গৃহকর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৭:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
- / 24
গৃহকর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে, নীতিমালা বাস্তবায়নে সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আমরাই পারি জোট, নারী মৈত্রী ও সহায়ের যৌথ আয়োজনে ‘গৃহকর্মী বিষয়ক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা’য় বক্তারা এ দাবি জানান।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ও ক্রিশ্চিয়ান এইডের সহযোগিতায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চিলেকোঠায় এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আমরাই পারি জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হকের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন অক্সফামের প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর তারেক আজিজ, নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলি, সবুজের অভিযানের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা বেগম, বিলসের চৌধুরী বোরহানউদ্দীন, ক্যাম্পের প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর মো. তাইজুল ইসলাম প্রমুখ। গৃহকর্মীদের মধ্যে অংশ নেন ‘গৃহকর্মী জাতীয় ফোরামে’র সভাপতি গৃহকর্মী জাকিয়া সুলতানা, নারী মৈত্রীর গৃহকর্মীদের দলনেত্রী আঁখি, মোহাম্মদপুরের গৃহকর্মী সংগঠনের প্রচার সম্পাদিকা তানিয়া, খিলগাঁও বিলস নেটওয়ার্কের গৃহকর্মী সায়রা খাতুন, কামরাঙ্গীচরের গৃহকর্মী জোসনা, মোশেদা প্রমুখ।
জিনাত আরা হকের মতে, বাংলাদেশে গৃহকর্মীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি, ২০১৫’ প্রণয়ন করেছে রয়েছে, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। গৃহকর্মীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি পাওয়া তাদের অধিকার। কিন্তু যদি আমরা নিজেদের গৃহকর্মীদের কথা ভাবি, মাতৃত্বকালীন ভাতা হিসেবে তাকে ছয় মাসের বেতন দিতে পারলেও ছুটি দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ আমার কাজটা কে করবে।
তিনি আরো বলেন, একজন গৃহকর্মীকে শ্রমিকের মর্যাদা দিলেও, আমার নিজের কি তার মালিক হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে! এটাও ভাবতে হবে। এখানেও আমাদের কাজ করার রয়েছে।
তারেক আজিজ বলেন, গৃহকর্মীদের আমরা সম্মানের সাথে সম্বোধন করি কিনা সেটাও বিবেচনা করার বিষয়। কেয়ারটেকারকে সম্মান করা দরকার। কারণ এই কাজটি আমার মা বা স্ত্রী বা আমি করলে সেখানে সম্মানের ঘাটতি হয় না। যখন এই কাজটি গৃহকর্মী করেন তখন তাকে সম্মান করা হয় না। শ্রম আইনের সংশোধনে ‘গৃহপরিচারক’ উল্লেখ করা হয়েছে। এটি কোন বাংলা অভিধানে রয়েছে তা আমি খুঁজে পাইনি। এখানে ‘গৃহপরিচারিকা’ শব্দটি কী ব্যবহার করা যেতো না! এই শব্দচয়ন নিয়ে কেউ কথা বলে না জানালেন তিনি।
শাহীন আকতার ডলি জানান, গৃহকর্তাদের অভিযোগ ছিল , গৃহকর্মীরা কাজ জানেন না। এজন্য গৃহকর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের প্রতি জোর দিই। তাদের ওয়াশিং মেশিন, ওভেন, ব্ল্যান্ডার ইত্যাদি চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শিক্ষা না থাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনে তাদের অনীহা দেখা গেছে।
তিনি বলেন, তাদের মধ্যে একটা বিশ্বাস কাজ করে, গৃহকর্মী হিসেবে তাদের যে কেউ কাজে নিবে। তাদের কোনো প্রশিক্ষণ, দক্ষতা না থাকার পরও গৃহকর্তা বা গৃহকর্ত্রী তার প্রয়োজনে তাকে কাজে নিচ্ছে। সেখানে তাদেরও দায়িত্ব থাকে কাজগুলো শেখানোর পাশাপাশি আচরণ শেখানোতেও গুরুত্ব দেওয়া।
মাহমুদা বেগমের মতে, সরকারি কলোনিতে গৃহকর্মী, শিশু গৃহকর্মীদের এডুকেশন প্রোগামের মাধ্যমে তাদের সমস্যাগুলো জানার চেষ্টা করেছি। তারা জানিয়েছে, কাজ না জানায় বকা খায়। এরপরেই তাদের কাজের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
গৃহকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেছেন বক্তারা। গৃহকর্মীদের শিশুদের জীবনমান উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, জাতীয়ভাবে গৃহকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, মডিউল তৈরি, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল কাযকর, গৃহশ্রমিকদের শ্রম আইনে যুক্ত করা, নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ, স্থানীয়ভাবে গৃহশ্রমিকদের কাউন্সিলিং করা ইত্যাদি।
জাকিয়া সুলতানা বলেন, আট বছর ধরে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছি। সুনীতি প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক কিছু শিখেছি, জানতে পেরেছি। মানুষ এবং শ্রমিক হিসেবে আমাদেরও কিছু অধিকার রয়েছে। যা আমি আগে জানতাম না। নিয়োগকারী, গৃহকর্মী উভয়ের অধিকার রক্ষায় কাজ করছে এই ফোরাম।

































