শ্রম বিধিমালা সংশোধনের দাবি ব্লাস্টের
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:২২:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
- / 126
বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫-এর জরুরি সংশোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশে শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ, অধিকার সুরক্ষা, মর্যাদাপূর্ণ ও বৈষম্যমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে ব্লাস্ট।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানিয়েছে ব্লাস্ট।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্লাস্ট আশা করে, শ্রম বিধিমালা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় এসব সুপারিশ যথাযথভাবে বিবেচিত হলে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি পাবে এবং শ্রম বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আরও কার্যকর, সহজলভ্য ও শ্রমিকবান্ধব হয়ে উঠবে।
সুপারিশমালা প্রস্তুতের সময় বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (সর্বশেষ সংশোধনী, ২০২৬), আন্তর্জাতিক শ্রমমান এবং শ্রমিকদের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
ব্লাস্টের সুপারিশমালায় কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধ এবং শ্রম আদালতে ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে— কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ কর্মপদ্ধতি অনুসরণ, নিয়মিত ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সকল শ্রমিকের জন্য বাধ্যতামূলক পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের বিধান সংযোজনের জন্য ব্লাস্ট সুপারিশ করেছে।
একই সঙ্গে কর্মস্থলে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বা আহত হওয়ার ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী গঠিত ক্ষতিপূরণ তহবিলকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিধান, দায়িত্ব নির্ধারণ এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিধিমালায় স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
ব্লাস্ট বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর সর্বশেষ সংশোধনীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ অন্তর্ভুক্ত করাকে স্বাগত জানায়। তবে, বর্তমান বাস্তবতায় কর্মক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল ও প্রযুক্তিনির্ভর (সাইবার) হয়রানির ঝুঁকি বিবেচনায় যৌন হয়রানির সংজ্ঞায় সাইবার হয়রানিকে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে।
পাশাপাশি, কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা, হয়রানি ও বৈষম্যসংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত এবং নিষ্পত্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়া নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
ব্লাস্টের পরিচালক (আইন) মোঃ বরকত আলী বলেন, “বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর সর্বশেষ সংশোধনীর কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য শ্রম বিধিমালা এর প্রয়োজনীয় সংশোধন জরুরি। গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালা, ২০১৫-এ স্বীকৃত অধিকারগুলো শ্রম বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
যৌন হয়রানির সংজ্ঞায় সাইবার হয়রানিকে অন্তর্ভুক্ত করা, কর্মস্থলে দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ তহবিলের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং শ্রম আদালতে প্যারালিগ্যাল সেবা চালুর মতো উদ্যোগ শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা ও ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার আরও শক্তিশালী করবে”।
শ্রমিকদের জন্য আইনগত সহায়তা, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করতে ব্লাস্ট শ্রম আদালতে প্যারালিগ্যাল সেবা চালুর সুপারিশ করেছে।
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (সর্বশেষ সংশোধনী, ২০২৬)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ সংশোধনের লক্ষ্যে প্রণীত সুপারিশমালা ২২ জুলাই ২০২৬ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে এবং বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সংশ্লিষ্ট কমিটিকে হস্তান্তর করেছে ব্লাস্ট।



































