতৃত্ব বিকাশ, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং স্বাস্থ্য ও অধিকার বিষয়ে তথ্য ও সেবার সুযোগ বাড়াতে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. নজির হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুড়িগ্রামের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুর রশিদ, কুড়িগ্রামের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক জয়ন্তী রাণী, আরডিআরএস বাংলাদেশের টিম লিডার (সামাজিক উন্নয়ন) রাশেদুল আরেফিন, এমজেএসকেএস, কুড়িগ্রামের নির্বাহী পরিচালক শ্যামল চন্দ্র সরকার এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের এসআরএইচআর উপদেষ্টা সৈয়দ নূরউদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাইল্ড, নট ব্রাইড প্রজেক্টের ম্যানেজার ম্যাথিল্ডা মেন্ডেস।

 

মো. নজির হোসেন বলেন, “আজকের এই অর্জন প্রমাণ করে যে সরকার, কমিউনিটি, উন্নয়ন সহযোগী এবং যুবরা একসঙ্গে কাজ করলে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। ‘চাইল্ড, নট ব্রাইড’ প্রকল্পের মাধ্যমে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা ধরে রাখতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে হবে, যাতে প্রতিটি কিশোরী বাল্যবিয়ে থেকে মুক্ত থেকে শিক্ষা গ্রহণ এবং নিজের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পায়।”

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রকল্পের বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরা হয় এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে যুব নারী, কিশোর ও যুবদের নেতৃত্ব, স্থানীয় অংশীজনদের ভূমিকা এবং কমিউনিটির যৌথ উদ্যোগকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রকল্প থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতে এই উদ্যোগগুলো কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে যুব প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং কীভাবে তারা নিজেদের কমিউনিটিতে পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন।

চার বছরে প্রকল্পের মাধ্যমে ৭৬টি যুব সংগঠনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭৩টি সংগঠন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে নিবন্ধিত হয়েছে। এসব সংগঠন এখন বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ফ্লেক্স ফান্ড-এর সহায়তায় যুবদের নেতৃত্বে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে এবং তারা চাইল্ড ম্যারেজ প্রিভেনশন কমিটি (সিএমপিসি)-এর কার্যক্রমেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে।

এ ছাড়া ১৫২টি ইয়ুথ ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট (ওয়াইইই) গ্রুপের মাধ্যমে ৩,৬৭৫ জন যুব আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছেন।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (বিটিইবি)-এর সহযোগিতায় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নতুন নতুন বিষয়ে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ চালু করা হয়েছে, যা যুবদের ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করছে।প্রকল্পের আওতায় ৫৮টি অ্যাডোলেসেন্ট সেফ স্পেস গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে হাজারো কিশোরী ও কিশোর স্বাস্থ্য ও অধিকার, নেতৃত্ব এবং জীবনদক্ষতা বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পেয়েছে।

পাশাপাশি ‘গার্লস আউট লাউড’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং পিয়ার এডুকেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা নিজেদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বাল্যবিয়ে ঠেকাতে একসঙ্গে কাজের অঙ্গীকার

সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৬:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

কুড়িগ্রামে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, কিশোরী, কিশোর ও যুবদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন বক্তারা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ) প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের আয়োজনে কুড়িগ্রামে ‘চাইল্ড, নট ব্রাইড (সিএনবি)’ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এ অঙ্গীকার করেন । বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং কিশোরী, কিশোর ও যুবদের ক্ষমতায়নে চার বছরের অর্জন উদযাপন করতে এ মন্তব্য করা হয়।

নরওয়েজিয়ান স্টেট ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (এনআরকে টেলিথন)-এর অর্থায়নে এবং আরডিআরএস বাংলাদেশ ও এমজেএসকেএস-এর সহযোগিতায় কুড়িগ্রামের নয়টি উপজেলার ৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় কিশোরী, কিশোর ও যুবদের নেতৃত্ব বিকাশ, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং স্বাস্থ্য ও অধিকার বিষয়ে তথ্য ও সেবার সুযোগ বাড়াতে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. নজির হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুড়িগ্রামের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুর রশিদ, কুড়িগ্রামের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক জয়ন্তী রাণী, আরডিআরএস বাংলাদেশের টিম লিডার (সামাজিক উন্নয়ন) রাশেদুল আরেফিন, এমজেএসকেএস, কুড়িগ্রামের নির্বাহী পরিচালক শ্যামল চন্দ্র সরকার এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের এসআরএইচআর উপদেষ্টা সৈয়দ নূরউদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাইল্ড, নট ব্রাইড প্রজেক্টের ম্যানেজার ম্যাথিল্ডা মেন্ডেস।

 

মো. নজির হোসেন বলেন, “আজকের এই অর্জন প্রমাণ করে যে সরকার, কমিউনিটি, উন্নয়ন সহযোগী এবং যুবরা একসঙ্গে কাজ করলে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। ‘চাইল্ড, নট ব্রাইড’ প্রকল্পের মাধ্যমে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা ধরে রাখতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে হবে, যাতে প্রতিটি কিশোরী বাল্যবিয়ে থেকে মুক্ত থেকে শিক্ষা গ্রহণ এবং নিজের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পায়।”

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রকল্পের বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরা হয় এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে যুব নারী, কিশোর ও যুবদের নেতৃত্ব, স্থানীয় অংশীজনদের ভূমিকা এবং কমিউনিটির যৌথ উদ্যোগকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রকল্প থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতে এই উদ্যোগগুলো কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে যুব প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং কীভাবে তারা নিজেদের কমিউনিটিতে পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন।

চার বছরে প্রকল্পের মাধ্যমে ৭৬টি যুব সংগঠনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭৩টি সংগঠন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে নিবন্ধিত হয়েছে। এসব সংগঠন এখন বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ফ্লেক্স ফান্ড-এর সহায়তায় যুবদের নেতৃত্বে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে এবং তারা চাইল্ড ম্যারেজ প্রিভেনশন কমিটি (সিএমপিসি)-এর কার্যক্রমেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে।

এ ছাড়া ১৫২টি ইয়ুথ ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট (ওয়াইইই) গ্রুপের মাধ্যমে ৩,৬৭৫ জন যুব আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছেন।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (বিটিইবি)-এর সহযোগিতায় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নতুন নতুন বিষয়ে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ চালু করা হয়েছে, যা যুবদের ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করছে।প্রকল্পের আওতায় ৫৮টি অ্যাডোলেসেন্ট সেফ স্পেস গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে হাজারো কিশোরী ও কিশোর স্বাস্থ্য ও অধিকার, নেতৃত্ব এবং জীবনদক্ষতা বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পেয়েছে।

পাশাপাশি ‘গার্লস আউট লাউড’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং পিয়ার এডুকেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা নিজেদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে।