জবিতে ছাত্রদলের সংঘর্ষ, সদস্য সচিব ক্যাম্পাসছাড়া
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 8
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামছুল আরেফিন ও তার অনুসারীরা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যান বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে শাখা ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভিক্টোরিয়া পার্কের গেটসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক অনিকের অনুসারীদের ওপর রড নিয়ে হামলা করা হয়। পরে পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটলে শামছুল আরেফিনসহ তার অনুসারীরা ক্যাম্পাসের দিকে চলে যান।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন অর্থনীতি বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মাদুদ, ইংরেজি বিভাগের আব্দুল্লাহ শেখ আসিফ, কনকুলেশন বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমন ও প্রান্ত এবং বাংলা বিভাগের ১৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ইমরান হাসান ইমন।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামছুল আরেফিনের আয়োজিত একটি পাঠচক্রকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক ভবনের তৃতীয় তলায় ‘শিক্ষা ভাবনা, ওরিয়েন্টালিজম এবং চিন্তার মৌলিকত্ব’ শীর্ষক পাঠচক্রের আয়োজন করেন শামছুল আরেফিন।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনামূলক একটি পোস্ট দেন যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক অনিক। পোস্টে তিনি শামছুল আরেফিন ও তার অনুসারীদের নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন এবং সতর্কবার্তাও দেন।
সংঘর্ষের বিষয়ে নাহিয়ান বিন হক অনিক বলেন, ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় তাদের ওপর প্রথমে হামলা করা হয়। পরে আত্মরক্ষার্থে তারা পাল্টা ধাওয়া দেন। একপর্যায়ে শামছুল আরেফিনসহ তার অনুসারীরা ক্যাম্পাসের দিকে চলে যান।
তিনি দাবি করেন, তারা সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন না। ভিক্টোরিয়া পার্কের গেটসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় তাদের ওপর রড নিয়ে হামলা করা হয়। এতে অর্থনীতি বিভাগের ২১তম আবর্তনের এক শিক্ষার্থীর হাত ভেঙে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নাহিয়ান আরও অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের আগে ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। হামলাকারীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী নন, এমন ব্যক্তিরাও ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতিকেও দায়ী করেন নাহিয়ান। তার দাবি, আগেই হুমকির বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। এরপরও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
তবে সংঘর্ষের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামছুল আরেফিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম আজম বলেন, নাহিয়ান বিন হক অনিক এসে অভিযোগ দিয়ে গেছেন। বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।































