ঢাকা ১০:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলোচনায় না এলেই থমকে যায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্ত

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • / 114

ধর্ষণ ও হত্যা

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মাত্র চার কার্যদিবসে বিচার শেষ করে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কিন্তু এর ঠিক উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে দেশের বেশির ভাগ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ক্ষেত্রে, যা মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর ধরে কেবল তদন্ত পর্যায়েই আটকে আছে। আইনে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব ঘটনা গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে কিংবা মানবাধিকার সংগঠনগুলো সোচ্চার হয়, সেগুলোর তদন্ত দ্রুত এগোয়; কিন্তু আলোচনার বাইরে থাকা অধিকাংশ মামলার তদন্তে কোনো গতি থাকে না।

পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গত মার্চ থেকে মে পর্যন্ত তিন মাসে সারা দেশে ৫ হাজার ৪৪৮টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ঢাকা মহানগরের থানাগুলোতেই হয়েছে ৪১৩টি মামলা। ঢাকার আদালত সূত্র জানায়, এই ৪১৩টি মামলার মধ্যে গত ৩ মাসে মাত্র ৬৫টির অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে পুলিশ এবং ঘটনার সত্যতা না পাওয়ায় ১০টি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। বাকি সব মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে ডিএমপির ৫০টি থানায় শুধু ধর্ষণের অভিযোগে ১৭৮টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ১১৫টি নারী ধর্ষণ ও ৬৩টি শিশু ধর্ষণের মামলা।

তদন্তের দীর্ঘসূত্রতার মূল কারণসমূহ:

  • মেডিক্যাল ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পেতে বিলম্ব: তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অধিকাংশ মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ার প্রধান কারণ হলো মেডিক্যাল প্রতিবেদন সময়মতো না পাওয়া, যা পেতে অনেক সময় এক বছরও পার হয়ে যায়।
  • ডিএনএ টেস্টের জটিলতা: ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, ডিএনএ টেস্ট ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বেশি সময় লেগে যায়, যার ফলে নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ না হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে সময় বাড়িয়ে নিতে হয়।
  • আসামি গ্রেপ্তারে ব্যর্থতা: অনেক ক্ষেত্রে আসামিরা পলাতক থাকায় এবং তাদের শনাক্ত করতে না পারায় তদন্তের কোনো অগ্রগতি হয় না।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২৬) অনুযায়ী, আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার মাগুরার একটি ঘটনার পর আইনে কিছু উল্লেখযোগ্য সংশোধন আনে, যেখানে আদালত চাইলে ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়াই শুধু মেডিক্যাল সনদ দিয়ে বিচারকাজ পরিচালনার অনুমতি দিতে পারেন।

দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিতের বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ ফউজুল আজিম বলেন:

আসামি ধরা পড়লে ১৫ দিন এবং ধরা না পড়লে ৩০ দিনের মধ্যে ধর্ষণ মামলার তদন্ত শেষ করতে হবে। তদন্তকারী কর্মকর্তাকে শুধু ধর্ষণের মামলার দায়িত্ব দিতে হবে এবং স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা ও ফরেনসিক প্রতিবেদন তৈরির জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আলোচনায় না এলেই থমকে যায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্ত

সর্বশেষ আপডেট ১১:০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মাত্র চার কার্যদিবসে বিচার শেষ করে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কিন্তু এর ঠিক উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে দেশের বেশির ভাগ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ক্ষেত্রে, যা মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর ধরে কেবল তদন্ত পর্যায়েই আটকে আছে। আইনে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব ঘটনা গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে কিংবা মানবাধিকার সংগঠনগুলো সোচ্চার হয়, সেগুলোর তদন্ত দ্রুত এগোয়; কিন্তু আলোচনার বাইরে থাকা অধিকাংশ মামলার তদন্তে কোনো গতি থাকে না।

পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গত মার্চ থেকে মে পর্যন্ত তিন মাসে সারা দেশে ৫ হাজার ৪৪৮টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ঢাকা মহানগরের থানাগুলোতেই হয়েছে ৪১৩টি মামলা। ঢাকার আদালত সূত্র জানায়, এই ৪১৩টি মামলার মধ্যে গত ৩ মাসে মাত্র ৬৫টির অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে পুলিশ এবং ঘটনার সত্যতা না পাওয়ায় ১০টি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। বাকি সব মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে ডিএমপির ৫০টি থানায় শুধু ধর্ষণের অভিযোগে ১৭৮টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ১১৫টি নারী ধর্ষণ ও ৬৩টি শিশু ধর্ষণের মামলা।

তদন্তের দীর্ঘসূত্রতার মূল কারণসমূহ:

  • মেডিক্যাল ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পেতে বিলম্ব: তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অধিকাংশ মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ার প্রধান কারণ হলো মেডিক্যাল প্রতিবেদন সময়মতো না পাওয়া, যা পেতে অনেক সময় এক বছরও পার হয়ে যায়।
  • ডিএনএ টেস্টের জটিলতা: ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, ডিএনএ টেস্ট ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বেশি সময় লেগে যায়, যার ফলে নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ না হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে সময় বাড়িয়ে নিতে হয়।
  • আসামি গ্রেপ্তারে ব্যর্থতা: অনেক ক্ষেত্রে আসামিরা পলাতক থাকায় এবং তাদের শনাক্ত করতে না পারায় তদন্তের কোনো অগ্রগতি হয় না।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২৬) অনুযায়ী, আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার মাগুরার একটি ঘটনার পর আইনে কিছু উল্লেখযোগ্য সংশোধন আনে, যেখানে আদালত চাইলে ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়াই শুধু মেডিক্যাল সনদ দিয়ে বিচারকাজ পরিচালনার অনুমতি দিতে পারেন।

দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিতের বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ ফউজুল আজিম বলেন:

আসামি ধরা পড়লে ১৫ দিন এবং ধরা না পড়লে ৩০ দিনের মধ্যে ধর্ষণ মামলার তদন্ত শেষ করতে হবে। তদন্তকারী কর্মকর্তাকে শুধু ধর্ষণের মামলার দায়িত্ব দিতে হবে এবং স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা ও ফরেনসিক প্রতিবেদন তৈরির জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি।